ইরান-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ থেকে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন, তার কাছে সব কিছুর উত্তর রয়েছে। কিসে কী হতে চলেছে, সেটিরও ধারণা দিতে পারে সে। মানুষ নয়, কথা হচ্ছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ইঞ্জিন ‘মিরোফিস’ নিয়ে।
এ বার আপনার মনে হতেই পারে যে, এআই তো অনেক কিছুই বলে। এ আর নতুন কী! কিন্তু এই ‘মিরোফিস’ নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ইঞ্জিনে নতুন অনেক কিছুই রয়েছে।
জেমিনি বা চ্যাটজিপিটির মতো কোনও একক এআই এজেন্ট এতে কাজ করে না। অনেকগুলি এআই এজেন্ট একত্রে এই সিস্টেমে কাজ করে। প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যও রয়েছে।
কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনাসভা বসলে নানা মুনি যেমন ভিন্ন ভিন্ন মত রাখেন, ‘মিরোফিস’ও অনেকটা সে ভাবে কাজ করে।
ধরা যাক, আপনি এখানে কোনও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলেন। একটা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন দিয়ে বললেন সেটি বিশ্লেষণ করে জানাতে বা সে বিষয়ে মতামত দিতে। অনেকগুলি এআই এজেন্ট সেটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও চলবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভাষায় বলতে গেলে, আপনি প্রথমে ‘মিরোফিস’ সিস্টেমটিতে ঢুকে ‘সিড মেটেরিয়াল’ (সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, শিক্ষামূলক প্রতিবেদন ইত্যাদি) আপলোড করলেন। তার পর সেটির উপর সিস্টেমটি একটা ‘নলেজ গ্রাফ’ তৈরি করবে। তাতে বিষয়টির মূল বিষয়বস্তুগুলি থাকবে।
এর পর বিভিন্ন এআই এজেন্ট মাঠে নামবে। তাদের প্রত্যেকের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হবে ভিন্ন। বিভিন্ন এজেন্টের মতামতেও দেখা যাবে পরিবর্তন।
এআই এজেন্টরা এ বার সে সমস্ত বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করবে। সেই আলোচনা কখনও উত্তেজক তর্কাতর্কিতেও পরিণত হবে।
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে পোস্টিং। আজকাল কোনও ঝামেলাই সমাজমাধ্যমকে ফাঁকি দিতে পারে না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত সেই ইঞ্জিনে ‘পোস্টিং কালচার’ও তুলে ধরা হয়েছে। ‘মিরোফিস’-এর মধ্যেই এআই এজেন্টরা পোস্ট-রিপোস্ট করার খেলা খেলবে।
আলোচনা এবং পোস্টিং, দুটোই পাশাপাশি চলতে থাকবে। অর্থাৎ, ‘মিরোফিস’-এর এআই এজেন্টরা বহুমুখী ক্ষমতার অধিকারী।
তার পর ময়দানে নামবে আসল ‘নেতা’। নাম তার রিপোর্ট এজেন্ট। সে এসে আপনাকে চূড়ান্ত মতামত জানাবে। তবে সেই মতামত আপনার চূড়ান্ত না-ও মনে হতে পারে। হয়তো পাতে দেওয়ার যোগ্যই মনে হল না।
সে ক্ষেত্রে ‘মিরোফিস’-এর কর্মঠ এজেন্টরা পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণে লেগে পড়বে। আবারও নতুন করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা শুরু হবে।
অন্যান্য এআই ইঞ্জিনের থেকে ‘মিরোফিস’ অনেকটাই আলাদা। কাজের ধরনেও রয়েছে ভিন্নতা এবং নতুনত্বের ছোঁয়া। কিন্তু কোনও মধ্যবয়সি এআই বিশেষজ্ঞ এই সিস্টেমের নির্মাতা নন।
চিনের বেজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ বছরের স্নাতকপড়ুয়া গুয়ো হাংজিয়াং ‘মিরোফিস’-এর নির্মাতা। সূত্র অনুযায়ী খবর, মাত্র ১০ দিনে এই সিস্টেমটি তৈরি করেছেন ওই তরুণ।
‘মিরোফিস’ তৈরির জন্য গুয়ো ‘ভাইব কোডিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন। এই পদ্ধতিতে লাইনের পর লাইন কোড না লিখে, কেবল কোডের ভাব প্রয়োগের মাধ্যমে এআই সিস্টেম তৈরি করে ফেলা সম্ভব। সহজ ভাষায় নির্দেশ দিলেই হয়, কোডিং-এর কঠিন নিয়মনিষ্ঠ ভাষার সাহায্য নিতে হয় না।
‘মিরোফিস’ই গুয়ো হাংজিয়াঙের প্রথম নির্মাণ নয়। এর আগে তিনি ‘বেটাফিস’ নামের একটি এআই ইঞ্জিন বানিয়েছিলেন। বড় বড় ব্যবসা, স্বাস্থ্য দফতর প্রভৃতিতে এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণ কী চাইছেন বা সমাজমাধ্যমে কিসের ট্রেন্ড চলছে তা বিচার করতে সাহায্য করে ‘বেটাফিস’। নেটাগরিকদের আবেগ নজরে রাখাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত এই ইঞ্জিনের বিশেষত্ব।
ভবিষ্যতে গুয়া হাংজিয়াং এআই-এর দুনিয়ায় আর নতুন কী নিয়ে আসেন সে দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।
সব ছবি: সংগৃহীত এবং এআই সহায়তায় প্রণীত।