২৮ মার্চ, শনিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) বনাম সানরাইজ়ার্স হায়দরাবাদ (এসআরএইচ) ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে এ বারের আইপিএল। গত বার ট্রফি জিতেছিল আরসিবি। তাই তাদের ঘরের মাঠ, এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হবে এ বারের উদ্বোধনী ম্যাচ।
ঠিক তার পরের দিন, ২৯ মার্চ, রবিবার ওয়াংখেড়েতে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। এ বারের টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল হিসাবে মাঠে নামবে তারা। কিন্তু হার্দিক পাণ্ড্যদের দলে রয়েছে একাধিক ‘সমস্যা’। সেই সমস্যা হল ‘অধিক সন্ন্যাসী’র।
কে নেই মুম্বইয়ে! ওপেনিংয়ে রোহিত শর্মার জায়গা পাকা। কিন্তু তাঁর সঙ্গী কে হবেন? কুইন্টন ডি’কক না কি রায়ান রিকলটন?
সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে এই দু’জনকে দিয়ে শুরু করেছিল সাউথ আফ্রিকা। ডি’ককের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ফর্মে ছিলেন রিকলটনও। পাশাপাশি দু’জনেই উইকেটরক্ষক। তবে শেষ পর্যন্ত হয়তো রোহিতের সঙ্গে দেখা যাবে ডি’কককেই।
তিন নম্বরে দেখা যেতে পারে তিলক বর্মাকে। ভারতীয় বাঁহাতি ঠিক কতটা বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছেন, তা সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপেই দেখা গিয়েছে। ফলে তাঁর জায়গা প্রথম একাদশে পাকা।
চার নম্বরে আসতে পারেন সূর্যকুমার যাদব। বিশ্বকাপজয়ী টি২০ অধিনায়ককে বাইরে রেখে দল সাজাবেন না মুম্বইয়ের কোচ মাহেলা জয়বর্ধনে। নেতৃত্বের বোঝা মাথায় না থাকায় খোলা মনে ব্যাট করতে পারবেন সূর্য।
পাঁচ নম্বরে আসতে পারেন হার্দিক পাণ্ড্য। ভারতের বিশ্বকাপ জেতার অন্যতম কারিগর এই ডানহাতি অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে যেমন ভয়ঙ্কর, বল হাতেও তেমনই। সঙ্গে নেতৃত্বের মুকুট থাকায় আরও বিধ্বংসী অবতারে দেখা যেতেই পারে হার্দিককে।
দ্বিতীয় বিদেশি হিসাবে এর পর থাকতে পারেন উইল জ্যাকস। সেমিফাইনালে তিনি এবং জ্যাকব বেথেল প্রায় হারিয়েই দিচ্ছিলেন ভারতকে। গোটা বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন ইংরেজ অলরাউন্ডার।
তৃতীয় বিদেশি হিসাবে এর পর আসতে পারেন করবিন বশ। বিশ্বকাপে প্রায় প্রত্যেকে ম্যাচেই উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি প্রোটিয়া অলরাউন্ডার।
তবে বশের জায়গায় থাকতে পারেন মিচেল স্যান্টনারও। বাঁহাতি স্পিনের সঙ্গে কিউই অধিনায়ক ব্যাটিংটাও বেশ ভাল করেছেন সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে। কিছুটা হলেও বশের চেয়ে প্রথম একাদশে থাকার বিষয়ে তিনিই এগিয়ে।
এর পর পালা বোলারদের। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আসবে জসপ্রীত বুমরাহের নাম। তাঁকে বাদ দিয়ে দল নামানোর কথা স্বপ্নেও ভাবা সম্ভব নয়। একার হাতে ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে ভারতীয় পেসারের। বিশ্বকাপের ফর্ম ধরে রাখলে দুঃখ আছে বিপক্ষের ব্যাটারদের।
পেস আক্রমণে বুমরাহের সঙ্গী হিসাবে থাকতে পারেন ট্রেন্ট বোল্ট। ডানহাতি বুমরার পাশাপাশি বাঁহাতি কিউয়ি পেসার যে কোনও ব্যাটিং লাইন আপের ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য যথেষ্ট।
তৃতীয় পেসার হিসাবে দলে থাকতে পারেন দীপক চাহার। জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও আইপিএলে দীপকের রেকর্ড ঈর্ষণীয়।
বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসাবে তারকাখচিত মুম্বই দলে থাকতে পারেন ময়াঙ্ক মারকাণ্ডে। আইপিএল কেরিয়ারে ৩৭ উইকেট রয়েছে ময়াঙ্কের।
এর পরেও যাঁরা দলে জায়গা পাবেন না, তাঁরাও কোনও অংশে কম নন। যেমন শেরফিন রাদারফোর্ড বা শার্দূল ঠাকুর। এত তারকা থাকায় যেমন বিপক্ষের মুশকিল দুর্বল জায়গা খুঁজে বার করা, তেমনই অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
ছবি: পিটিআই, রয়টার্স, টুইটার।