Do’s and Don’ts of gaming

ডিজিটাল গেমে ফাঁদ পাতা সাইবার প্রতারণার, সন্তান অনলাইনে গেম খেললে কী কী নজরে রাখবেন অভিভাবকেরা?

অনলাইন গেমের নেশা বাড়ছে ছোটদের। দিনভর সেখানেই ডুবে থাকছে খুদেরা। গেমের আসক্তি এক দিকে যেমন মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই সামান্য অসাবধানতায় সাইবার অপরাধীরা সিঁদ কেটে ঢুকে পড়তে পারে অবলীলায়। তাই আগে থেকেই কী কী সতর্কতা নিতে হবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩০
শিশু অনলাইনে গেম খেললে বাবা-মায়েরা কী কী নজরে রাখবেন?

শিশু অনলাইনে গেম খেললে বাবা-মায়েরা কী কী নজরে রাখবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অনলাইন গেম খেলায় আসক্তি দিন দিন বাড়ছে। দিনভর মোবাইল নিয়েই মেতে রয়েছে ছোটরা। এই আসক্তিই প্রাণ কেড়ে নিয়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজ়িয়াবাদের তিন নাবালিকার। এই গেমের আসক্তি এক দিকে যেমন মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, তেমনই সামান্য অসাবধান হলেই সাইবার অপরাধীদের পাতা ফাঁদে সহজেই জড়িয়ে পড়তে পারে শিশু ও কমবয়সিরা। অনলাইনে এখন নানা রকম প্রতারণামূলক কাজকর্ম হচ্ছে। সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির সাইবার অপরাধীরা। ডিজিটাল গেম সাইবার প্রতারণার অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই সন্তান যদি দিনভর অনলাইনে গেম খেলে, তা হলে কিছু বিষয় নজরে রাখতে হবে বাবা-মাকে।

Advertisement

গেমিংয়ের উপর নজর রাখার উপায়

সন্তান অনলাইনে কী করছে, তা সরাসরি জানতে না চেয়ে বরং কৌশলে জেনে নিন। কী কী খেয়াল করবেন?

পেরেন্টাল কন্ট্রোল অ্যাপ: গুগ্‌ল ফ্যামিলি লিঙ্কের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি অনলাইন গেম খেলার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন। কোন ধরনের গেম ফোনে ডাউনলোড হবে, খেলার সময় কত ক্ষণ, তা আপনার হাতেই থাকবে।

গেমের রেটিং চেক করুন: গেমটি ডাউনলোড করার আগে তার রেটিং দেখুন। এতে বোঝা যায়, গেমটি কোন বয়সের জন্য উপযুক্ত।

অ্যাপে নজরদারি: খুদে কোন অ্যাপ ইনস্টল করে গেম খেলছে, তা যাচাই করে নিন। একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য জায়গা থেকেই গেম ডাউনলোড করতে হবে। এখন নানা ভুয়ো ওয়েবসাইট খুলে সেখানে জমকালো বিজ্ঞাপন দিয়ে গেম খেলার জন্য আকর্ষণ করা হচ্ছে কমবয়সিদের।

ওপেন স্পেস গেমিং: সন্তানকে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে গেম খেলতে না দিয়ে সকলের সামনে খেলার অভ্যাস করান। এতে সে কী দেখছে বা কার সঙ্গে কথা বলছে, তা নজরে থাকবে।

অনলাইন গেমের বন্ধুদের চিনুন: অনেক গেমে 'লাইভ চ্যাট' অপশন থাকে। সন্তান অপরিচিত কারও সঙ্গে চ্যাট করছে কি না, বা ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছে কি না, তা নজরে রাখুন।

অভিভাবকদের জন্য সতর্কতা

১) দিনে সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় ঘণ্টার বেশি গেম খেলতে দেবেন না। শুরু থেকেই এই নিয়ম জারি করুন।

২) সন্তানকে বোঝান যে, অনলাইনে অপরিচিত কেউ তাকে ছবি পাঠাতে বললে বা আপত্তিকর কথা বললে, যেন যে আপনাদের জানায়।

৩) অনলাইন গেম চলাকালীন অনেক সময়েই টাকাপয়সার লেনদেন করার নোটিফিকেশন আসে। খেয়াল রাখবেন, তেমন কিছু আসছে কি না। যদি ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের তথ্য চাওয়া হয় বা কোনও রকম কিউআর কোড স্ক্যান করতে বলা হয়, তা হলে সতর্ক হয়ে যান।

৪) গেমের মারফত কেউ সন্তানের নাম, ঠিকানা বা স্কুলের নাম জানতে চাইছে কি না, খেয়াল রাখুন। ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে সতর্ক হতে হবে।

৫) যে মোবাইলে খুদে গেম খেলছে, সেখানে শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস ইনস্টল করে রাখুন। ফোনের সফ্‌টঅয়্যার সময়ান্তরে আপডেট করুন। কোনও রকম অজানা লিঙ্ক আসছে কি না, তা নজরে রাখুন।

Advertisement
আরও পড়ুন