পারস্যের আকাশসীমায় ঢুকে লাগাতার বোমাবর্ষণ। ডুবোজাহাজ থেকে টর্পেডো ছুড়ে রণতরী ডুবিয়ে দেওয়া। একের পর এক জোরালো হামলা চালিয়েও ‘স্পর্ধিত’ ইরানকে নতজানু করতে ব্যর্থ আমেরিকা। এই পরিস্থিতিতে তেহরানকে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই লক্ষ্যে শিয়া মুলুকটির বিদ্রোহী কুর্দদের হাতে অত্যাধুনিক হাতিয়ার ও গোলা-বারুদ তুলে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেটা যে পশ্চিম এশিয়ার লড়াইকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
ইরান যুদ্ধে বিদ্রোহী কুর্দদের ‘মেগা এন্ট্রি’র প্রসঙ্গটি প্রথম বার প্রকাশ্যে আনে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। এ ব্যাপারে মার্কিন যুদ্ধ দফতরের (ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার) সদর কার্যালয় পেন্টাগনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করেছে তারা। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে সেখানকার জনপ্রিয় গণমাধ্যম সিএনএনকে বিস্ফোরক দাবি করতে দেখা গিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ইরাকের কুর্দ গোষ্ঠীর দুই নেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যা নিয়ে সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি ওয়াশিংটন।
সিএনএন ও মার্কিন প্রকাশনা অ্যাক্সিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলা ওই দুই নেতা হলেন কুর্দিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মাসুদ বারজ়ানি এবং প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তানের (পিইউকে) বাফেল তালাবানি। দু’জনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন দ্বিতীয় ব্যক্তি। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তানের (কেডিপিআই) প্রধান মুস্তাফা হিজ়রির সঙ্গেও ট্রাম্পের কথা হয়েছে বলে সূত্র মারফত মিলেছে খবর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পেন্টাগনের এক আধিকারিক সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ইরাক-ইরান সীমান্তে জমায়েত হতে শুরু করেছেন বিদ্রোহী কুর্দ লড়াকুরা। সেখানে একটি সম্মিলিত রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলা হয়েছে। তার পোশাকি নাম ‘কোয়ালিশন অফ পলিটিক্যাল ফোর্সেস অফ ইরানিয়ান কুর্দিস্তান’ (সিপিএফআইকে)। এই সংগঠনের ছাতার তলায় সাবেক পারস্যের শিয়া ফৌজের বিরুদ্ধে ‘স্বাধীনতার যুদ্ধে’ নামতে দেখা যাবে তাঁদের।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলির দাবি, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সিপিএফআইকে। জন্মলগ্নেই তেহরানের সামরিক শীর্ষকর্তাদের হুমকি দিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের। ইজ়রায়েলি আই-২৪ নিউজ় আবার জানিয়েছে, কুর্দ বিদ্রোহীদের হাজার হাজার যোদ্ধা ইরানে ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে। পর্দার আড়ালে থেকে যাঁদের সাহায্যে করবে মার্কিন গুপ্তচরবাহিনী সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএ। আর তাই কুর্দ লড়াকুদের কী ভাবে হাতিয়ার ও গোলা-বারুদ সরবরাহ করা হবে, তা নিয়ে পেন্টাগনের অন্দরে চলছে আলোচনা।
কিন্তু, প্রশ্ন হল কারা এই কুর্দ বিদ্রোহী? কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তেহরানকে নিশানা করতে চাইছেন তাঁরা? বিশ্লেষকদের কথায়, পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার সুন্নি ইসলামপন্থী জাতিগোষ্ঠীগুলির মধ্যে কুর্দ অন্যতম। দীর্ঘ দিন ধরে একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন রয়েছে তাঁদের। বর্তমানে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক এবং আর্মেনিয়ায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস করছেন কুর্দরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির কিছু কিছু জায়গাও রয়েছে তাঁদের কব্জায়। সেখানে নিজেদের সরকার চালায় একাধিক কুর্দ বিচ্ছিন্নবাদী গোষ্ঠী।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-’১৮ সাল) অটোমান সাম্রাজ্যের পতন হলে পশ্চিম এশিয়ায় তার জমি ভাগাভাগিতে মেতে ওঠে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ১৯২০ সালে দুই পক্ষের মধ্যে সই হয় সেভরের চুক্তি। সেখানে স্বাধীন কুর্দিস্তান রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে মেনে নেয় ইংরেজ ও ফরাসিরা। পরে অবশ্য এ ব্যাপারে মত বদলায় ওই দুই ইউরোপীয় দেশ। ১৯২৩ সালের লুসানের চুক্তির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে আজকের তুরস্ক। কিন্তু আঙ্কারার চাপে তাতে ধামাচাপা পড়ে কুর্দিস্তানের দাবি।
পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার কুর্দ জাতিগোষ্ঠীর স্বাধীন রাষ্ট্র চাওয়ার নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, সুন্নি ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও আরব দুনিয়ায় সাংস্কৃতিক ভাবে পৃথক পরিচয় আছে তাঁদের, যা মানতে নারাজ সেখানকার কট্টরপন্থীরা। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ লেগেই থাকে। দ্বিতীয়ত, কুর্দদের জন্মশত্রু বলে দেগে দিয়েছেন ইরানের শিয়া ধর্মগুরুরা। ফলে তাঁদের বিদ্রোহ সমূলে উপড়ে ফেলতে দমনপীড়নে কখনওই পিছপা হয়নি তেহরান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর (১৯৩৯-’৪৫ সাল) খুব অল্প সময়ের জন্য অবশ্য এই জাতিগোষ্ঠীর ভাগ্য ফিরেছিল। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে উত্তর ইরানের কুর্দ সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলি নিয়ে স্বাধীন ‘মহাবাদ প্রজাতন্ত্র’-এর (রিপাবলিক অফ মহাবাদ) ঘোষণা করেন কাজি মহম্মদ। নবগঠিত রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট হয়ে বসেন কুর্দিশ ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইরানের (কেডিপিআই) ওই নেতা। প্রধানমন্ত্রী হন হাজি বাবা শেখ। যদিও আন্তর্জাতিক ভাবে তাঁদের কোনও স্বীকৃতি ছিল না।
দেশের উত্তরাংশে এ-হেন স্বাধীন কুর্দিস্তান গড়ে ওঠার বিষয়টিকে একেবারেই ভাল চোখে দেখেনি ইরানি প্রশাসন। আর তাই ফৌজ পাঠিয়ে মহাবাদ প্রজাতন্ত্রকে অঙ্কুরেই গুঁড়িয়ে দেয় তেহরান। গ্রেফতার হন কাজি মহম্মদ। ফলে ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কুর্দদের স্বাধীন সরকার। ঠিক তার পরের বছর (পড়ুন ১৯৪৭ সাল) কাজি মহম্মদকে ফাঁসিতে ঝোলায় সাবেক পারস্যের তৎকালীন রাজতান্ত্রিক সরকার।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবে ইরানে পতন হয় রাজশাহির। ফলে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র চলে যায় কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মগুরুদের হাতে। তেহরানকে শক্তিশালী ‘ইসলামীয় প্রজাতন্ত্র’ (ইসলামিক রিপাবলিক) হিসাবে গড়ে তোলেন তাঁরা। এর জেরে রাতারাতি ভোল বদলে ফেলে ওই উপসাগরীয় রাষ্ট্র। প্রশাসনিক এবং সাংস্কৃতিক ভাবে বর্জন করে যাবতীয় পশ্চিমি আদবকায়দা। এতে কুর্দ জাতিগোষ্ঠী-ভুক্তদের অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। ধর্মীয় অনুশাসনের নামে তাঁদের নিশানা করতে থাকেন মৌলবাদীরা।
২১ শতক আসতে আসতে আরও জটিল হয় পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি। ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি জোরালো করে কুর্দরা। গড়ে ওঠে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নিজেদের স্বপ্নপূরণে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সরকারি বাহিনীর উপর চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করে তাঁরা। এতে বিরক্ত তুরস্ক ও ইরান তাঁদের গায়ে সেঁটে দেয় জঙ্গিগোষ্ঠীর তকমা। অন্য দিকে কুর্দদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীটিকে ব্যবহার করার সুযোগ ছাড়েনি আমেরিকাও।
২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় বাগদাদের কিংবদন্তি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেনের পতন ঘটাতে বিচ্ছিন্নবাদী কুর্দদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়েছিল সিআইএ। ২০১১ সালে আরব বসন্তের হাত ধরে ভয়ঙ্কর এক গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সিরিয়া। এই অশান্তির সুযোগ নিয়ে দেশটির উত্তর-পূর্ব দিকের ইদলিব শহর কব্জা করে ফেলে কুর্দ বিদ্রোহীরা। অন্য দিকে উত্তর ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পেয়েছে এই জনজাতি, যার রাজধানী ইরবিল।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, সাঁড়াশি আক্রমণে ইরানকে পুরোপুরি থেঁতলে দিতে ইরাকি কুর্দিস্তান এবং সিরিয়ার ইদলিবের বিদ্রোহীদের মাঠে নামাবেন ট্রাম্প। সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীটির একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। তার মধ্যে একটি হল কুর্দিস্তান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (কেডিপি)। বর্তমানে ইরবিলের স্বায়ত্তশাসিত সরকার পরিচালনা করছে তারা। ইরানি ড্রোন সংশ্লিষ্ট শহরটিতে আছড়ে পড়লে তেহরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেন এর প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি।
আমেরিকার জন্য ইরান যুদ্ধে সরাসরি কেডিপি নামবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় কুর্দ বিদ্রোহীদের চাপ রয়েছে তাঁদের উপর। স্বায়ত্তশাসিত ইরবিলের প্রধান বিরোধী দল হল প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অফ কুর্দিস্তান। এর সদস্য হলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট আব্দুল লতিফ রশিদ। তিনি অবশ্য অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের ডাক দিয়েছেন। অন্য দিকে, সংঘাতে জড়ানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে ইরানি কুর্দ বিদ্রোহীরা। পারস্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠেছে তাঁদের ছ’টি আলাদা আলাদা গোষ্ঠী।
পেন্টাগন সূত্রে খবর, তেহরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামতে চাইছে কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইরান (কেডিপিআই), কুর্দিস্তান ফ্রিডম পার্টি (পিএকে), কুর্দিস্তান ফ্রি লাইফ পার্টি (পিজেএকে), ইরানি কুর্দিস্তান সংগ্রামী সংগঠন (খাবাত), কুর্দিস্তান শ্রমজীবী কোমালা এবং ইরানি কুর্দিস্তানের কোমালা পার্টি (কেপিআইকে)। এদের বেশ কয়েকটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে মনে করে তেহরান। সব মিলিয়ে তাঁদের যোদ্ধাসংখ্যা কত, তা অবশ্য জানা যায়নি।
ইরান সংঘর্ষে কুর্দ বিদ্রোহীদের মাঠে নামাতে চাওয়ার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী কারণ রয়েছে। সাবেক সেনাকর্তাদের কথায়, লড়াইয়ের প্রথম সপ্তাহেই বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমেরিকার। কয়েক কোটি ডলার মূল্যের দু’টি রেডার স্টেশন উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। শুধু তা-ই নয়, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তাঁদের সৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে তেহরান দখল করতে সাবেক পারস্যে ‘গ্রাউন্ড অপারেশন’ শুরু করা ট্রাম্পের জন্য আত্মহত্যার শামিল।
পাহাড় ও মরুভূমি ঘেরা ইরানে পা রাখলে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা যে আরও বাড়বে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সেই ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। তাই স্বাধীনতাকামী কুর্দদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। সাবেক পারস্যের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ এই জাতিগোষ্ঠী-ভুক্ত। তা ছাড়া সারা বিশ্বে কুর্দের সংখ্যা সাড়ে তিন কোটি।
তবে কুর্দ বিদ্রোহীদের পক্ষে আমেরিকার জন্য তেহরান দখল করা একেবারেই সহজ নয়। ইতিমধ্যেই উত্তর ইরানে তাঁদের গুপ্তঘাঁটিগুলিকে নিশানা করতে শুরু করেছে তেহরানের সর্বোচ্চ নেতার (সুপ্রিম লিডার) নিয়ন্ত্রণাধীনে থাকা ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর’ বা আইআরজিসি। ইরাকি কুর্দিস্তান এবং সিরিয়ার ইদলিবে হামলা চালানোর পর ক্ষেপণাস্ত্রও রয়েছে শিয়া ফৌজের হাতে।
অতীতেও বহু বার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঘরোয়া বিদ্রোহীদের ব্যবহার করে ‘কাজ হাসিল’ করার রণকৌশল নিয়েছে আমেরিকা। লড়াই জিততে আফগানিস্তানে মুজ়াহিদিন (ধর্মযোদ্ধা) ও আল-কায়দার মতো কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠীর জন্ম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবাহিনী সিআইএ-র বিরুদ্ধে। পরে তারাই হয়ে যায় ওয়াশিংটনের পয়লা নম্বর দুশমন। ইরান সংঘর্ষে কুর্দ বিদ্রোহীদের জড়ানো ডেকে আনবে আরও বড় বিপদ? উঠছে প্রশ্ন।
সব ছবি: সংগৃহীত ও রয়টার্স।