Mental well-being

ভাল থাকা আর তা দেখানোয় তফাৎ অনেক, পরিবারের সঙ্গই সুখের চাবিকাঠি! কেন মনে করেন সুনীল শেট্টি

দিনের শেষে ঘরোয়া খাবার আর প্রিয় মানুষের সান্নিধ্যেই রয়েছে সুখ, মনে করেন সুনীল শেট্টি। সমাজমাধ্যমে বদলে যাওয়া সুখের সংজ্ঞায় অভিনেতার এই ভাবনা কতটা গ্রহণযোগ্য? কী বলছেন মনোবিদেরা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ১৫:৩৮
অভিনেতা সুনীল শেট্টি কী ভাবে সুখকে দেখেন?

অভিনেতা সুনীল শেট্টি কী ভাবে সুখকে দেখেন? ছবি: সংগৃহীত।

সমাজমাধ্যমের দৌলতে বদলাতে শুরু করেছে সুখের সংজ্ঞা। সুন্দর কোনও রেস্তরাঁয় গিয়ে নৈশ ভোজ, বিদেশের কোনও জনপ্রিয় সৈকতে ঘুরে আসতে পারা, কেতাদুরস্ত সাজসজ্জা— এই সব কিছুকেই এখন সুখের দ্যোতক বলে মনে করেন অনেকেই।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে উঠে আসা সুখের এই সংজ্ঞা নিয়ে পডকাস্টে নিজের ব্যাখ্যা দিলেন বলিউড সুনীল শেট্টি। অভিনেতার কথায়, সুখের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিচ্ছে সমাজমাধ্যম। ভাল রয়েছেন দেখানোর জন্য রেস্তরাঁয় যেতে হচ্ছে, ছবি দিতে হচ্ছে, অথচ এই সব করতে গিয়ে খাওয়ার আগে খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। কখনও কাউকে ক্যামেরার সামনে রুটি বেলতে হচ্ছে।

সুনীল বলছেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি আজীবন সুখে থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে আপনজনের সান্নিধ্যে। দিনের শেষে বাড়িতে এসে ডাল-ভাত খাওয়া, প্রিয় মানুষগুলির সাহচর্য পাওয়ার মধ্যেই জীবনের আসল সুখ জমা রয়েছে। প্রকৃত অর্থেই সুখী হওয়া আর সুখী দেখানোয় তফাত অনেকটাই।’’

তবে কী হাসিখুশি মুখচ্ছবির আড়ালের ছবিটা আলাদা? মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপ বলছেন, ‘‘কেউ প্রকৃত অর্থে সুখী, আবার কেউ নানা ভাবে সমাজমাধ্যমে সুখী দেখানোর চেষ্টা করছেন। বন্ধু-বান্ধব ভাল রেস্তরাঁয় যাচ্ছে, গাড়ি চড়ে বেড়াচ্ছে, সেই ছবি পোস্ট করছে। তা দেখে অনেকের মনে অনুরূপ ইচ্ছা তৈরি হচ্ছে। নিজের আর্থিক সঙ্গতির কথা বিবেচনা না করেই তিনি হয়তো ক্ষমতার বাইরে গিয়ে তা পেতে চাইছেন। না পারলে হীনম্মন্যতায় ভুগছেন। এই সবের আড়ালে নিজের আসল গুণ অধরাই থেকে যাচ্ছে।’’

দিল্লির মনোবিদ পবিত্র শঙ্কর এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, সমাজমাধ্যমে জীবনযাপনের যে চিত্র ধরা পড়ে তা আসলে সম্পাদিত, সমগ্র ছবি নয়। সেখানে জীবনের শুধু ভাল দিকটিই তুলে ধরা হচ্ছে। যতটা দেখানো হচ্ছে, তার নেপথ্যেও অনেক কিছু না দেখা রয়ে যাচ্ছে।

সমাজমাধ্যমে জীবনের নানা মুহূর্তের ছবি পোস্ট করেন অনেকেই। তার পরে সেই ছবি কে কতটা পছন্দ করলেন, কী মন্তব্য করলেন, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তার জগৎ আবর্তিত হয়। ব্যক্তি বিশেষের ভাললাগাটাও এখন অন্যের প্রশংসা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অবেচতনেই মন অন্যের সমর্থন পেতে চায়।

তবে কি সুনীল শেট্টির কথাই ঠিক! দিনের শেষে পরিবারের সান্নিধ্যেই ভাল থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে? মোহিতের কথায়, ‘‘সুনীল খুবই মূল্যবান কথা বলেছেন। তবে সুখ আপেক্ষিক বিষয়। এক একজনের কাছে তার অর্থ আলাদা। আগে বলা হত, সুখী হতে গেলে জীবনযাপন হতে হবে সাধারণ, চিন্তাভাবনা হতে হবে উচ্চ মার্গের। তবে এখন, অনেকেই আত্মমূল্যায়নের পথে না গিয়ে অন্য জনের দেখাদেখি তা অনুকরণের চেষ্টা করছেন। বাহ্যিক বিলাস, বৈভবের দিকে ঝুঁকছেন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন