ছবি : সংগৃহীত।
প্রেম দিবসে অনলাইন অর্ডারের প্ল্যাটফর্মগুলিতে একটি বিশেষ বোতাম দেওয়া হয়েছে। সেই বোতামে লেখা থাকছে ‘সিঙ্গল’। বোতামটি অন করে দিলেই ভোল বদলে যাচ্ছে পর্দায় দেখানো পণ্যের খুপরিগুলোর। সেখানে ফুটে উঠছে আত্মপ্রেমে মজে থাকার নানা সামগ্রীর ছবি। ভাবটা এই রকম যে, অন্যেরা যখন সঙ্গীর সঙ্গে আনন্দ করছেন, তখন ‘সিঙ্গল’ আপনি মনমরা হয়ে থাকবেন কেন! একা একাই আনন্দ করুন। কিন্তু কেন? দোকা না হয়ে একা হলে অসুবিধা কোথায়। কেউ তো গর্বের সঙ্গেই ‘সিঙ্গল’থাকতে পারেন। তাঁকে অমন ‘ললিপপ’ ধরিয়ে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়ারই বা আছেটা কি!
একা থাকাটা অনেক ক্ষেত্রেই নিজের সুখের হিসাব কষে ভেবে চিন্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত। আর সেই সিদ্ধান্ত যদি নিয়ে ফেলেই থাকেন, তবে পারিপার্শ্বিকের উসকানি আর মন্তব্যের পরোয়া না করে টিকে থাকুন তাতে। কারণ, ডাঁটের সঙ্গে একা থাকতে পারাটাও এক ধরনের শিল্প। আর তা রপ্ত করতে পারলে সুখের এক অন্য ঠিকানা চলে আসবে হাতের মুঠোয়। যেখানে আর যাই হোক, একা হয়ে যাওয়ার ভয় নেই।
এর জন্য যেটা দরকার, তা হল এক লক্ষণ রেখা। এমন এক গণ্ডি যার ওপারে থাকবে সমালোচনা এবং অযাচিত সহানুভূতি, যা চারপাশের খারাপ লাগা থেকে আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। সহজ করবে সুখপ্রাপ্তির পথ।
প্রেম দিবসে যাঁরা একাকীত্ব নিয়ে সমাজের করুণার নজরের ভয় পাচ্ছেন তাঁরা ওই গণ্ডি টানতে চাইলে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করুন—
১। কতটা নিতে পারেন?
সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কী ধরনের প্রশ্ন বা ইঙ্গিত আপনি সহজে এড়াতে পারেন, আর কোনটি পারেন না। কারণ, ওই ছোট ছোট ইঙ্গিতই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে যে কোনও মুহূর্তে। তাই নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন কী ধরনের আচরণ, আলোচনা আপনাকে বিরক্ত করে দেয় সহজে। সেই বুঝে নিজের লক্ষণরেখা টানুন। যাতে তাদের ওই ধরনের আচার আচরণ সহজেই বাউন্ডারির বাইরে ছক্কা হাঁকানোর মতো তুলে ফেলে দিতে পারেন।
২। নিজের কথা বোঝাতে পারছেন কি?
নিজেকে বোঝা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি নিজের কথা বলতে পারা। তা না হলে যিনি বা যাঁরা আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চাইছেন, তাঁরাও বুঝবেন না আপনি কী চান। তাই নিজের পছন্দ আর তার নেপথ্যের যুক্তির কথা খোলাখুলি বলুন। কেন একা থাকতে চান বা আপনার আদর্শ সঙ্গীর মধ্যে কী কী গুণ খুঁজছেন আর কেন এ নিয়ে অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করবেন না ইত্যাদি। এতে কিছু মানুষ আহত হতে পারেন। কিন্তু বাকিদের খুশি রাখতে গিয়ে নিজেকে খারাপ রাখাও তো কোনও কাজের কথা নয়। তবে এটাও ঠিক, যাঁদের কাছে আপনার ভাল থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁরা বিষয়টি খারাপ ভাবে নেবেন না।
৩। নিজেকে কি স্বার্থপর মনে হচ্ছে?
একা থাকাকে সমাজ অনেক সময় অদ্ভুত ভাবে ব্যাখ্যা করে। কেউ বলেন, মানিয়ে নিতে না পারলেই মানুষ একা থাকে। কারণ, মানিয়ে নেওয়ার কাজ সহজ নয়। আবার কেউ বলেন, একা তাঁরাই থাকেন, যাঁরা স্বার্থপর হন। যাঁরা শুধু নিজের কথা ভাবেন। এই ধরনের ভাবনা সংক্রামক। তবে একা থাকার সিদ্ধান্ত যদি নিয়েই থাকেন, তবে এই সমালোচনার পাল্টা যুক্তিও সাজিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, নিজের কথা ভাবা মোটেই স্বার্থপরতা নয়। নিজের জন্য চিন্তা করার মধ্যে কোনও অপরাধ নেই। প্রত্যেকেই তা করেন নিজের মতো করে। আপনিও নিজের মতো করে নিজের কথা ভাবছেন। তাই কেউ যদি এমন কথা বলতে আসেন, তবে প্রতিবাদ করুন। আর তা করুন জোরালো ভাবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করার আগে তাঁরা দু’বার ভাবেন।