৭৫ টাকা আয় করে কেরিয়ার শুরু। গায়ক হওয়ার স্বপ্নপূরণ করে বর্তমানে কোটি কোটি টাকা সম্পত্তির মালিক বলিউডের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মিকা সিংহ। ৯৯টি বাড়ির মালিকানা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি একটি বিলাসবহুল খামারবাড়িও কিনে ফেলেছেন তিনি।
দিল্লিতে ১০০ একর জমির উপর খামারবাড়ি রয়েছে মিকার। খোলামেলা জায়গায় খামারবাড়ির ভিতরে বিলাসিতার ছোঁয়া থাকার পাশাপাশি রয়েছে গ্রামবাংলার ছোঁয়াও। খামারবাড়িতে নিজের ছোটখাটো শখও পূরণ করেছেন মিকা।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, বন্ধুদের সঙ্গে দিল্লির গুরুগ্রামে দমদমা হ্রদে পিকনিক করতে গিয়ে জায়গাটি তাঁর খুব পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। তখনই সেখানকার গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জমিটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
দমদমা হ্রদ সংলগ্ন খামারবাড়িটি কেনার জন্য ১৯৯৮ সাল থেকে টাকা জমানো শুরু করেছিলেন মিকা। ২০০৫ সালে ২ একর জমি কিনেছিলেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি চারপাশের জমি কিনে খামারবাড়ির আয়তন বৃদ্ধি করতে থাকেন।
শোনা যায়, দিল্লির উপকণ্ঠে এই খামারবাড়িটি কিনতে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন মিকা। খামারবাড়িটি তিনি এমন ভাবে তৈরি করেছেন যা এক নজরে দেখলে ছোট গ্রাম মনে হতে পারে। চারদিকে গাছপালা দিয়ে ঘেরা এই খামারবাড়িটিকে আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসাবেও মনে করেন গায়ক।
খামারবাড়ির ভিতর আলাদা করে গণেশের মন্দিরের পাশাপাশি একটি গুরুদ্বার তৈরি করেছেন মিকা। ২৪ ঘণ্টা সেই গুরুদ্বারে প্রার্থনা চলে।
যাতায়াতের সুবিধার জন্য খামারবাড়িতে একটি হেলিপ্যাড রয়েছে। গান রেকর্ড করার জন্য সেখানে একটি উন্নত মানের স্টুডিয়োও নির্মাণ করেছেন মিকা।
কোনও অনুষ্ঠানের জন্য খামারবাড়ির ভিতর একটি বিশাল অডিটোরিয়াম রয়েছে। সেখানে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার জন অতিথির জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যেতে পারে।
ঘোড়া পুষতে খুব ভালবাসেন মিকা। সে কারণে খামারবাড়িতে একটি আস্তাবল তৈরি করেছেন। সেখানে ১০টি ঘোড়ার পাশাপাশি রয়েছে অনেক গৃহপালিত পশু। তবে ঘোড়াগুলির মধ্যে সুন্দরী নামের ঘোড়াটি সবচেয়ে প্রিয় মিকার।
সবুজে ঘেরা খামারবাড়ির ভিতর চাষাবাদও করা হয়। নিমন্ত্রিত অতিথিরা সেখানকার জমির টাটকা সব্জি দিয়ে করা রান্না খান। তা ছাড়া দুধের খামারও রয়েছে যেখান থেকে টাটকা দুধ এবং ঘি পাওয়া যায়।
১০০ একরের বিশাল সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দিনের বেলা ২০০ জন কর্মী কাজ করেন খামারবাড়িতে। রাতে ৫০ জন কর্মী সেখানে স্থায়ী ভাবে থাকেন। মিকার মতে, এই খামারবাড়িটি প্রায় ১৫০টি পরিবারের জীবিকার সংস্থান করে।
বাহ্যিক চাকচিক্য না থাকলেও বাড়ির ভিতর আভিজাত্যে ভরা। বসার ঘরে সাদা এবং হালকা রঙের সোফার পাশাপাশি বড় বড় জানালা রয়েছে। দেওয়ালে ধর্মেন্দ্র, সানি দেওল-সহ বলিউডের বহু তারকার সঙ্গে মিকার ছবি বাঁধানো রয়েছে।
খামারবাড়ির ভিতর রান্নাঘর থাকলেও বাইরে একটি খোলা রান্নাঘরও রয়েছে। সেখানে উনুনের আঁচে রান্না করার ব্যবস্থা রয়েছে।
শরীরচর্চার জন্য খামারবাড়ির একটি ঘরকে আলাদা ভাবে সাজানো রয়েছে। সেখানে ট্রেডমিলের পাশাপাশি রয়েছে ঘরে ব্যায়াম করার নানা সরঞ্জাম। শরীরচর্চা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সোফাও রয়েছে সেই ঘরে।
শুধুমাত্র এই খামারবাড়িটিই নয়, আয়ের একটি বড় অংশ আবাসন খাতে বিনিয়োগ করেন মিকা। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ভারত এবং বিদেশের বিভিন্ন স্থানে ৯৯ খানা বাড়ি রয়েছে গায়কের।
কীর্তন গেয়ে কেরিয়ার শুরু করেছিলেন মিকা। তার পর একটি ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সেখানে গিটারবাদকের পাশাপাশি নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পীর ভূমিকা পালন করতেন মিকা। গান গেয়ে তাঁর প্রথম উপার্জন ছিল মাত্র ৭৫ টাকা।
১৯৯৮ সালে মিকার প্রথম একক অ্যালবাম মুক্তি পায়। তার পর ২০০৭ সালে ‘জব উই মেট’ ছবিতে গান গেয়ে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যান তিনি। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বলিপাড়ার গুঞ্জন, প্রতিটি ছবিতে গানের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা নেন মিকা।
কোনও অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নেন মিকা। গায়কের বাড়ির গ্যারাজে সারি দিয়ে সাজানো রয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। সেই তালিকায় ৭৬ লক্ষ টাকার ফোর্ড থেকে শুরু করে রয়েছে ১ কোটি টাকা মূল্যের মার্সিডিজ় জিএলএস, ৩ কোটি টাকা মূল্যের ল্যাম্বর্ঘিনি, ৩.৭৫ কোটি টাকা মূল্যের রেঞ্জ রোভারের পাশাপাশি আরও অনেক দামি গাড়ি।
বলিপাড়া সূত্রে খবর, মিকার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। জানা গিয়েছে, গায়ক তাঁর আয়ের একটি বড় অংশ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে সমাজসেবায় খরচ করেন। এই সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত এবং ফরাহ খানের ইউটিউব থেকে নেওয়া।