মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া লম্বা চুল। থুতনি, গালে উস্কোখুস্কো দাড়ি, মাথায় গামছা বাঁধা। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের রাস্তায় চা বিক্রি করছেন ভারতীয় তরুণ। আগ্রহ করে সেই চা কিনে খাচ্ছেন বিদেশিরা। কেউ কেউ চায়ের প্রশংসাও করছেন।
আমেরিকায় ওই ভারতীয় তরুণের চা বিক্রির ভিডিয়ো আগেই ভাইরাল হয়েছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নেটপাড়ার। তাঁর পরিচয় এবং গল্প শুনে চমকেও গিয়েছেন নেটাগরিকেরা।
ওই তরুণের নাম প্রভাকর প্রসাদ। আইআইটি স্নাতক তিনি। চাকরি করতেন আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থায়। কিন্তু ছাঁটাই-কোপে চাকরি যাওয়ার পর এখন আমেরিকার রাস্তায় চা বিক্রি করেন প্রভাকর। গড়ে তুলেছেন সফল ব্যবসাও।
আইআইটি স্নাতক থেকে প্রযুক্তিকর্মী হয়ে চা বিক্রেতা হওয়া তরুণ বিহারের বাসিন্দা। আইআইটি খড়্গপুরের ছাত্র। সেই আইআইটি, যাকে দেশের অন্যতম সেরা এবং বৈগ্রহিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলে গণ্য হয়।
আইআইটি পাশ করার পর অন্য অনেকের মতোই প্রযুক্তিশিল্পে কেরিয়ার গড়ার পথ বেছে নিয়েছিলেন প্রভাকর। চলে গিয়েছিলেন আমেরিকায়। মার্কিন প্রযুক্তি খাতে কাজও করতে শুরু করেন।
কিন্তু ২০২৫ সালে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে ছাঁটাইয়ের হিড়িকে চাকরি হারান প্রভাকর। এর পর তাঁর জীবন অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। চাকরি যাওয়ার পর অন্য কর্পোরেট চাকরির পিছনে না ছুটে, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের কৃষিবাজারে মশলা চা এবং পোহা বিক্রি শুরু করেন। চা বিক্রেতা হিসাবে সাফল্যও অর্জন করেন।
বিহারের বাসিন্দা প্রভাকর ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভাল। সুযোগ পেয়ে যান ভারতের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ারও। ডিগ্রি হাতে পেয়ে প্রযুক্তিক্ষেত্রে কেরিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চাকরি নিয়ে চলে যান আমেরিকায়।
আমেরিকা গিয়ে লস অ্যাঞ্জলেসের একটি প্রযুক্তি সংস্থায় চাকরি করছিলেন প্রভাকর। কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি চলে যায় তাঁর। শুধু তিনিই নন, প্রযুক্তিক্ষেত্রে সেই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছিল অনেক কর্মীর চাকরিতেই।
তবে চাকরি খোয়ানোর পর নতুন করে আর চাকরি খোঁজেননি প্রভাকর। পরিবর্তে তাঁর মাথায় খেলে যায় অন্য পরিকল্পনা। চাকরি করার পরিবর্তে রাস্তার ধারে চা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
যেমন ভাবা তেমন কাজ। শীঘ্রই লস অ্যাঞ্জেলেসের কৃষিবাজারে ‘বিহারি চাওয়ালা’ নামে একটি দোকান খোলেন প্রভাকর। সাধারণ চা বিক্রির পরিবর্তে ভারতীয় ধাঁচের মশলা চা এবং চিঁড়ের পোলাও বিক্রি শুরু করেন তিনি।
বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ছোট চায়ের দোকান চালান প্রভাকর। তাঁর চায়ের দোকানটি সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি কাপ মশলা চা ৮ ডলারে বিক্রি করেন প্রভাকর। পোহার দাম বিভিন্ন পরিমাণের জন্য আলাদা আলাদা।
২০২৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলিতে লক্ষ লক্ষ কর্মী ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। বাজারের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরিতে কোপ পড়বে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে প্রভাকরের কাহিনি।
প্রভাকর সমাজমাধ্যমেও সক্রিয়। ইনস্টাগ্রামে ‘চায়েগাই’ নামে জনপ্রিয়। সমাজমাধ্যমের পাতা থেকে ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রভাকর পরামর্শ দিয়েছেন, চাকরি করার থেকে নিজের ব্যবসা করা ভাল। নিজস্ব ব্যবসায় স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার অনুভূতি পাওয়া যায়, যা কর্পোরেট চাকরিতে পাওয়া যায় না বলে তাঁর মত। প্রভাকর এ-ও দাবি করেছেন, বাজারে গ্রাহকদের চা পরিবেশন করা কোনও প্রযুক্তি দফতরে কোড লেখার চেয়ে অনেক ভাল।
সব ছবি: সংগৃহীত।