তখনও বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। তার মাসখানেক আগে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটের তারকা স্পিনার যুজবেন্দ্র চহালের। মাঝেমধ্যেই জোড়ায় দেখা যেত তাঁদের। কিন্তু সেই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। সমাজমাধ্যমের পাতায় তরুণীর সঙ্গে আড়ি করে দেন যুজবেন্দ্র। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে আবার অন্য তরুণীর সঙ্গে দেখা গেল তাঁকে। তার পর থেকেই ক্রিকেটারের নতুন বান্ধবীকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের এক নামী রেস্তরাঁর নীচের পার্কিং লটে যুজবেন্দ্রের সঙ্গে ছিলেন তাঁর নতুন বান্ধবী। ক্রিকেটতারকার পরনে ছিল কালো শার্ট নীল ডেনিম। সেই তরুণীর পরনে ছিল কালো ড্রেস। দু’জনকে একসঙ্গে দেখে ছবি তুলতে শুরু করেছিলেন আলোকচিত্রীরা। যদিও ছবিশিকারিদের ভিড় দেখে গাড়িতে উঠে পড়েছিলেন যুজবেন্দ্র। ক্রিকেটারের নতুন বান্ধবী শেফালী বগ্গা।
১৯৯৪ সালের জুলাই মাসে নয়াদিল্লিতে জন্ম শেফালীর। বাবা-মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে সেখানেই থাকতেন তিনি। দিল্লি থেকেই স্কুল এবং কলেজের পড়াশোনা শেষ করেন তিনি।
২০১১ সালে এক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন শেফালী। চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছোতে না পারলেও প্রথম একাদশ প্রতিযোগীর তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেন তিনি।
স্নাতক হওয়ার পর ভারতের এক নামকরা সংবাদমাধ্যমের অফিসে চাকরিতে যোগ দেন শেফালী। তার পর সংবাদমাধ্যমের চ্যানেলে স়ঞ্চালনা করতেও শুরু করেন তিনি।
খেলাধুলার মাঠে সঞ্চালনা করার সুযোগ পান শেফালী। ধীরে ধীরে খেলাধুলা সংক্রান্ত নানা অনুষ্ঠানেও দেখা যেতে থাকে তাঁকে। পেশার খাতিরে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক সম্পর্ক তৈরি হয় তাঁর।
২০১৯ সালে ছোটপর্দার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে দেখা যায় শেফালীকে। ‘বিগ বস্’-এর ত্রয়োদশ সিজ়নে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। চূড়ান্ত পর্বে তিনি পৌঁছোননি বটে। তবে অন্য এক প্রতিযোগীর সঙ্গে নাম জড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর।
‘বিগ বস্ ১৩’-এর প্রতিযোগী ছিলেন সিদ্ধার্থ দে। কানাঘুষো শোনা যায়, শো চলাকালীন নাকি সিদ্ধার্থের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন শেফালী। দুই প্রতিযোগীর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা চললেও পরে শেফালী সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে সিদ্ধার্থের খুব ভাল বন্ধুত্ব রয়েছে। তার বেশি কিছু নয়।
নেটপ্রভাবী ফয়জ়ুর সঙ্গেও নাম জড়িয়ে পড়ে শেফালীর। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের দু’জনকেও একসঙ্গে নানা জায়গায় দেখা যায়।
পরে জানা যায়, ফয়জ়ুর সঙ্গে শেফালীর সময় কাটানোর সমস্তটাই প্রচারমূলক। ওটিটির পর্দায় মুক্তি পাওয়া একটি ডেটিং রিয়্যালিটি শোয়ের সঞ্চালক ছিলেন দু’জন। সেই শোয়ের প্রচার করতেই ফয়জ়ুর সঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন শেফালী।
গুঞ্জন শোনা যেতে থাকে, আরভ জৈন নামে এক তরুণের সঙ্গেও নাকি প্রেম করতেন শেফালী। পেশায় কাপড়ের ব্যবসায়ী আরভ। যদিও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকাই পছন্দ করেন শেফালী। তাই আরভ প্রসঙ্গে কখনওই কোনও রকম মন্তব্য করেননি তিনি।
সম্প্রতি যুজবেন্দ্রের সঙ্গে এক ফ্রেমে ধরা পড়ে যাওয়ার পর শেফালীর ‘প্রেমিকের’ তালিকায় ক্রিকেটারের নামও জুড়ে গিয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ কোনও মন্তব্য করেননি।
২০২০ সালে বিয়ে হয়েছিল যুজবেন্দ্র-ধনশ্রীর। কিন্তু পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন দু’জনেই। বিয়ের পাঁচ বছর পর আলাদা হয়ে যান তাঁরা। ১৮ মাস আলাদা থাকার পর বিবাহবিচ্ছেদ হয় চহাল এবং ধনশ্রীর।
বিবাহবিচ্ছেদের এক মাসের মধ্যেই নতুন বান্ধবীর সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় যুজবেন্দ্রকে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে দুবাইয়ে ভারত-নিউ জ়িল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন আরজে মহবশের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ক্রিকেটারকে।
পেশায় বেতার সঞ্চালিকা মহবশ। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ দিন মেলামেশার পর সেই সম্পর্কেও ছেদ পড়ে যুজবেন্দ্রের। সম্প্রতি পরস্পরকে সমাজমাধ্যমে ‘আনফলো’ করে দিয়েছেন তাঁরা। তার পরেই প্রবেশ হয় শেফালীর।
যুজবেন্দ্র এবং শেফালীর সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহলের সীমা নেই। ক্রিকেটারের সঙ্গে একান্তই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ সারতে গিয়েছিলেন না তাঁকে ডেট করছেন— তা এখনও প্রশ্নই রয়ে গিয়েছে।
সব ছবি: সংগৃহীত।