গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কন্যাসন্তানের জন্য আসে মেয়ে পুতুল, রান্নাবাটির খেলনা। পুত্রকে কিনে দেওয়া হয় ডাক্তারির খেলনা সেট, গাড়ি বা সুপারহিরোর পুতুল। ভেবে হোক বা না ভেবে বাবা-মায়েরাই এটি করেন। খুব ছোট্ট বয়সেই তাঁদের হাত ধরে পুত্র এবং কন্যার মধ্যে তৈরি হয়ে যায় এক অদৃশ্য বিভাজন রেখা। আশার বিষয় সেই ভাবনা ইদানীং বদলাচ্ছে। পুত্র সন্তানকেও রান্নাবাটির সেট কিনে দেওয়ার কথা ভাবছেন এ যুগের বাবা-মায়েরা। শুধুমাত্র খেলনা হিসাবে নয়। আগামী দিনের কথা এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এটি কেনা। ক্যানসার জয়ী দীপিকা কক্কড় এবং তাঁর স্বামী শোয়েব ইব্রাহিম সেই উদাহরণ তৈরি করলেন।
সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে শোয়েব তাঁর ২ বছর ৮ মাসের পুত্র রুহানকে রান্নাঘরে আঙুর ধুয়ে দিতে বলছেন। ভিডিয়োতেই শোয়েবকে বলতে শোনা যায়, ‘আরে ছেলেটার জন্য রান্নাবাটির সেট এনে দেওয়ার কথা ছিল না, সেটা আনা হয়নি।’ জবাবে দীপিকা বলেন, ‘আমার ছেলে ওই সব ছোট ছোট থালাবাটি নিয়ে খেলবে না।’ যদিও পরের ভিডিয়োয় দেখা যায় শোয়েব ছেলে রুহানকে রান্নাবাটির খেলনা উপহার দিচ্ছেন।
বিষয়টি আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ। কিন্তু বোঝা যায়, ছেলেকে রান্নাঘরের কাজে অভ্যস্ত করার কথা মাথায় রেখেই শোয়েব ওই ভাবনা ভেবেছেন। হয়তো নিতান্তই প্রয়োজনের তাগিদে। কারণ, শারীরিক কারণে দীপিকার পক্ষে রান্নাঘরের কাজ করা সম্ভব হবে না সে ভাবে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ওই অভ্যাস ভবিষ্যতে অনেক সমস্যা থেকে বাঁচিয়ে দেবে রুহানকে।
ছেলে রুহানের সঙ্গে শোয়েব এবং দীপিকা। ছবি: দীপিকা কক্করের ইনস্টাগ্রাম থেকে।
কেন ছেলেদের রান্নাঘরের কাজে অভ্যস্ত করা জরুরি?
১. রান্না করা কেবল মহিলাদের কাজ নয়। কোনও শখও নয়। রান্না করতে হয় বেঁচে থাকার জন্যই। ভবিষ্যতে পুত্রসন্তানকে পড়াশোনা বা চাকরির সূত্রে একা থাকতে হতেই পারে। সেক্ষেত্রে তাকে নিজের খাবার নিজে তৈরি করার মতো স্বাবলম্বী বানানোই তো বাবা-মায়ের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
২. ঘরোয়া কাজ মানেই মেয়েদের কাজ— এই ধারণা ছোটবেলা থেকেই মনে গেঁথে গেলে বড় হয়ে তারা ঘরের কাজে সাহায্য করতে কুণ্ঠাবোধ করবে। ছোট থেকে রান্নাঘরে সময় কাটালে তারা শিখবে যে, ঘরের কাজের দায় কোনও একজন ব্যক্তির নয়। সে দায় বাড়ির প্রতিটি সদস্যেরই।
৩. রান্না করতে কতটা পরিশ্রম হয়, তা যখন একটি ছেলে নিজে হাতে করতে করতে শিখবে, তখনই সে মায়ের প্রতি বা ভবিষ্যতের জীবনসঙ্গিনীর কাজের প্রতি অনেক বেশি শ্রদ্ধাশীল হবে।
৪. নিজে রান্না করতে জানলে বাইরের জাঙ্ক ফুডের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। যা দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্যই জরুরি।
খাবার তৈরি করতে সাহায্য করতে দিন পুত্র সন্তানকেও। ছবি: গেটি ইমেজ।
কীভাবে শুরু করবেন?
হঠাৎ করেই বড় কোনও রান্নার দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দীপিকার স্বামীর মতোই ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
সহজ কাজ দিয়ে শুরু করুন— সব্জি ধুয়ে দেওয়া, ডাইনিং টেবিল গোছানো বা ফ্রিজে খাবার তুলে রাখার মতো কাজে ছেলেকেও সাহায্য করতে বলুন।
রান্নাবাটির সেট উপহার দিন— খেলনা দিয়ে ব্যক্তিত্ব তৈরি হয় না, কিন্তু মানসিকতা তৈরি হয়। ছোটবেলায় রান্নাবাটির খেলনা নিয়ে খেললে এবং কাল্পনিক পরিস্থিতিতে রান্না করলেও সন্তান বুঝবে রান্না করাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়, মা যা করছে, তা সেও করতে পারে। ফলে অনীহা কাটবে।
পছন্দের খাবার তৈরি করতে দিন— ছেলে যে খাবারটি খেতে পছন্দ করে, সেটি তৈরির সময় তাকে পাশে রাখুন। তাকেও কিছু কিছু কাজ করতে দিন। মশলা মেশানো বা নাড়াচাড়া করার কাজে তাকে সাহায্য করতে বলুন।
প্রশংসা করুন— ছোটখাট কাজ, যেমন মশলা মেশানোর কাজটিও যদি সে ঠিকঠাক করে, তবে অবশ্যই তার কাজের প্রশংসা করুন। এতে সে উৎসাহ পাবে এবং বিষয়টিকে বোঝা বলে মনে করবে না।