কখনও দক্ষিণী ছবিতে অভিনয়, কখনও আবার হিন্দি ধারাবাহিকে মুখ দেখানো। তবে, জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোয়ে অংশগ্রহণ করে পরিচিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন জিয়া শঙ্কর। সম্প্রতি ‘বিগ বস্’ খ্যাত এলভিশ যাদবের বাগ্দত্তা হিসাবে নতুন করে প্রচারে এসেছেন জিয়া।
১৯৯৫ সালের এপ্রিলে মুম্বইয়ে জন্ম জিয়ার। তাঁর মা পেশায় কেশসজ্জাশিল্পী। জিয়ার যখন মাত্র ১৩ বছর বয়স, তখন তাঁর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাঁর প্রভাব পড়ে জিয়ার ব্যক্তিগত জীবনেও।
বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের কারণে জিয়া নাকি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। কারও সঙ্গে মেলামেশা করতে বিশেষ পছন্দ করতেন না তিনি। নিজের মতো থাকতেই বেশি পছন্দ করতেন।
ছোটবেলা থেকে খেলাধুলোর প্রতি আগ্রহ ছিল জিয়ার। খো-খো খেলার পাশাপাশি জিমন্যাস্টিক্সের প্রতিও ঝোঁক ছিল। কিন্তু পরে অভিনয় নিয়ে কেরিয়ার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
বলি অভিনেতা অনুপম খেরের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিনয় শিখতে শুরু করেন জিয়া। সেখানেই লোকজনের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে মিশতে শেখেন তিনি। তবে, কলেজে পড়াকালীন সহপাঠীদের কাছে বার বার হেনস্থার শিকার হতেন তিনি।
জিয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, তিনি সাজগোজ করতে খুব ভালবাসেন। কিন্তু তাঁর সাজের ধরন নিয়ে হাসাহাসি করতেন সহপাঠীরা। প্রকাশ্যে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য করতেন। প্রথম দিকে খারাপ লাগলেও পরে সেই সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে নিজেকে নিয়েই মজা করতে শুরু করে দিয়েছিলেন জিয়া। এই ঘটনার পর ধীরে ধীরে কলেজের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
২০১৩ সালে তেলুগু ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান জিয়া। তার পর তেলুগুর পাশাপাশি তামিল এবং মরাঠি ছবিতেও অভিনয় করতে দেখা যায় তাঁকে।
একাধিক মিউজ়িক ভিডিয়োয় অভিনয় করেছেন জিয়া। শুধু তা-ই নয়, ২০১৫ সাল থেকে কখনও হিন্দি ধারাবাহিকে, কখনও আবার অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা হিসাবে ছোটপর্দায় কাজ করেছেন তিনি।
২০২৩ সালে ‘বিগ বস্ ওটিটি ২’-তে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন জিয়া। সেখান থেকেই ভাল পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি। এই প্রতিযোগিতায় ষষ্ঠ স্থানের অধিকারী ছিলেন জিয়া।
জনশ্রুতি, ‘বিগ বস্ ওটিটি ২’-এর প্রতিযোগী মনীষা রানির মানহানির জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করেছিলেন জিয়া। মনীষা পেশায় ছিলেন নৃত্যশিল্পী এবং নেটপ্রভাবী। মনীষার নামে ভুল খবর রটানোর জন্য নাকি এক আলোকচিত্রশিল্পীকে ৪ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন জিয়া।
প্রতিযোগিতায় হারজিতের জন্য জিয়া এত নীচে নামতে পারেন জেনে মনীষার অনুরাগীরা জিয়াকে সমাজমাধ্যমেই আক্রমণ করতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু জিয়া দাবি করেন, এ সব মিথ্যা।
‘বিগ বস্ ওটিটি ২’-এর বিজয়ী ছিলেন এলভিশ যাদব। কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে, এলভিশকে বিয়ে করছেন জিয়া। কয়েক দিনের মধ্যে বাগ্দান পর্বও নাকি সেরে ফেলবেন দু’জনে।
বাগ্দানের খবর ছড়ালে এলভিশ খোলসা করে জানিয়ে দেন যে, প্রচারে থাকার জন্য মিথ্যা খবর ছড়ানো হয়েছিল। আসলে, এলভিশ এবং জিয়া দু’জনে একটি নতুন ধরনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করতে চলেছেন। সেই অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্যই না কি ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল।
ভুল বোঝাবুঝির কারণে বহু সম্পর্কই ভেঙে যায়। পরে আর যুগলেরা তা নিয়ে আলোচনাও করতে চান না। সেই অনুষ্ঠানের প্রতিযোগী হিসাবে এমন যুগলেরা অংশগ্রহণ করবেন, যাঁরা একসময় সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু নানা কারণে সেই সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছে। এলভিশ এবং জিয়া সেই অনুষ্ঠান সঞ্চালনার মাধ্যমে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করবেন।
সমাজমাধ্যমে নিজস্ব অনুরাগীমহল তৈরি করে ফেলেছেন জিয়া। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামের পাতায় জিয়ার অনুগামীর সংখ্যা ৩৭ লক্ষের গণ্ডি পার করে ফেলেছে।
সব ছবি: সংগৃহীত।