আশির দশকে তখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন আসেনি। তবুও কম সময়ে দর্শকের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল একটি হিন্দি ধারাবাহিক।
সপ্তাহের মাঝে এক দিন সম্প্রচারিত হত হিন্দি ধারাবাহিকটি। তা দেখতে এলাকার যে বাড়িতে টিভি রয়েছে, সেখানে ভিড় জমে যেত। কিন্তু পরে সেই ধারাবাহিকের বিরুদ্ধেই চাপে নিষেধাজ্ঞা।
বলিপাড়ার জনপ্রিয় পরিচালক ছিলেন রাহুল রাওয়াইল। বড়পর্দার পাশাপাশি আশির দশকে ছোটপর্দার জন্য একটি হিন্দি ধারাবাহিক পরিচালনা করেছিলেন তিনি।
১৯৮৭ সালে দূরদর্শনে সম্প্রচার শুরু হয় ‘হোনী অনহোনী’ নামের এক হিন্দি ধারাবাহিকের। ভাগ্যশ্রী এবং পরীক্ষিৎ সাহনির মতো জনপ্রিয় তারকারা এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন।
প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার ‘হোনী অনহোনী’ ধারাবাহিকটি সম্প্রচারিত হত। কম সময়ের মধ্যে সেই ধারাবাহিকটি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে যায়। কিন্তু এই জনপ্রিয় ধারাবাহিক নিয়ে মামলা হয় আদালতে।
সত্য ঘটনা অবলম্বনে ধারাবাহিকের প্রতিটি পর্বের চিত্রনাট্য নির্মাণ করা হত বলে একাংশের দাবি। কোনও পর্বে পুনর্জন্মের ব্যাখ্যা দেওয়া হত, আবার কোনও পর্বে অলৌকিক বিষয় নিয়ে গল্প বোনা হত। কিন্তু সবই নাকি ছিল সত্য।
ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা দর্শকের মনে কুসংস্কারের বাসা বুনছে, সেই অভিযোগ নিয়ে বম্বে হাই কোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চে মামলা দায়ের করে লোকবিদায়ন সংগঠন নাম এক সমালোচক গোষ্ঠী।
বোম্বে হাই কোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চ প্রাথমিক ভাবে একটি অন্তর্বর্তিকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালতের নির্দেশ মেনে চ্যানেল কর্তৃপক্ষও ধারাবাহিকটি সম্প্রচার করা বন্ধ রাখে।
১৯৮৮ সালে এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। ধারাবাহিকের উপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে উচ্চ আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে, যত ক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিকটি সেন্সর বোর্ডের নির্দেশিকা অনুসরণ করছে এবং নৈতিকতা সম্পর্কিত কোনও আইন লঙ্ঘন করছে না, তত ক্ষণ পর্যন্ত কুসংস্কার প্রচার করার দাবির ভিত্তিতে ধারাবাহিকটিকে নিষিদ্ধ করা যাবে না।
ধারাবাহিকের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেয় সুপ্রিম কোর্ট। আইনি মামলায় জয়ী হওয়ার পর ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
ক্ষণিকের জন্য নিষেধাজ্ঞার পর পুনরায় বহাল তবিয়তে দূরদর্শন চ্যানেলে ফিরে আসে ‘হোনী অনহোনী’ ধারাবাহিকটি।
ভারতীয় টেলিভিশনের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং জনপ্রিয় অতিপ্রাকৃত অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠে আশির দশকের ধারাবাহিক ‘হোনী অনহোনী’।
সব ছবি: সংগৃহীত।