কপূর পরিবারের পুত্র তাঁর তৎকালীন প্রেমিকাকে ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু পরিচালকের বিশেষ নজর ছিল নবাগতার প্রতি। তারকা-কন্যা থেকে শুরু করে রণবীর কপূরের প্রেমিকা, সবাইকে এড়িয়ে বলি পরিচালক অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই তরুণীকে। তার পর থেকেই নাকি পরিচালক এবং তাঁর প্রিয় পাত্রীর উপর ক্ষুণ্ণ হয়ে গিয়েছিলেন রণবীর। এখন অবশ্য বলিউড থেকে প্রায় হারিয়েই গিয়েছেন পল্লবী শরদা।
১৯৯২ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্ম পল্লবীর। তাঁর বাবা-মা দু’জনেই আইআইটি থেকে স্নাতক। দু’জনেই অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। বড় ছেলের জন্মের পর আশির দশকে তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। পার্থে জন্ম হলেও পল্লবীর বেড়ে ওঠা মেলবোর্নে। সেখানেই স্কুল-কলেজের পড়াশোনা শেষ করেছেন তিনি।
মাত্র তিন বছর বয়স থেকে ভরতনাট্যমের প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন পল্লবী। ওডিসি নৃত্যেও পারদর্শী তিনি। বিদেশের বহু জায়গায় নাচের অনুষ্ঠান করেছেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে আইন নিয়ে ডিপ্লোমা করেন এবং পরবর্তী কালে মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটি থেকে আধুনিক ভাষাতত্ত্ব এবং মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস নিয়ে স্নাতক হন পল্লবী।
শৈশব থেকেই অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল পল্লবীর। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। তার পর স্বপ্নপূরণের জন্য অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে মুম্বই চলে যান তিনি। ২০১০ সালে শাহরুখ খান এবং কাজল অভিনীত ‘মাই নেম ইজ় খান’ ছবিতে একটি ছোট্ট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান পল্লবী। একই বছরে মনোজ বাজপেয়ীর সঙ্গে ‘দশ তোলা’ নামের একটি ছবিতে অভিনয় করেন।
পরে আয়ুষ্মান খুরানা এবং মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ‘হাওয়াইজ়াদা’ ছবিতে, বিদ্যা বালনের সঙ্গে ‘বেগম জান’ এবং দেব পটেলের সঙ্গে ‘লায়ন’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায় পল্লবীকে। এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার একাধিক টেলিভিশন সিরিজ় এবং ছবিতে অভিনয় করতে থাকেন তিনি। ২০১৩ সালে বলিউডে মুখ্যচরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
২০১৩ সালে অনুরাগ কশ্যপের ভাই অভিনব কশ্যপের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘বেশরম’। কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে, এই ছবিতে রণবীর কপূরের বিপরীতে অভিনয় করার কথা ছিল শত্রুঘ্ন সিন্হার কন্যা সোনাক্ষী সিন্হার। কিন্তু পরিচালকের তা মনে ধরেনি।
রণবীর আবার চেয়েছিলেন, তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা ক্যাটরিনা কইফ নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করুন। সে কথা পরিচালকের কাছেও পেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু রণবীরের কথায় রাজি হননি অভিনব। সোনাক্ষী এবং ক্যাটরিনাকে বাদ দিয়ে তিনি পছন্দ করেছিলেন পল্লবীকে। এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে বড়পর্দায় বড় কাজের সুযোগ পান পল্লবী।
শোনা যায়, ক্যাটরিনাকে অভিনয়ের সুযোগ না দেওয়ায় অভিনবের প্রতি ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন রণবীর। এমনকি, শুটিং চলাকালীন পল্লবীর সঙ্গে বেশি মেলামেশাও করতেন না তিনি। ছবির প্রচারানুষ্ঠানে পৌঁছেও কোনও রকমে দায়িত্ব পালন করে সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন রণবীর। ঘনিষ্ঠমহলের দাবি, ‘দরকারি কাজ’ থাকায় প্রচারানুষ্ঠানেও বেশি সময় দিতে পারেননি রণবীর।
‘বেশরম’ ছবির শুটিং চলাকালীন অভিনবের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই দেখা যেত পল্লবীকে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, ১৭ বছরের বড় পরিচালকের সঙ্গে গোপনে প্রেম করছেন পল্লবী। ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকার কারণেই নাকি ছবিতে নায়িকার চরিত্রটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু পরে সেই গুঞ্জনে জল ঢেলে দিয়েছিলেন পল্লবী নিজেই। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিনবকে তিনি ‘গুরু’র নজরে দেখেন। তা ছাড়া পরিচালকের সঙ্গে অন্য কোনও রকম সম্পর্ক নেই।
বক্সঅফিসে ‘বেশরম’ ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়ে। একই সঙ্গে বলিউডে শেষ হয়ে যায় পল্লবীর সদ্য গড়ে তোলা কেরিয়ারও। এর পর বড়পর্দায় তাঁকে দেখা গেলেও খুবই ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যেতে থাকে। ২০২২ সালে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ওয়েডিং সিজ়ন’ ছবিতে শেষ অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে।
২০২৩ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার চলচ্চিত্র নির্মাণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত এক সংস্থার সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হন পল্লবী। তা ছাড়া বিভিন্ন ধরনের সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও নিজেকে যুক্ত রেখেছেন নায়িকা।
সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন পল্লবী। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ৪ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
সব ছবি: সংগৃহীত।