দুই সন্তানের কাছেও শিখেছেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা। ছোটদের থেকে কতটা শেখা যায়? ছবি: সংগৃহীত।
মা হওয়া যে মুখের কথা নয়, তা বোঝেন সব মায়েরই। ব্যতিক্রম নন তারকা মায়েরাও। সন্তানকে বড় করার ঝক্কি যেমন আছে, তেমনই আছে পূর্ণতা। সন্তানকে বড় হতে দেখাটাও অভিভাবকদের কাছে কম সন্তুষ্টির নয়। তবে মাতৃত্ব মানে শুধু সন্তান পালন নয়, বরং প্রতি পদেই শিক্ষালাভ, এ কথা বুঝেছেন দক্ষিণী ছবির অভিনেত্রী জ্যোতিকা। ছেলেমেয়েরা কী ভাবে তাঁর জীবনবোধ বদলে দিয়েছে, সেই অভিজ্ঞতাই এক সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী।
জ্যোতিকা এবং তাঁর দুই সন্তান। ছবি: সংগৃহীত।
শুধু তামিল নয়, হিন্দি চলচ্চিত্র জগতেও পরিচিত মুখ তিনি।জ্যোতিকার স্বামী সূর্যও অভিনেতা। তাঁদের দুই সন্তান দিয়া এবং দেবকে তাঁরা প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন বরাবর। বড় করেছেন অত্যন্ত সাধারণ ভাবে। স্বাধীন ভাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছেন। সন্তানদের বড় করতে গিয়েই বদলেছে অভিনেত্রীর ভাবনা। জগৎকে নতুন করে চিনেছেন দুই খুদের চোখে। জ্যোতিকার কথায়, "ছেলেমেয়েরা আমায় আবেগের নতুন অর্থ বুঝিয়েছে। দেখার চোখ বদলে দিয়েছে।’’
ছোট বলে বড়রা ভাবেন, তারা অপরিণত, অবুঝ। কিন্তু ছোটদের সারল্য, দেখার দৃষ্টিভঙ্গি তাদের অনেক সময় বড়দের চেয়েও পরিণত করে তোলে, এমনটাই উপলব্ধি অভিনেত্রীর। বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানদের আচরণ দেখে বিস্মিত হয়েছেন তিনি। কখনও কখনও সহমর্মী হওয়া কতটা জরুরি, তা তিনি বুঝেছেন ছেলেমেয়েকে দেখে।
শিশুর চোখে কৌতূহল থাকে। তাদের মধ্যে থাকে নতুন ভাবনা। সেই ভাবনাগুলি সঞ্চারিত হয়েছিল জ্যোতিকার জীবনেও।
অভিনেত্রী খোলাখুলি ভাবে সন্তানদের কাছ থেকে শেখার কথা বলেছেন। অভিভাবকেরা মনে করেন, প্রতি পদে ছেলেমেয়েদের শিখিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু ছোটদের থেকেও শিক্ষণীয় থাকতে পারে কী? মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপের কথায়, ‘‘অনেক সময় সন্তানদের থেকে শেখার সুযোগ থাকে। নতুন প্রজন্ম নতুন ভাবে জগৎকে দেখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাতেও বদল আসে। তারা এমন অনেক কিছু শিখতে পারে, যা হয়তো আগের প্রজন্মের জানা নেই। সন্তানের কথায় যুক্তি থাকলে মানতে বাধা কোথায়?’’