গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে পাতে রাখবেন কী? ছবি: সংগৃহীত।
হাঁসফাঁস করা গরমে প্রথমেই চলে যায় রুচি। তেল-ঝাল, মশলাদার খাবারও আর মুখে রোচে না। মন চায় এমন কিছু খেতে যা গুরুপাকও হবে না আবার স্বাদেও হবে ভিন্ন। গরমের দিনগুলিতে এক এক রাজ্যে, এক এক জেলায় এক এক ধরনের খাবার খাওয়ার চল। কোথাও খাওয়া হয় মাছের টক, কোথাও গ্রীষ্মকালীন খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নেয় পাতলা মাছের ঝোল।
ভারতের নানা প্রান্তেই গরমে খাওয়ার জন্য এমনই কিছু পদের উদ্ভাবন হয়েছে, যা এমন মরসুমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। ঘরের খাবার যদি একঘেয়ে লাগে, স্বাদ বদলে বেছে নিন উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন খাবার।
মসুর তেঙ্গা
গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে পাতে রাখবেন কী কী। ছবি:সংগৃহীত,।
গরমের মরসুমে টক খাবারে মুখে স্বাদ আসে। মাছ দিয়ে তৈরি পাতলা ঝোল হল মসুর তেঙ্গা, তবে খানিক টক স্বাদের। অসমের পরিচিত পদ এটি। কাতলা বা পোনা মাছ নুন-হলুদ দিয়ে ভেজে নিন। ঝোলের জন্য আলু ভেজে তুলে রাখুন। কড়াইয়ে সর্ষের তেল দিয়ে শুকনো লঙ্কা, কাঁচা লঙ্কা এবং পাঁচ ফোড়ন দিন। যোগ করুন বেশ অনেকটা পরিমাণে টম্যাটো কুচি। নুন-হলুদ দিয়ে কষিয়ে নিন। টম্যাটো গলে তেল ছাড়লে আলু দিয়ে হালকা নাড়াচাড়া করে গরম জল ঢেলে দিন। ঝোল ফুটে উঠলে মাছ দিয়ে দিন।
কাচকলার পিতিকা
কাচকলা দিয়ে তৈরি করুন পিতিকা। জিনিসটি খানিকটা বাঙালির ভর্তার মতো।
কাঁচকলা সেদ্ধ করে জল ঝরিয়ে খোসা ছাড়িয়ে রাখুন। এবার টম্যাটো, শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে নিন। পেঁয়াজ তেলে অল্প একটু সাঁতলে নিন। কাঁচকলা পেঁয়াজ, লঙ্কা, টম্যাটো, কাঁচালঙ্কা, ধনেপাতা তেল-নুন দিয়ে ভাল করে হাত দিয়ে মেখে নিন। গরম ভাতে দারুণ লাগবে। সেদ্ধ বলে এটি হজমেও সমস্যা হবে না।
দহি পুরা বেঙ্গন
দই, বেগুন পোড়া দিয়ে তৈরি করুন গরমের বিশেষ পদ।
অসমে নানা ভাবে দই-বেগুন খাওয়া হয়। তবে রন্ধনশিল্পী রঞ্জন মজুমদার এক রন্ধন প্রণালী বলেছেন। বেগুন পুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে মেখে নিন। বেগুন ঠান্ডা হলে তার সঙ্গে যোগ করুন ফেটানো ঠান্ডা টক দই। দই আর বেগুন খুব ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। যোগ করুন স্বাদ মতো নুন। শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া জিরেগুঁড়ো ছড়িয়ে দিন, আর দিন টাটকা পুদিনা পাতা। ক্রিমের মতো খাবারটি ভাত বা রুটি দুইয়ের সঙ্গেই খাওয়া যাবে।