Digital Security Tips for Kids

অজান্তেই নিজের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুদের হাতে দিয়ে ফেলছেন কি? বিপদ আসতে পারে নানা ভাবে

অজান্তেই নিজের গোপন বা জরুরি তথ্য খুদের হাতে দিয়ে ফেলছেন কি? বিপদ আসতে পারে অজান্তেই। ডিজিটাল নিরাপত্তার খাতিরেই ৫-১৪ বছরের সন্তানকে কিছু বিষয় শেখানো জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৭:০৯
পড়াশোনার জন্য সন্তানের হাতে মোবাইল দিচ্ছেন? ডিজিটাল নিরাপত্তার পাঠ পড়িয়েছেন কি?

পড়াশোনার জন্য সন্তানের হাতে মোবাইল দিচ্ছেন? ডিজিটাল নিরাপত্তার পাঠ পড়িয়েছেন কি? ছবি:সংগৃহীত।

বহু শিক্ষামূলক কোর্স এখন হয় অনলাইনে। তাই মোবাইল হোক বা ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ দিতেই হয় সন্তানকেও। অজান্তেই নিজের গোপন বা জরুরি তথ্য খুদের হাতে দিয়ে ফেলছেন কি? বিপদ আসতে পারে অজান্তেই। ডিজিটাল নিরাপত্তার খাতিরেই ৫-১৪ বছরের সন্তানকে কিছু বিষয় শেখানো জরুরি। সতর্ক হওয়া প্রয়োজন অভিভাবকদেরও।

Advertisement

জানার কথা এমন তথ্য হাতে না পড়াই ভাল

শিশুরা কৌতূহলী। এটা-ওটা ক্লিক করতে পছন্দ করে। ফলে, বাবা-মায়ের ব্যবহার করা মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে অজান্তেই সে অনেক তথ্য জেনে ফেলতে পারে, যা তার বোঝার বাইরে বা জানার কথাই নয়। ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি কখনই তার নাগালে রাখা ঠিক নয়। খুদের হাতে ল্যাপটপ, মোবাইল দেওয়ার আগে হোয়াটস অ্যাপ বা এই ধরনের অ্যাপ সংক্রান্ত মেসেজের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দেওয়া ভাল। পাশাপাশি, অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করে অবাঞ্ছিত সাইটের পপ আপ বন্ধ করার ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন।

সকলেই বন্ধু নয়

অনলাইনে যেমন ক্লাস হয়, তেমন বড়দের নজর এড়িয়ে তারা নানা রকম সাইটে ঢুকে পড়ে। গেম খেলে। অনলাইনে এই ভাবে অন্য ব্যক্তি বা মানুষের সঙ্গে তাদের সংযোগও হতে পারে। মিথ্যে বলে বা ছোটদের ভুলিয়ে ভালিয়ে প্রতারণা করার লোকজন কিন্তু কম নেই। তাই তারা কাদের সঙ্গে কখন কথা বলবে, কখন কথা বললে বিপদ হতে পারে, ছোটদেরও শেখানো প্রয়োজন। তা ছাড়া, অনলাইনের নানা রকম ভিডিয়ো বা রিল দেখে অজান্তেই তারা এমন কোনও কথায় উদ্বুদ্ধ হতে পারে, যা তার ক্ষতিও করতে পারে। সুতরাং, কাদের সঙ্গে কথা বলা যায়, কাদের কথা শোনা দরকার, সেই ব্যাপারে গণ্ডি টেনে দেওয়া জরুরি। সরাসরি বারণ নয়, সন্তানকে বিপদ সম্পর্কে বুঝিয়ে বলতে হবে। তাদের শেখাতে হবে অজানা লিঙ্কে ক্লিক না করতে, অজানা চ্যাট বক্স খুলে গেলে এড়িয়ে যেতে।

ব্যক্তিগত তথ্য জানানো অনুচিত

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় একা থাকলে যেমন বাড়ির ঠিকানা, পারিবারিক তথ্য অচেনা মানুষকে জানানো উচিত নয় বলে শিশুদের শেখানো হয়, তেমনটাই শেখানো প্রয়োজন অনলাইনের ক্ষেত্রে। আচমকা কোনও চ্যাট বক্স খুলে গেলে বা মেসেজে অচেনা কেউ যদি নাম, অবস্থহান বা ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করে, অবশ্যই তা বড়দের জানানো উচিত, সেটা খুদেকে বোঝানো জরুরি।

ডিলিট করে দেওয়া

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ছবি, ভিডিয়ো সে খেলার ছলেই ডিলিট করে ফেলতে পারে। তা যদি অফিসের বা বিশেষ কাজের জিনিস হয়, তখন সন্তানকে বকাবকি করেও লাভ হবে না। তাই খেলার ছলে এই ধরনের কাজ কতটা বিপজ্জনক, তাকে তার মতো করে বোঝাতে হবে।

ডাউনলোড, স্ক্যানিং

শিশুরা অজান্তেই বিপজ্জনক সাইটে ঢুকে পড়তে পারে, অজানা লিঙ্কে ক্লিক করে ফেলতে পারে। এই ধরনের লিঙ্ক দিয়ে অনেক সময় মোবাইল, ল্যাপটপ হ্যাক করে ফেলা যায়। কোনও জিনিস স্ক্যান করা, অজানা লিঙ্কে ক্লিক করা ঠিক নয়, তাদের শেখানো দরকার। পাশাপাশি, অ্যাড ব্লকার ব্যবহার করে অবাঞ্ছিত সাইটের পপ আপ বন্ধ করার ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন।

ছোটদের সচেতন করার পাশাপাশি বাবা-মায়ের নজরদারিও জরুরি। বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েরা কৌতূহলের বশেই এমন অনেক কিছু করে ফেলতে পারে, যা বিপদ ডেকে আনবে। তাই সন্তান কোন ধরনের সাইটে ঢুকছে, কোনও জিনিস দেখার পরে ডিলিট করে দিচ্ছে কি না, সেই ব্যাপারগুলিতে নীরবে নজর রাখা প্রয়োজন।

Advertisement
আরও পড়ুন