বিশ্বকাপের আগে ফর্মে ছিলেন না। কিন্তু দলে সুযোগ পেয়েই জাত চিনিয়েছেন ভারতীয় ব্যাটার এবং উইকেটরক্ষক সঞ্জু স্যামসন। সেমি ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং তার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে তুখোড় ব্যাট করেছেন তিনি। দলের জয় নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪২ বলে ৮৯ রান করেছেন সঞ্জু। হাঁকিয়ে চার-ছয় মেরেছেন। শুরু থেকেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে রেখেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে ফাইনালেও সঞ্জুর থেকে নতুন কোনও ম্যাজিক দেখতে চান ভারতীয় দর্শক।
১ মার্চ সেমিফাইনালে ওঠার জন্য মরণ-বাঁচন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিপক্ষে ৫০ বলে ৯৭ রান করেছিলেন সঞ্জু। অপরাজিত ছিলেন। দায়িত্ব নিয়ে দলকে জেতান তিনি। তবে ম্যাচের পরের একটি মর্মস্পর্শী মুহূর্ত ভাইরাল হয়। ইডেনে ম্যাচের পর সঞ্জুকে ভিডিয়ো কলে কথা বলতে দেখা যায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে।
সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরেই আলোচনা শুরু হয় সঞ্জুর ব্যক্তিগত জীবন এবং স্ত্রী চারুলতা রমেশকে নিয়ে। চারুলতাকে নিয়ে হইচই পড়ে। কে এই চারুলতা? সঞ্জু-ঘরনির পরিচয়ই বা কী?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর তিরুঅনন্তপুরমে চারুলতার জন্ম। পড়াশোনা করেছেন তিরুঅনন্তপুরমেরই একটি স্কুল থেকে। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে মার ইভানিয়োস কলেজে রসায়ন নিয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তি হন তিনি। পরে মানবসম্পদ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন লয়োলা কলেজ অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস থেকে।
ক্রিকবাইটের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারুলতার বাবা বি রমেশ কুমার জনপ্রিয় একটি মালয়ালাম সংবাদপত্রের প্রধান সম্পাদক। মা রাজশ্রী রমেশ এলআইসিতে চাকরি করেন। চারুলতার এক বোনও রয়েছেন।
চারুলতা এবং সঞ্জু— দু’জনেই কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের বাসিন্দা। তাঁদের প্রেমকাহিনি শুরু হয়েছিল তিরুঅনন্তপুরমের মার ইভানিয়োস কলেজে পড়াশোনার সময়।
কলেজে প্রথম দেখা হলেও তার আগে ফেসবুকে আলাপ হয় সঞ্জু-চারুলতার। সাধারণ মেসেজ চালাচালির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁদের। সেই পরিচয় থেকে প্রথমে বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্বের গণ্ডি পেরিয়ে প্রেম হয়।
সঞ্জু যখন ধীরে ধীরে ঘরোয়া ক্রিকেটে জায়গা পাকা করছিলেন, তখন চারুলতাও পড়াশোনায় মনোনিবেশ করছিলেন। পেশাগত জীবনেও সাফল্য পেয়েছেন চারুলতা।
চারুলতার পেশাগত জীবন সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা না গেলেও একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে তিনি একজন উদ্যোগপতি। তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫০-৬০ লক্ষ টাকা।
সঞ্জু এবং চারুলতার ধর্ম ভিন্ন। সঞ্জু এক জন খ্রিস্টান পরিবারের ছেলে। চারুলতা হিন্দু, নায়ার সম্প্রদায়ের মেয়ে। তবে দুই পরিবারই তাঁদের সম্পর্ক মেনে নিয়েছিল।
২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর কেরলের কোভালামে পারিবারিক অনুষ্ঠানে চার হাত এক হয় সঞ্জু-চারুলতার। তাঁদের বিয়েতে কেবল পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বামীর কোনও ম্যাচ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করেন না চারুলতা। প্রায়ই সঞ্জুর আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সময় স্ট্যান্ডে দেখা যায় তাঁকে।
স্বামীকে নিয়ে গর্ব এবং ভালবাসার অন্ত নেই চারুলতার। আর তা বোঝা যায় তাঁর সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলি দেখলেই। গত ডিসেম্বরে তাঁদের বিবাহবার্ষিকীতে সঞ্জুর সঙ্গে কিছু ছবি শেয়ার করে চারুলতা লিখেছিলেন, ‘‘সারা জীবন একসঙ্গে থাকার সাত বছর।’’
ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সঞ্জু টি-টোয়েন্টি শতরান করার পর ইনস্টাগ্রাম স্টোরি শেয়ার করেছিলেন চারুলতা। সেই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার চিরকালের প্রিয় হিরো।’’
সঞ্জুর কঠিন সময়েও তাঁর জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে চারুলতাকে। তাঁকে সমর্থন করতেও দেখা গিয়েছে। নিউ জ়িল্যান্ড সিরিজের সময় ফর্মে ছিলেন না সঞ্জু। ভাল খেলতেও পারেননি। সে সময় গত ২ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে ভারতীয় ব্যাটার স্বামীর জন্য চারুলতা লিখেছিলেন, ‘‘যখন সব কিছু করা হয়ে যায় এবং উত্তরগুলি ম্লান হয়ে যায়, তখন শুধু মাথা নত করুন এবং জীবনকে নিজের কাজ করতে দিন। কারণ কিছু জিনিস মেনে নিতে হয়, ব্যাখ্যা করতে নেই।’’
সেমি ফাইনাল ম্যাচের পরেও সঞ্জুকে নিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে ভোলেননি চারুলতা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের পর স্বামীর কয়েকটি ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘‘এই মানুষটিকে ‘আমার’ বলে ডাকতে পেরে ধন্য এবং চিরকৃতজ্ঞ।’’
চারুলতার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় দু’লক্ষ। তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফিডে ২০০টিরও বেশি পোস্ট রয়েছে। তবে তার বেশির ভাগ পোস্টই স্বামী সঞ্জুকে নিয়ে করা। সমাজমাধ্যমে স্বামীর সাফল্য উদ্যাপন করলেও ব্যক্তিগত জীবন গোপন রাখতেই ভালবাসেন চারুলতা।
সব ছবি: ইনস্টাগ্রাম।