বাড়ির কাজের লোকের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি। কাজ করতে আসেন বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে! বিহারের কিশনগঞ্জের এসডিপিও গৌতম কুমারের বাসভবনে আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানের পর এ বার প্রকাশ্যে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গৌতম কুমারের সঙ্গে সম্পর্কিত ছ’টি জায়গায় অভিযানের পর তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন চরিত্র উঠে আসছে। এর মধ্যেই ওই মামলায় তাঁর পরিচারিকার নাম যুক্ত হওয়ায় হতবাক বিহারবাসী।
সূত্রের খবর, এসডিপিও গৌতমের মতো তাঁর সরকারি বাসভবনের গৃহকর্মী পারোও আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তের আওতায় এসেছেন। জানা গিয়েছে, পারোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি রয়েছে। একাধিক বাড়িও রয়েছে তাঁর।
এক জন সাধারণ পরিচারিকার এত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কী ভাবে? তা তদন্তকারী সংস্থা থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা— সকলকেই অবাক করেছে। সমাজমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে বিষয়টি নিয়ে।
খবর, গৌতম কুমারের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানের পর সেই মামলায় নতুন মোড় আসে যখন তাঁর পরিচারিকা পারোও এক জন কোটিপতি বলে তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন কিশনগঞ্জের ধর্মগঞ্জের কিলা বাগানের বাসিন্দা পারো এক কোটি টাকা মূল্যের একটি বাংলো তৈরি করিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিনি প্রতি দিন কাজে আসতেন ৩০ লক্ষ টাকার একটি বিলাসবহুল গাড়িতে চেপে।
মাঝেমধ্যে এসডিপিওর সরকারি গাড়িতেও যাতায়াত করতে দেখা যেত তাঁকে। গৌতম কুমার নাকি একটি দামি বাইকও উপহার দিয়েছিলেন পারোকে। তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা দামের একটি সোনার নেকলেসও। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সামান্য এক পরিচারিকার অসামান্য জীবনযাপন তদন্তকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জানা গিয়েছে, পারোর জীবনযাত্রা এক জন সাধারণ পরিচারিকার জীবনযাত্রা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। ইনস্টাগ্রামে খুবই সক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রায়শই দামি বাইকের ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করতেন।
ইনস্টাগ্রামের একটি ভিডিয়োয় পারোকে দেড় লক্ষ টাকা হাতে ধরে থাকতেও দেখা গিয়েছিল। গাড়ি, বাইক এবং এসডিপিও গৌতম কুমার ও তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন পারো।
বিষয়টি তদন্তকারীদেরও নজরে আসে। জানা গিয়েছে, গৌতমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারো তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি লক করে দেন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গৌতমের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই পুরো পরিবার-সহ গা ঢাকা দিয়েছেন পারো। তদন্তকারীরা তাঁকে খুঁজে বার করতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছেন বলেও খবর।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার দল কিশনগঞ্জ, পূর্ণিয়া, পটনা, অররিয়া-সহ গৌতম কুমারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সরকারি বাসভবনে অভিযান চালায়।
সেই অভিযানে ৩৬টি জমির দলিল, সোনা-রুপোর গয়না, দামি ঘড়ি এবং বিলাসবহুল গাড়ির কাগজপত্র উদ্ধার হয়। গৌতমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ৩২ বছরের কর্মজীবনে প্রায় ৮০ কোটি টাকার বেনামি সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন। পূর্ণিয়ায় তাঁর চার তলা বিলাসবহুল বাড়ি, শিলিগুড়িতে একটি চা বাগান এবং নয়ডা ও গুরুগ্রামে ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
গৌতম কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে অপসারণ করা হয় এবং পুলিশ সদর দফতরে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, তাঁকে সাসপেন্ড করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই এ বার প্রকাশ্যে তাঁর পরিচারিকার কোটিপতি হওয়ার খবর।
সব ছবি: সংগৃহীত।