Bengal election celebrity voter

‘অভিষেকের মতো বুদ্ধিমান এবং সংযত রাজনীতিবিদ আমার পছন্দ’, বললেন কবি জয় গোস্বামী

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনা-চিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মরসুমে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন কবি জয় গোস্বামী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কী বললেন কবি জয় গোস্বামী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে কী বললেন কবি জয় গোস্বামী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?

জয় গোস্বামী: মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।

Advertisement

২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?

জয়: মমতা যে দলে আছেন, সেই দলকে ভোট দিই। আমি মমতাকে দেখে ভোট দিই। প্রার্থী কে, তা দেখে ভোট দিই না। আমার যদি শরীরে দিত, তা হলে আমি তাঁর হয়ে তাঁর কেন্দ্রে গিয়ে প্রচারও করে আসতাম।

৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?

জয়: আগে থেকে যোগ্যতার বিচার করে বা প্রশিক্ষণ দিয়ে কী হবে? শেষ পর্যন্ত তো ক্ষমতা মানুষগুলোকে বদলেই দেবে।

৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?

জয়: সমাজ বদলানো যাবে, আগে ভাবতাম। ভাবতাম লিখে মানুষকে ভাবানো যায়। ভুল ভাবতাম। বরং লিখে বিদ্রুপের পাত্র হয়েছি। সব কিছু যেমন ছিল, তেমনই থেকেছে। লিখে কী লাভ! বদল আনার কথা ভাবার চেয়ে আমি বসে দু’-একটা ভাল বই পড়ব।

৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?

জয়: সে সব তো ঠিক করবেন বড় ব়ড় অ্যাকাডেমিক প্রধানেরা। সাহিত্যজগতেও তো অনেক নেতা আছেন, তাঁরা ভাববেন।

৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?

জয়: রাজনীতির জগতে তো অনেক টাকা আছে, ক্ষমতাও আছে। সাহিত্য জগতে টাকা নেই, তাকেই দুর্নীতিমুক্ত করা গেল না! যদি মানুষগুলি আত্ম প্রক্ষালন করেন, তবে দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেন।

৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?

জয়: এই যে মমতা ক্ষমতায় আসতেই সমালোচকেরা দল বেঁধে তাঁর দিকে চলে এলেন, তাঁদের শাস্তি হয়েছে? উল্টে বড় বড় পোস্ট পেয়েছেন সব। ফলে শাস্তিটাস্তি কিছু হবে না। এঁরাই আবার যদি নতুন কেউ আসে, তার দিকে যাবে। মোট কথা ক্ষমতা যেখানে, মানুষ সেখানেই।

৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?

জয়: শুধু রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ হয়, কে বলেছে? এ জিনিস বন্ধ হবে না। যাঁরা সহ্য করবে, তাঁরাই থাকবেন। আর ঘৃণাভাষণকে গুরুত্ব দেব কেন? এ দেশে মুসলিম গায়কেরা কৃষ্ণ-রাধাকে নিয়ে গান বেঁধেছেন। সেটাই তো আমাদের সংস্কৃতি। চারপাশে কে কী বলছে, শুনব কেন?

৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

জয়: মমতার চেয়ে বেশি সাম্যবাদী আর কে আছেন!

১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?

জয়: নিশ্চয়ই উন্নতি হচ্ছে। এই যে বাড়ির বৌ সংসারের কাজ করেন, তাঁর কাজটি তো কৃতজ্ঞতাবোধের আশাহীন একটা কাজ। তিনি তো ওই কাজের জন্য হাতে কোনও টাকা পান না। তাঁর হাতে তো টাকা পৌঁছচ্ছে।

১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?

জয়: সুমনের গান আছে না, ‘বিরোধীকে বলতে দাও’। বিরোধীর কথা যদি না শুনি, তা হলে আত্মসংশোধন করব কী করে? তবে বিরোধীরাও চাইবে রাজ্যের ভাল হোক। সরকারকে বিপদে ফেলা তাদের লক্ষ্য হতে পারে না।

১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?

জয়: হা ভগবান! আপনি একদম সত্যি কথাটা বলে দিলেন। তারকারা অভিনয় শিক্ষা করেছেন, তেমনই রাজনীতিও শিক্ষা করতে হয়। সেটা না করে তারকা ইমেজের জন্য আমি কিছু ভোট পাব, সেটা কি ঠিক?

১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?

জয়: আমি অভিষেকের মতো বুদ্ধিমান, সংযত এবং ‘টু দি পয়েন্ট’ কথা বলা অল্পবয়সি রাজনীতিবিদ খুব কম দেখেছি। এত কম কথায় সব বুঝিয়ে দেন। এটা বিরাট ক্ষমতা। আর এক জনকে ভাল লাগে, তিনি হলেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

Advertisement
আরও পড়ুন