বিশ্ব জুড়ে অনেক চাকরি কেড়ে নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)! এর প্রভাব পড়বে কম-বেশি সব দেশেই। কৃত্রিম মেধা দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে বহু সংস্থাই কর্মীসঙ্কোচনের পথে হাঁটবে। ফলে চাকরির বাজারে হাহাকার দেখা যাবে। উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি পেতে দম বেরোবে তরুণ সমাজের। সম্প্রতি তেমনটাই আশঙ্কা ছড়িয়েছে বিশ্ব জুড়ে।
কৃত্রিম মেধার রমরমার প্রকোপ কি পড়ছে চাকরির বাজারে? এখনও এই নিয়ে অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও ‘চাকরি গেল, চাকরি গেল’ রব চারদিকে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই দাবি করছেন, চাকরির বাজারে ভবিষ্যতে ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কৃত্রিম মেধার আগ্রাসী প্রসারের কারণেই বিভিন্ন সংস্থা মানবসম্পদের বোঝা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে।
বিগত কয়েক বছর যাবৎ চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা-উদ্বেগ চলছেই। তবে এ বার সেই উদ্বেগ আরও প্রকট হল আমেরিকার ধনকুবের তথা প্রযুক্তিবিদ ইলন মাস্কের সংস্থা সংক্রান্ত একটি তথ্য প্রকাশ্যে আসায়।
বুধবার তাঁর নেতৃত্বাধীন সংস্থা টেসলা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্টার্টআপ সংস্থা এক্সএআই-এর একটি যৌথ প্রকল্পের সূচনা করেছেন মাস্ক। ওই প্রকল্পের নাম তিনি দিয়েছেন, ‘ম্যাক্রোহার্ড’ বা ‘ডিজিটাল অপটিমাস’।
‘ম্যাক্রোহার্ড’ প্রকাশ্যে আনার পর মাস্ক দাবি করেছেন, নতুন সেই সিস্টেমটি সফ্টঅয়্যার সংস্থাগুলির কার্যকারিতা অনুকরণ করতে সক্ষম। বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ একটি পোস্টও করেন মাস্ক। মার্কিন ধনকুবের সেই পোস্টে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি এক্সএআই-এর কৃত্রিম মেধা ‘গ্রোক’ মডেলকে টেসলার-উন্নত এআই এজেন্টের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
সিস্টেমটি রিয়্যাল-টাইমে কম্পিউটার স্ক্রিন ভিডিয়ো, কিবোর্ড এবং মাউসের কাজ করতে সক্ষম বলেও জানিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকার প্রযুক্তি সংস্থা অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেল ‘ক্লড’ ইতিমধ্যেই কম্পিউটার-ভিত্তিক বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে।
অর্থাৎ সফ্টঅয়্যার সংস্থাগুলির ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ক্ল়ডের। ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিবিদেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অ্যানথ্রোপিকের এআই মডেলটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক মডেলগুলিকে ব্যাহত করতে পারে। চাকরি যেতে পারে অনেকের। তার মধ্যেই এ বার প্রযুক্তিকর্মীদের মনে নতুন করে ভয় ঢোকাল মাস্কের নয়া প্রকল্প।
মাস্কের এক্সএআই এর আগে ম্যাক্রোহার্ডকে একটি এআই প্রকল্প হিসাবে তৈরি করছিল, যা ডেভেলপারদের মাইক্রোসফ্টের মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সফ্টঅয়্যারের অনুকরণ করার অনুমতি দেবে।
বুধবার ম্যাক্রোহার্ডের সূচনা পর্বে মাস্ক বলেন, ‘‘নীতিগত ভাবে এটি একটি পুরো প্রযুক্তি সংস্থার কার্যকারিতা অনুকরণ করতে সক্ষম। এই কারণেই এই সিস্টেমটিকে ম্যাক্রোহার্ড নাম দেওয়া হয়েছে। মজা করে প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফ্টের নাম উল্টে ম্যাক্রোহার্ড নাম দেওয়া হয়েছে।’’
মাস্ক আরও জানিয়েছেন, সিস্টেমটি টেসলার অভ্যন্তরীণ এআই৪ চিপের উপর চলবে, যা এক্সএআই-এর এনভিডিয়া-ভিত্তিক সার্ভার হার্ডওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত। খরচ কমাতেই ম্যাক্রোহার্ডকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ম্যাক্রোহার্ডের যদি সত্যি সত্যিই একটি প্রযুক্তি সংস্থার পুরো কার্যকারিতা অনুকরণ করার ক্ষমতা থাকে, তা হলে তা ওই সংস্থার সব কর্মীদের একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারবে। কারওরই চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে না।
পাশাপাশি, ওই প্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও আধিপত্য এবং প্রাধান্য কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের ওই অংশ। সে ক্ষেত্রে অনেক কর্মী একসঙ্গে বিপদের মুখে পড়তে পারেন। যদিও এই পুরো বিষয়টিই রয়েছে জল্পনার স্তরে। এখনও তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি মাস্ক এবং তাঁর সংস্থা।
জানুয়ারিতে এক্সএআইতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের জন্য একটি চুক্তি করেছে টেসলা। তার পর পরই ম্যাক্রোহার্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে এল।
মাস্কের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স গত মাসে একটি চুক্তির মাধ্যমে এক্সএআই অধিগ্রহণ করে। সেই চুক্তির পর স্পেসএক্স এবং এক্সএআই-এর বাজারমূল্য গিয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১ লক্ষ কোটি ডলার এবং ২৫০০০ কোটি ডলার।
মার্কিন পেটেন্ট এবং ট্রেডমার্ক অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অগস্টে ম্যাক্রোহার্ডের জন্য একটি ট্রেডমার্ক আবেদন দাখিল করেছিল এক্সএআই।
সব ছবি: ফাইল থেকে।