স্টিলের বাসন কেনার আগে কোন মান যাচাই করা জরুরি? ছবি:সংগৃহীত।
প্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর নয়। কাচের বাসনের মতো হাত থেকে পড়ে গেলেও ভাঙার ভয় নেই। আয়ুও নেহাত কম নয়। তাই ভারতের নানা প্রান্তেই স্টিলের বাসনের কদর। অতিথি আপ্যায়নে বোন চায়না, কাচের শৌখিন থালা-বাটি ব্যবহার হলেও, রোজের খাওয়াও বেশির ভাগ বাড়িতেই স্টিলের থালা, বাটি, গ্লাসই চলে। বহু পরিবারে রান্নাতেও স্টিলের হাঁড়ি, কড়াই, খুন্তি ব্যবহার হয়।
কিন্তু স্টিল মানেই কি নিরাপদ? স্টিলের মান রয়েছে। যে কোনও স্টিলের বাসন কিন্তু রান্না এবং খাওয়ার উপযোগী নয়। স্টিল মূলত লোহা এবং কার্বনের মিশেলে তৈরি হলেও স্টেনলেস স্টিলে নিকেল, ক্রোমিয়াম-সহ বেশ কিছু ধাতু ব্যবহৃত হয়। স্থায়িত্বের বিচারেও এগিয়ে স্টেনলেস স্টিল। এতে চট করে মরচে পড়ে না।
তবে স্টিলের বোতল হোক বা টিফিন কৌটো, স্টিলের মান অনুযায়ী নির্ধারিত হয় কোনটিতে কী খাবার রাখা যায়। হরমোন এবং ওজন কমানো নিয়ে দীর্ঘ দিন কাজ করছেন লিমা মহাজন। গুরুগ্রামের পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন এসএস৩০৪ মানের যে স্টিলটি পাওয়া যায়, সেটি জলের বোতলের জন্য ভাল। কারণ, বোতলে জল দীর্ঘ সময় ধরে থাকে। অনেকে এতে ঘোল, ফলের রস এমনকী চা-ও রাখেন। এসএস২০৪ মানের যে স্টিল মেলে, তাতে শুকনো খাবার রাখা চলে। এই ধরনের স্টিলের জিনিসে দীর্ঘ সময় ধরে জল বা তরল রাখলে সমস্যা হতে পারে।
এসএস৩১৬ : অত্যন্ত ভাল মানের স্টিল। ১৮ শতাংশ ক্রোমিয়াম এবং ১০ শতাংশের বেশি নিকেল থাকে এতে। লেবু বা অ্যাসিড জাতীয় খাবারের সঙ্গেও সাধারণত এই মানের স্টিল সহজে বিক্রিয়া করে না। ফলে এটি অনেক বেশি নিরাপদ। টেঁকসই। সহজে এতে মরচেও পড়ে না।
এসএস৩০৪: এই স্টিলের মানও ভাল। ক্রোমিয়াম এবং নিকেল থাকে ১৮ এবং ৮ শতাংশ। এই ধরনের বাসনের ব্যবহার যথেষ্ট। হাসপাতালের বাসনপত্র সাধারণত এই মানের ব্যবহার করা হয়। বাড়িতেও এই স্টিল বাসন হিসাবে কেনা যেতে পারে।
এসএস৪৩০: দামে অপেক্ষাকৃত সস্তা, অন্য দুই ধরনের স্টিলের চেয়ে কিছুটা নিম্নমানের। এতে ক্রোমিয়াম থাকে ১৮ শতাংশ। নিকেল থাকে না বলে দামও কম হয়।
ভাল স্টিলের বাসনে, তার গুণমান লেখা থাকবে। না লেখা থাকলে দোকানিকে জিজ্ঞাসা করে মান যাচাই করে তবেই কেনা ভাল।
কী ভাবে স্টিলের বাসন ভাল থাকবে
লেবু, আচার, নুন জাতীয় জিনিস দীর্ঘ সময় ধরে স্টিলের বাসনে রাখলে, তা নষ্ট হতে পারে। বাসন মাজার সময় সাবধানতা জরুরি। বেশি খরখরে জালি দিয়ে জোরে ঘষলে এতে দাগ প়ড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত বাসন কাগজে মুড়ে রাখুন। না হলে জেল্লা হারাতে পারে। মরচেও পড়তে পারে।