Cancer treatment

ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ে গোমূত্র পান করে লাভ হয়েছে! নভজ্যোৎ কৌর সিধুর এমন দাবির আদৌ যুক্তি আছে?

কয়েক বছর আগে নভজ্যোৎ কৌর সিধু স্তন ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এক ভিডিয়োতে কৌর বলছেন যে তিনি ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ে গোমূত্র খেতেন বলেই তাঁর সেই অভ্যাস এখনও রয়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২
নভজ্যোৎ সিংহ সিধু ও নভজ্যোৎ কৌর সিধু।

নভজ্যোৎ সিংহ সিধু ও নভজ্যোৎ কৌর সিধু। ছবি: সংগৃহীত।

গত বছর নভজ্যোৎ সিংহ সিধু দাবি করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী নভজ্যোৎ কৌর সিধুর ক্যানসার সেরে গিয়েছে নিম, হলুদ, লেবু, জল খেয়ে। প্রাক্তন ক্রিকেটারের এই দাবিতেই চটেছিল ছত্তীসগঢ় সিভিল সোসাইটি (সিসিএস)। তারা সিধুর স্ত্রীকে ৮৫০ কোটি টাকার নোটিসও পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি আবার বিরূপ মন্তব্য করে বসলেন নভজ্যোৎ কৌর সিধু। তিনি বলেছেন, ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট চলাকালীন তিনি অ্যালোপ্যাথি ওষুধের পাশাপাশি গোমূত্র খেয়েও উপকার পেয়েছেন।

Advertisement

কয়েক বছর আগে নভজ্যোৎ কৌর সিধু স্তন ক্যানসারের চতুর্থ পর্যায়ের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এক ভিডিয়োতে কৌর বলেন, তিনি ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ে গোমূত্র খেতেন বলেই তাঁর সেই অভ্যাস এখনও রয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তিনি জানিয়েছেন, ক্যানসারের ট্রিটমেন্ট চলাকালীন তিনি গোমূত্র দিয়ে স্নানও করেছেন। নভজ্যোতের এই ভি়ডিয়ো ভাইরাল হতেই সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কটাক্ষের ঝড় উঠেছে। তিনি ক্যানসার নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। কটাক্ষের শিকার হয়েই শেষমেশ মুখ খুললেন কৌর। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘‘পুরো ভিডিয়ো দেখে মন্তব্য করুন। একমাত্র অ্যালোপ্যাথির মাধ্যমেই ক্যানসারকে জয় করা সম্ভব। আমি শুধু বলেছি এর পাশাপাশি কোন কোন থেরাপিতে আমি উপকৃত হয়েছি। ক্যানসার সারাতে জীবনযাপন আর ডায়েটেও বদল জরুরি। ক্যানসারের চিকিৎসক অ্যালোপ্যাথির সাহায্যেই ক্যানসার সারিয়ে তুলতে পারেন। বিকল্প থেরাপি যেমন, যাপনে বদল, রাসায়নিক ছাড়া খাবার খাওয়া, দুধের সামগ্রী না খাওয়া, গোমূত্র থেরাপি সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট হিসাবে কাজ করে। এগুলিতে ক্যানসার সেরে যায় না। সার্জারি, কেমোথেরাপি আর রেডিয়েশনের মাধ্যমেই আমি সেরে উঠেছি। যাপনে বদল এনে আমি দ্রুত সুস্থ হয়েছি।’’

বেঙ্গালুরুর ক্যানসার চিকিৎসক পুভাম্মা সি ইউয়ের মতে, কারও ব্যক্তিগত গল্প কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট হতে পারে না। চিকিৎসক বলেন, ‘‘পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মুখ থেকে এমন কথা শুনে ক্যানসার রোগী ও তাঁদের পরিবারের লোকজন বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তাঁরা এমনিতেই ভয়ে থাকেন। অনেকে এই সব ঘরোয়া টোটকা মেনে চলতে গিয়ে মূল ট্রিটমেন্টে থেকে পিছিয়ে পড়তে পারেন, তাতে অযথা অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর সুস্থতার হারও কমে যেতে পারে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন