আইপিএল শুরুর আগে মালিকানা বদল হল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র। ভারতের সুপরিচিত আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম মঙ্গলবার ১৭৮ কোটি ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকারও বেশি) কিনে নিয়েছে বিরাট কোহলিদের দল। এই কনসোর্টিয়ামে টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ, ডেভিড ব্লিটজ়ারের বোল্ট ভেঞ্চারস এবং আমেরিকার বিনিয়োগ সংস্থা ব্ল্যাকস্টোন গোষ্ঠীও রয়েছে।
একই দিনে বিক্রি হয়েছে রাজস্থান রয়্যালসও। ১৬৩ কোটি ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ২৮৫ কোটি) বিক্রি হয়ে গিয়েছে দলটি। বৈভব সূর্যবংশীদের নতুন মালিক আমেরিকার ব্যবসায়ী কাল সোমানির নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দু’দলের মোট মূল্য দাঁড়াল প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা! বিষয়টি জানার পরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রীড়াজগতে।
আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামটি ব্রিটেনের অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা ডিয়াজিয়ো পিএলসি-র সহযোগী সংস্থা ইউনাইটেড স্পিরিটস লিমিটেড (ইউএসএল)-এর সঙ্গে আরসিবির পুরুষ এবং মহিলা— উভয় দলেরই পুরো মালিকানা অধিগ্রহণের জন্য একটি চুক্তি করে। সেই চুক্তির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। জানা গিয়েছে এই অধিগ্রহণের পর ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির নতুন চেয়ারম্যান হবেন আর্যমান বিড়লা।
কিন্তু কে এই আর্যমান? তিনি প্রাক্তন ক্রিকেটার। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লার পুত্র তিনি। ২৮ বছর বয়সি প্রাক্তন ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে মধ্যপ্রদেশের হয়ে খেলেছেন।
আর্যমান একসময় আরসিবি অধিনায়ক রজত পাটিদার এবং ভেঙ্কটেশ আইয়ারের মতো খেলোয়াড়ের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নিয়েছেন। আইপিএলের নিলামে কেনাও হয়েছিল তরুণ এই প্রাক্তন ক্রিকেটারকে। কিনেছিল রাজস্থান রয়্যালস।
বাঁহাতি ব্যাটার আর্যমান মধ্যপ্রদেশের হয়ে নয়টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন। ৪১৪ রানও করেছেন, যার মধ্যে ইডেন গার্ডেন্সে বাংলার বিপক্ষে একটি শতরান রয়েছে তাঁর। চারটি লিস্ট-এ ম্যাচে ৩৬ রান করেছেন তিনি।
আইপিএল ২০১৮-এর মেগা নিলামে অংশ নিয়েছিলেন আর্যমান। রাজস্থান রয়্যালস তাকে ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজ়িটির হয়ে একটিও ম্যাচ খেলেননি তিনি। ২০২০ সালের আগেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই একই সময়ে ‘ভয়ঙ্কর মানসিক উদ্বেগ’-এর সঙ্গে মোকাবিলার জন্য ক্রিকেট থেকে বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর্যমান। সেই সময় একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘আমার মনে হচ্ছে আমি আটকে পড়েছি। এত দিন পর্যন্ত সমস্ত কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমি নিজেকে ঠেলে নিয়ে গিয়েছি। কিন্তু এখন আমার মনে হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখা প্রয়োজন।’’
আর্যমান আরও লিখেছিলেন, ‘‘আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব পথচলা রয়েছে এবং আমি এই সময়টা নিজেকে আরও ভাল ভাবে বুঝতে, নতুন ও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের জন্য মনকে উন্মুক্ত করতে এবং আমার উপলব্ধির মধ্যে জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বার করতে চাই।’’
এর পর আর ক্রিকেটে ফেরেননি আর্যমান। বর্তমানে আদিত্য বিড়লা ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ক্রিকেটে বিশেষ সাফল্য না মিললেও সম্পত্তির দিক থেকে তাবড় তাবড় ক্রিকেটারদের টেক্কা দিতে পারেন আর্যমান। সোনার চামচ মুখে দিয়েই জন্মেছেন তিনি। পৈতৃক সূত্রে তাঁর অঢেল সম্পত্তি। তবুও নিজে কিছু করে দেখানোর তাগিদেই ব্যাট হাতে বাইশ গজে নেমেছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের এই পুত্র। ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে ছাপ ফেলতে পারেননি ঠিকই, তবে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ জানলে আশ্চর্য হবেনই।
আর্যমান বিত্তশালী পরিবারের সন্তান। কোটি কোটি টাকার ছড়াছড়ি। ঠিক যেন রুপোলি পর্দায় ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ জাতীয় গল্পের নায়ক তিনি। আর্যমানের বাবার সুনাম রয়েছে দেশে-বিদেশে। দেশের অন্যতম নামী শিল্পপতি কুমার মঙ্গলম বিড়লা। তাঁদের সংস্থার খ্যাতি রয়েছে বিদেশেও।
সফল ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান হওয়ায় প্রথম থেকেই আর্যমানের জীবন বৈভবে মোড়া। ১৯৯৭ সালের ৯ জুলাই জন্ম আর্যমানের। মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বাবা ব্যবসায়ী হলেও ক্রিকেটে মজেন আর্যমান। ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর রঞ্জি ট্রফিতে মধ্যপ্রদেশের হয়ে বাইশ গজে হাতেখড়ি হয় আর্যমানের।
আর্যমানদের সংস্থার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। তাঁর বাবা কুমার মঙ্গলম বিড়লার মোট সম্পত্তির পরিমাণ দেড় লক্ষ কোটি টাকার বেশি। ফলে পৈতৃক সূত্রে আর্যমানও অনেক টাকার মালিক।
শোনা যায়, আর্যমানের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকা। দেশ তো বটেই, বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার তিনি। আইপিএলে সুযোগ পেয়েও না খেলতে পারা সেই আর্যমানই এ বার আরসিবি দলের চেয়ারম্যান পদে বসলেন।
নতুন পদে বসে কী বলছেন বিড়লা পরিবারের পুত্র? আর্যমানের কথায়, ‘‘আরসিবি-র অগ্রগতিকে পরবর্তী পর্যায়ের রূপ দেওয়ার জন্য এই অংশীদারি। এর অংশ হতে পারা বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। এই অংশীদারি খেলাধুলা, গণমাধ্যম এবং ভোক্তা ব্যবসা সম্পর্কে গভীর বোঝাপড়াকে একত্রিত করেছে।”
সব ছবি: সংগৃহীত।