Pakistan Closer to Islamic NATO

পাকিস্তানের পরমাণু ছাতায় জোটবদ্ধ আরও দুই দেশ, ‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির পথে এগোল ইসলামাবাদ! চাপ বাড়ছে ভারতের?

‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির রাস্তায় আরও এক কদম এগোল ইসলামাবাদ। স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। কোন কোন দেশকে নিয়ে এই সামরিক জোট গঠন করছেন রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলরা?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১০:৫১
০১ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

ইরান সংঘাতের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় ধীরে ধীরে গজিয়ে উঠছে ‘ইসলামীয় নেটো’? পরমাণু সুরক্ষার আশ্বাস দিয়ে ইতিমধ্যেই তিন দেশকে পাশে পেয়েছে পাকিস্তান? সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কপালের ভাঁজ চওড়া হয়েছে নয়াদিল্লির। উদ্বিগ্ন ইজ়রায়েলও। এর জেরে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে আগামী দিনে আরও কাছাকাছি আসতে পারে এই দুই রাষ্ট্র। সেই সম্ভাবনা তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

০২ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

চলতি বছরের ১১ মে স্থানীয় টিভি চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকার দেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। সেখানেই ‘ইসলামীয় নেটো’ গঠনের কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। ইসলামাবাদের দাবি, তাদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক ও কাতার। সেটা বাস্তবের মুখ দেখলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে সম্পূর্ণ নতুন রূপ পাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কারণ, বর্তমানে সৌদি আরবের সঙ্গে এই ধরনের একটি সমঝোতা আছে তাদের।

০৩ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, ‘‘ইসলামাবাদ-রিয়াধ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আমরা তাদের স্বাগত জানাব।’’ পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই দাবি করলেও সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি আঙ্কারা ও দোহা। তবে রাওয়ালপিন্ডির সামরিক জোটে ঢুকে পড়া তাদের পক্ষে একেবারেই আশ্চর্যের নয় বলে মনে করেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক নিহাত আলি ওজ়কান। জনপ্রিয় মার্কিন গণমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর কাছে মুখ খুলেছেন তিনি।

Advertisement
০৪ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

বর্তমানে তুর্কি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘টেপাভ’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ওজ়কান। ‘ব্লুমবার্গ’কে তিনি বলেন, ‘‘জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেই পাক-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হতে চাইছে আঙ্কারা ও দোহা। ইরান যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়ায় ইজ়রায়েলের স্বার্থকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকা। শুধু তা-ই নয়, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার থেকে সৌদি বা কাতারকে কোনও রকম সুরক্ষা দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। অথচ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলিতে রয়েছে তাদের একাধিক বড় বড় সামরিক ঘাঁটি।’’

০৫ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

‘টেপাভ’ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সামরিক বিশেষজ্ঞ ওজ়কান মনে করেন, ইরান যুদ্ধের জেরে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এসেছে বড় বদল। ফলে নতুন করে ‘বন্ধু’ ও ‘শত্রু’দের চিহ্নিত করছে সমস্ত উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্র। ১২৯৯ সাল থেকে পরবর্তী ৬০০ বছর পর্যন্ত ওই এলাকা ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪-’১৮) পর তা ভেঙে গেলে জন্ম হয় আধুনিক তুরস্কের। ‘ইসলামীয় নেটো’র অন্তর্ভুক্ত হয়ে সেই পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়ার বাসনা রয়েছে আঙ্কারার।

Advertisement
০৬ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

এ দেশের সাবেক সেনাকর্তাদের একাংশের ধারণা, পাক-সৌদি চুক্তিতে তুরস্ক ও কাতারের অন্তর্ভুক্তি সম্পূর্ণ একটি নতুন অক্ষ তৈরি করবে। এর চারটি আলাদা আলাদা স্তম্ভ রয়েছে। সেগুলি হল, আঙ্কারার সামরিক অভিজ্ঞতা ও অত্যাধুনিক হাতিয়ার নির্মাণের সক্ষমতা, ইসলামাবাদের পরমাণু অস্ত্র ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, রিয়াধ ও দোহার আর্থিক শক্তি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, উপসাগরীয় রাষ্ট্র দু’টির হাতে রয়েছে খনিজ তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ভান্ডার।

০৭ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

গত বছরের (২০২৫ সাল) সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের সঙ্গে ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ করে পাকিস্তান। সেখানে বলা হয়েছে, এই দুইয়ের মধ্যে কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও শক্তি দ্বারা আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলে, তাকে উভয় দেশের উপর আঘাত বা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। রিয়াধের সঙ্গে সামরিক জোট গঠনের পর থেকেই একে ‘ইসলামীয় নেটো’য় বদলে ফেলার ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে ভারতের পশ্চিমের প্রতিবেশী।

Advertisement
০৮ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-’৪৫) শেষ হতে না হতেই সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ‘ঠান্ডা লড়াই’য়ে জড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় ইউরোপের মাটিতে মস্কোকে ঘিরতে পশ্চিম ইউরোপের বন্ধু দেশগুলিকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করে আমেরিকা। তারই পোশাকি নাম হল ‘নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজ়েশন’ বা নেটো। ১৯৪৯ সালে হওয়া এই সমঝোতার পাঁচ নম্বর অধ্যায়ে বলা আছে, যদি কোনও সদস্য রাষ্ট্র অন্য কোনও দেশ বা জোট দ্বারা আক্রান্ত হয়, তা হলে সকলেই সেটাকে যুদ্ধ বলে বিবেচনা করবে।

০৯ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

গোড়ায় মাত্র ১২টি দেশকে নিয়ে নেটো গড়ে তোলে আমেরিকা। কিন্তু, নিরাপত্তার আশ্বাস থাকায় পরবর্তী কালে এই সৈন্যচুক্তিতে যোগ দেয় ইউরোপের আরও কয়েকটি রাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে রাশিয়া-সহ ১৫টি দেশে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে দ্রুত কলেবরে বাড়তে থাকে নেটো। বর্তমানে এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মোট ৩২টি রাষ্ট্র। এর মধ্যে অন্যতম হল তুরস্ক। ১৯৫২ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন এই জোটে যোগ দেয় আঙ্কারা।

১০ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

নেটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে তুর্কি ফৌজই আকারে সবচেয়ে বড়। শুধু তা-ই নয়, গত কয়েক বছরে একের পর এক অত্যাধুনিক ফৌজি ড্রোন তৈরি করে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে আঙ্কারা। এর মধ্যে অন্যতম হল ‘বের‌্যাক্টর টিবি-২’। আর্মেনিয়া-আজ়ারবাইজ়ান এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জাত চিনিয়েছে ‘ইউরোপের রুগ্ন মানুষ’টির এই হাতিয়ার। গত বছর (২০২৫ সাল) ডিসেম্বরে পাইলটবিহীন যান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে লড়াকু জেট ধ্বংসের সফল পরীক্ষা চালায় তারা।

১১ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম বার একটি ‘হাইপারসনিক’ (শব্দের পাঁচ গুণের চেয়ে গতিশীল) ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রকাশ্যে আনেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান। হাতিয়ারটির নাম ‘টাইফুন ব্লক-৪’ রেখেছে আঙ্কারার বাহিনী। দেশের অন্যতম বড় শহর ইস্তানবুলে চলা ‘আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্প মেলা’য় প্রদর্শিত হয় সেটি। সূত্রের খবর, সাড়ে ছ’মিটার লম্বা ‘টাইফুন ব্লক-৪’-এর পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার। বিস্ফোরকবোঝাই অবস্থায় এর ওজন ২,৩০০ কেজি বলে জানা গিয়েছে।

১২ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

এ ছাড়া পঞ্চম প্রজন্মের ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তির ‘কান’ নামের একটি লড়াকু জেট তৈরির জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই চেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। যদিও এখনও তাতে সাফল্য পায়নি তারা। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে ইসলামাবাদের। গত বছর (২০২৫ সাল) জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলায় ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু হলে পশ্চিমের প্রতিবেশী দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায় ভারত। এর সাঙ্কেতিক নাম রাখা হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’।

১৩ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

এই সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারত-পাক ‘যুদ্ধ’ বাধলে তুরস্কের খোলা সমর্থন পায় ইসলামাবাদ। ওই সময় রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলদের হাতে বিপুল সংখ্যায় ড্রোন তুলে দেয় আঙ্কারা। ফলে ‘ইসলামীয় নেটো’ গঠিত হলে নয়াদিল্লি যে প্রবল চাপের মুখে পড়বে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। পাশাপাশি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে ইজ়রায়েল, আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বলছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

১৪ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

‘দ্য ইউরেশিয়ান টাইম্‌স’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে বিষয়টি খোলসা করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল অনিল চোপড়া। তাঁর কথায়, ‘‘নয়াদিল্লির জন্য ইসলামীয় নেটো কোনও তাৎক্ষণিক হুমকি নয়। কিন্তু এর জন্য আমাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। সামরিক ও গুপ্তচরবৃত্তির নিরিখে বহু ক্ষেত্রে তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা। পাল্টা গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারি বাড়িয়েছে ভারত।’’

১৫ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

অবসরপ্রাপ্ত বায়ুসেনাকর্তা অনিল চোপ়ড়া মনে করেন, আগামী দিনে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ইজ়রায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের সঙ্গে আরও বেশি সমন্বয় বাড়াবে ভারত। আথেন্স এবং আর্মেনিয়ার মতো দেশগুলির হাতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তুলে দিতে পারে নয়াদিল্লি। তা ছাড়া যৌথ সামরিক উৎপাদনের জন্য আমিরশাহির সঙ্গে ‘কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারির রূপরেখা’ চুক্তি করেছে কেন্দ্র। এ বছরের ১৫ মে আবু ধাবি সফরে গিয়ে ওই সমঝোতা করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

১৬ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

‘ইসলামীয় নেটো’ তৈরির রাস্তায় বেশ কয়েকটা কাঁটাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, সম্ভাব্য জোটটির অন্তর্গত চারটি রাষ্ট্রের উপরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত প্রভাব রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় প্রভাব বজায় রাখতে হলে ইজ়রায়েলের স্বার্থ বিঘ্নিত করা আমেরিকার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এই সৈন্যচুক্তি গড়ে উঠছে বুঝতে পারলে তুরস্ককে নেটো থেকে বহিষ্কার করতে পারে ওয়াশিংটন। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমি দুনিয়ায় আর্থিক নিষেধাজ্ঞার চাপও সহ্য করতে হতে পারে আঙ্কারাকে।

১৭ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

দ্বিতীয়ত, পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। সঙ্গে সঙ্গে আরব রাষ্ট্রগুলির মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা প্রত্যাঘাত শানায় তেহরান। তাদের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে রিয়াধের তেল শোধনাগারেও। কিন্তু, চুক্তির শর্ত মেনে তড়িঘড়ি সাবেক পারস্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেনি পাকিস্তান।

১৮ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

উল্টে, বর্তমানে ইরান যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। তবে সেখানেও তাদের পাল্লা পুরোপুরি ঝুঁকে আছে আমেরিকার দিকে। কৃত্রিম উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে আবার ইসলামাবাদের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তেহরানের সামরিক বিমান দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ফলে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলরা কাকে কতটুকু সাহায্য করবেন, তা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা।

১৯ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

তৃতীয়ত, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে বাদ দিলে বাকি দু’টি দেশের সামরিক শক্তি বলার মতো নয়। কাতারের ভিতরে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। সৌদি আরবের অবস্থাও তথৈবচ। অন্য দিকে ‘ইসলামীয় নেটো’ চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা নেই আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের। ‘আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার’ বা আইএমএফের থেকে পাওয়া ঋণের দয়ায় দেশ চালাতে হচ্ছে তাদের।

২০ ২০
Islamabad indicates that Qatar and Turkey are planning to join Pakistan Saudi Arabia defence pact which may create Islamic NATO

সব শেষে অবশ্যই বলতে হবে ইজ়রায়েলের কথা। ইহুদি রাষ্ট্রটির পক্ষে সৌদি আরব বা তুরস্কের মাটিতে পাক পরমাণু হাতিয়ারের মোতায়েন মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সম্ভাব্য চুক্তিতে সেই আশঙ্কা ষোলো আনা। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত ‘ইসলামীয় নেটো’ খোয়াজা আসিফরা গড়ে তুলতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

ছবি: সংগৃহীত ও প্রতীকী।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি