বলিপাড়ার ‘শোম্যান’ তিনি। হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগের জনপ্রিয় অভিনেতা। অভিনয়ের কারণে সকলের মনে জায়গা করে নিলেও ব্যক্তিগত জীবনে সুখ ছিল না বলি অভিনেতা রাজ কপূরের। একের পর এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তেন তিনি। তারকা-স্বামীর এই স্বভাব সহ্য করতে না পেরে সন্তানকে নিয়ে ঘর ছাড়েন রাজের স্ত্রী।
১৯৪৬ সালে কৃষ্ণা মলহোত্রকে বিয়ে করেছিলেন রাজ। বিয়ের এক বছরের মাথায় নার্গিসের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। চল্লিশের দশক থেকে পঞ্চাশের দশকের মধ্যে রাজ এবং নার্গিসের সম্পর্ক নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়।
শোনা যায়, বেডরুমে নাকি নার্গিসের ছবি বাঁধিয়ে রেখেছিলেন রাজ। তবে, তার পাশাপাশি ছিল আরও এক বলি নায়িকার ছবি। তিনি বৈজয়ন্তীমালা। বলিপাড়ার গুঞ্জন, নার্গিসের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর নাকি বৈজয়ন্তীমালার প্রেমে পড়েছিলেন রাজ।
১৯৬৪ সালে রাজের পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘সঙ্গম’। এই ছবিতে পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছিলেন রাজ। রাজের বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল বৈজয়ন্তীমালাকে। শোনা যায়, এই ছবির শুটিং চলাকালীন দুই তারকার মধ্যে গভীর সখ্য গড়ে উঠেছিল।
‘সঙ্গম’-এর সেট থেকে রাজ এবং বৈজয়ন্তীমালার সেই বন্ধুত্ব প্রেমে গড়িয়ে যেতেও বেশি সময় লাগেনি। বলিপাড়ার অনেকেই দুই তারকার পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে শুরু করেন। সে কথা পৌঁছে যায় রাজের স্ত্রী কৃষ্ণার কানেও।
তারকা স্বামী একের পর এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছেন, তা জানতে পেরে স্থির থাকতে পারেননি কৃষ্ণা। রাজ যদি বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে সম্পর্ক না ভাঙেন তা হলে সংসার ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দেন কৃষ্ণা। করেনও তা-ই।
২০১৭ সালে প্রকাশিত রাজ-কৃষ্ণার পুত্র ঋষি কপূর তাঁর আত্মজীবনী ‘খুল্লম খুল্লা আনসেন্সর্ড’-এ বাবা-মায়ের সংসারজীবনের টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করেছেন। সেই প্রসঙ্গে রাজের একাধিক বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন ঋষি।
ঋষির দাবি, নাবালক অবস্থা থেকেই বাবা-মায়ের সংসারে অশান্তি দেখে বড় হয়েছেন তিনি। সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে রাজের পরকীয়ার কথা জানতে পেরে মাঝেমধ্যেই কৃষ্ণা অশান্তি করতেন। নার্গিসের পর বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে স্বামীর সম্পর্কের কথা জানতে পেরে আর স্থির থাকতে পারেননি কৃষ্ণা।
ঋষি তাঁর বইয়ে লিখেছিলেন, মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের কাছে একটি হোটেলে তাঁকে নিয়ে চলে গিয়েছিলেন কৃষ্ণা। সেই হোটেলেই সাড়ে চার মাস ছিলেন দু’জনে। তখন অবশ্য ঋষি খুবই ছোট।
স্বামী অন্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন জেনে আর বাড়ি ফিরতে চাননি কৃষ্ণা। সাড়ে চার মাস হোটেলে থাকার পর মুম্বইয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ঋষিকে নিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। স্ত্রীর জেদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেননি রাজ।
পাছে সংসার ভেঙে যায়, সেই ভয়ে কৃষ্ণাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন রাজ। কিন্তু স্বামীকে ভরসা করতে পারেননি কৃষ্ণা। বাড়ি ফেরার আগে রাজকে একটি শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। সেই শর্তে রাজি হলে তবেই তিনি রাজের সঙ্গে বাড়ি ফিরবেন, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন কৃষ্ণা।
বলিপাড়ার গুঞ্জন, বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে সমস্ত রকম যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন কৃষ্ণা। স্ত্রীর মান ভাঙাতে সেই শর্তে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন রাজ। বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি।
শুধু তা-ই নয়, ‘সঙ্গম’-এর পর বৈজয়ন্তীমালার সঙ্গে অন্য কোনও ছবিতে অভিনয় করতেও দেখা যায়নি রাজকে। বৈজয়ন্তীমালা অবশ্য তাঁর আত্মজীবনীতে রাজের সঙ্গে তাঁর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছিলেন।
বৈজয়ন্তীমালা লিখেছিলেন, ‘‘আমার সঙ্গে রাজের কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। সবটাই মনগড়া। আসলে, ‘সঙ্গম’ ছবির প্রচারের জন্য অনেকেই আমাদের নিয়ে ভুলভাল তথ্য ছড়াতে শুরু করেছিলেন। আমার কোনও কথাই কেউ শুনতে চাননি।’’
রাজের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের কথা অস্বীকার করায় বৈজয়ন্তীমালার উপর খানিকটা রেগে গিয়েছিলেন ঋষি। তাঁর কথায়, ‘‘আমি তো সব দেখেছিলাম। সত্য ঘটনা কী ভাবে মিথ্যার প্রলেপ দিয়ে পেশ করা যায়? আজ বাবা বেঁচে নেই বলে তিনি প্রতিবাদও করতে পারবেন না। সত্য প্রকাশ্যে আনার মতো কেউ নেই।’’
কপূর পরিবারের চিকিৎসক ছিলেন চমনলাল বালি। বলিপাড়া সূত্রে খবর, ১৯৬৮ সালে চমনলালকে বিয়ে করার পর অভিনয়জগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন বৈজয়ন্তীমালা। চেন্নাইয়ে গিয়ে নাচ নিয়ে কেরিয়ার গড়ে তোলেন তিনি।
সব ছবি: সংগৃহীত।