Kids with hearing loss

শিশু কি কানে কম শুনছে? শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক, বাবা-মায়েরা কখন সতর্ক হবেন?

শিশুর কানে সমস্যা হচ্ছে কি না, বুঝবেন কী উপায়ে? শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক। বাবা-মায়েরা সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনলে, চিকিৎসায় তা সারিয়ে তোলা সম্ভব।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৫
Hearing protection for children, here are some tips for parents to keep kids safe from hearing loss

কানের সাধারণ সমস্যা অবহেলা করলে শ্রবণশক্তি লোপ পেতে পারে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শিশুর শ্রবণশক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক, কারণ সঠিক সময়ে কথা বলা শিখতে পারা এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কানে শুনতে পাওয়া জরুরি। শিশুদের শ্রবণশক্তির সমস্যা অনেক সময়েই বোঝা কঠিন হয়। তাই এর চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়। বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে যে শিশু কানে কম শুনছে কি না। কথা বললে তা শুনে বুঝতে পারছে কি না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে যে শিশুরা, বা কিশোর-কিশোরীরা, তাদের শ্রবণশক্তির সমস্যা হচ্ছে। ছোট থেকেই কানে কম শোনা বা কিছু ক্ষেত্রে বধিরতার লক্ষণও দেখা দিচ্ছে। এর কারণ অনেক। বাবা-মায়েদের লক্ষণ বুঝে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

Advertisement

শিশু কানে কম শুনছে কি না তা বোঝার কিছু উপায়

নবজাতক থেকে ৩ মাস: কোনও উচ্চ শব্দে চমকে না ওঠা বা ঘুমের মধ্যে শব্দ হলে জেগে না যাওয়া।

৪ থেকে ৯ মাস: ডাকলে বা কোনও শব্দ হলে সে দিকে দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে না তাকানো।

১০ থেকে ১৫ মাস: কথা বলতে দেরি করা, মা বাবার গলা চিনতে না পারা। সাধারণত ১৫ মাসের পর থেকে শিশু ধীরে ধীরে নানা শব্দ উচ্চারণ করতে শিখে যায়। না বলতে পারলে বুঝতে হবে, সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

স্কুল পড়ুয়া শিশুদের ক্ষেত্রে যদি দেখেন, কথা উচ্চস্বরে না বললে বুঝতে পারছে না, কথা শুনে বুঝতে সমস্যা হচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

সমস্যার কারণ কী কী?

শিশুর শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক। শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পালের মতে, জন্মের সময় শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে মাথায় আঘাত পাওয়া, টাইফয়েড বা এনসেফেলাইটিসের সমস্যা হলে শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার হারপিস, রুবেলার মতো ভাইরাস ঘটিত কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। কানের গঠনগত কিছু ত্রুটির কারণেও শিশু বধির হয়ে জন্মায় আবার ছোট বয়স থেকেই নানা জটিল অসুখবিসুখের কারণে শোনার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। যে সব শিশু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয় ও স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মায়, তাদের ক্ষেত্রে শোনার জন্য নির্দিষ্ট অডিটরি স্নায়ুর গঠনে ত্রুটি থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে গিয়ে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।

বাবা-মায়েরা কী করবেন?

শিশুর কানে ইয়ারবাড বা ওই জাতীয় জিনিস দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না।

শিশুকে খুব বেশি শব্দ হয় এমন জায়গায় বা জোরে লাউডস্পিকারের সামনে দীর্ঘ ক্ষণ রাখবেন না।

ছোট থেকেই যদি সর্দি-কাশির সমস্যা বেশি হয় ও ঠান্ডা লাগলে কানে ব্যথা, কান থেকে পুঁজ বেরনোর সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

কথা বলার বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি শিশু কথা বলতে না পারে, তা হলে দেরি করা ঠিক হবে না।

ছোট থেকে হিয়ারিং এড ব্যবহার করা নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা থাকে। তবে ‘ডিজিটাল হিয়ারিং এড’ ছোট থেকে ব্যবহার করলে কানের সমস্যা দূর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সে ব্যবস্থা আগে থেকেই করতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন