India Nepal

মোদী-ট্রাম্প পর্যায়ের নেতা ছাড়া কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ নয়! ‘দাম্ভিক’ শাহের সিদ্ধান্তে বিপদে পড়বে এভারেস্ট-রাষ্ট্র?

ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী থেকে শুরু করে এ দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্জিও গোর। একের পর এক বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়াচ্ছেন নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ ০৮:১০
০১ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

প্রথমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত। তার পর ভারতের বিদেশ সচিব। একের পর পদস্থ কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক এড়িয়ে খবরের শিরোনামে নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। হিমালয়ের কোলের রাষ্ট্রটির ‘শরীরী ভাষা’য় কেন হঠাৎ ফুটে উঠছে এই ঔদ্ধত্য? পর্দার আড়ালে থেকে যাবতীয় কলকাঠি নাড়ছে চিন? কাঠমান্ডুর ‘পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করা’র মনোভাবে তাই সিঁদুর মেঘ দেখছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন।

০২ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

চলতি বছরের ১১ ও ১২ মে নেপালে সফরে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রীর। মূলত, কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রার ব্যাপারে কথা বলতে কাঠমান্ডু যেতেন তিনি। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্রের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে বৈঠক করতে তাঁকে সেখানে পাঠাচ্ছিল নয়াদিল্লি। সব কিছু যখন ঠিকঠাক তখনই হঠাৎ সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরিকল্পনা বাতিল করেন এভারেস্ট-রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান।

০৩ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্রের এ-হেন আচরণ নয়াদিল্লির কাছে ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’ বললে অত্যুক্তি হবে না। কারণ, কিছু দিন আগেই মরিশাসে নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানেই মিস্রীর কাঠমান্ডু সফরের পরিকল্পনায় সবুজ সঙ্কেত দেয় হিমালয়ের কোলের এভারেস্ট-রাষ্ট্র। কিন্তু, তার পর সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ভাবে বলেন্দ্রের দফতর সুরবদল করায় প্রবল অস্বস্তির মুখে পড়ে কেন্দ্র।

Advertisement
০৪ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

কী কারণে ভারতের বিদেশ সচিবের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী? কাঠমান্ডুর একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তার ব্যাখ্যা দিয়েছে এ দেশের প্রথম সারির বেশ কয়েকটা গণমাধ্যম। তাদের দাবি, কূটনৈতিক পর্যায়ে ‘সমমর্যাদা’র ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনার টেবলে বসতে চান বলেন্দ্র। অর্থাৎ, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন তিনি। মিস্রীর মতো কোনও পদস্থ আধিকারিকের সঙ্গে নয়।

০৫ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কাঠমান্ডু সফরে নেপালি প্রধানমন্ত্রীকে নয়াদিল্লি আসার আমন্ত্রণ জানাতেন ভারতের বিদেশ সচিব। কিন্তু মিস্রীকে সেই সুযোগই দেননি বলেন্দ্র। আর তাই গোটা ঘটনার নেপথ্যে অন্য ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের যুক্তি, গত কয়েক বছর ধরেই এ দেশের লিপুলেখ এলাকাকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করছে উত্তরের প্রতিবেশী। আবহমান কাল ধরে যে রাস্তা দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবরের পথে পাড়ি জমাচ্ছেন হাজার হাজার তীর্থযাত্রী।

Advertisement
০৬ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

গত বছরের (২০২৫ সাল) অগস্টে হঠাৎই একটি মানচিত্র প্রকাশ করে নেপাল। সেখানে ‘দেবভূমি’ উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ গিরিপথ, কালী নদীর পূর্ব দিকের লিম্পিয়াধুরা এবং পূর্ব দিকের কালাপানি এলাকাকে নিজেদের ‘অবিচ্ছেদ্য’ অংশ বলে জানায় কাঠমান্ডু। নয়াদিল্লি তা পত্রপাঠ খারিজ করতেই দু’তরফে শুরু হয় কূটনৈতিক টানাপড়েন। শুধু তা-ই নয়, এ বছরের মে মাসের গোড়ায় লিপুলেখ দিয়ে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন না করতে ভারত ও চিনকে অনুরোধ করে বলেন্দ্র সরকার।

০৭ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

চলতি বছরের জুনে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিগত দিনের মতো চিনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে লিপুলেখ ও নাথু লা-র মাধ্যমে এর আয়োজন করেছে দিল্লি। এ ব্যাপারে অবশ্য ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে কেন্দ্র। একটি বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৯৫৪ সাল থেকে লিপুলেখ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা হয়ে আসছে। এটা নতুন কোনও বিষয় নয়। ওই এলাকার উপরে কাঠমান্ডুর দাবিরও কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

Advertisement
০৮ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

ভারত-নেপাল এই সীমান্ত বিবাদ আজকের নয়। এর সূত্রপাত হয় সেই সাহেবি আমলে। ১৭৫৭ সালের পলাশি এবং ১৭৬৪ সালের বক্সার যুদ্ধের পর এ দেশে দ্রুত গতিতে সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। নেপালে তখন গোর্খা রাজাদের শাসন চলছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার সুযোগে ‘ঝোপ বুঝে কোপ’ মারতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে কাঠমান্ডু। উত্তরপ্রদেশের তরাই অঞ্চলের উপর বরাবরই লোভ ছিল নেপালি রাজাদের। এ বার সেটা দখলে উঠেপড়ে লাগেন তাঁরা।

০৯ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

ওই সময়ে অবধকে (বর্তমান অযোধ্যা) বাফার রাজ্য হিসাবে ব্যবহার করছিল কোম্পানি। উনিশ শতকে সেখানকার নবাবের সঙ্গে সামরিক চুক্তি করে ইংরেজরা। এর মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যটির নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় তারা। ফলে উত্তরপ্রদেশের তরাই এলাকায় নেপালের গোর্খা রাজারা আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতেই প্রমাদ গোনে কোম্পানি। এর পরেই হিমালয়ের কোলের দেশটি দখলের নীলনকশা ছকতে শুরু করেন ব্রিটিশ ফৌজি জেনারেলরা।

১০ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

কাঠমান্ডু অবশ্য তত দিনে দাপট দেখাতে শুরু করেছে। খুব অল্প দিনের মধ্যেই পূর্বে মেচি পেরিয়ে তিস্তা পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করে ফেলেন নেপালরাজ। পশ্চিমে কুমায়ুঁ এবং গঢ়বাল পেরিয়ে সীমান্তকে পঞ্জাবের শতদ্রু নদীর তীরে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি। গোর্খাদের এ-হেন শক্তি প্রদর্শনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বেশ কিছু ভারতীয় রাজা। নেপালের ‘ডানা ছাঁটতে’ ক্রমাগত কোম্পানিকে যুদ্ধের জন্য উস্কানি দিতে থাকেন তাঁরা।

১১ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

১৮১৪ সালে নেপালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোম্পানি। সেই লড়াইয়ে ইংরেজ বাহিনীর নেতৃত্ব দেন কুশলী সেনা অফিসার ডেভিড অক্টারলোনি। গঢ়বাল, পটিয়ালা এবং সিকিমের রাজাদের অবশ্য পাশে পেয়েছিলেন তিনি। টানা দু’বছর সংঘর্ষের পর হার মানে গোর্খা সেনা। আলমোড়ার কাছে চূড়ান্ত যু্দ্ধে হেরে গিয়ে পিছু হটে তারা। ফলে হিমালয়ের কোলের দেশটির একাধিক এলাকা দখল করে ব্রিটিশ ফৌজ।

১২ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

১৮১৬ সালে বিহারের সুগৌলিতে কোম্পানির সঙ্গে সন্ধি করেন নেপালরাজ। সেই চুক্তি অনুযায়ী হিমালয়ের কোলের দেশটির নতুন করে সীমান্ত নির্ধারণ করেন ব্রিটিশ সেনা অফিসারেরা। ঠিক হয়, পশ্চিমে শতদ্রু থেকে পূর্বে তিস্তা নদী পর্যন্ত এলাকা থাকবে না কাঠমান্ডুর আওতায়। তবে পশ্চিমে মহাকালী নদী থেকে পূর্বে মেচি পর্যন্ত এলাকা গোর্খাদের শাসন করতে দিয়েছিল কোম্পানি।

১৩ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

স্বাধীনতার পর লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং পূর্ব কালাপানির এলাকার নিয়ন্ত্রণ পায় ভারত। ওই সময় কোনও রকমের বিরোধিতা করেনি নেপাল। ১৯৫০ সালে চিনের ‘পিপল্স লিবারেশন আর্মি’ বা পিএলএ তিব্বত আক্রমণ করলে ওই এলাকায় ১৮ থেকে ১৯টা সামরিক এবং পুলিশ চৌকি বসিয়ে দেয় নয়াদিল্লি। কাঠমান্ডুর অনুমতি নিয়ে অবশ্য সেটা করা হয়েছিল। এ দেশের শীর্ষ সেনা অফিসারদের একাংশের মনে হয়েছিল, ওই রাস্তায় হামলা চালাতে পারে বেজিং।

১৪ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

১৯৬৯ সালে সংশ্লিষ্ট চৌকিগুলিকে লিপুলেখ, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি থেকে সরাতে বলে নেপাল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে এই নিয়ে চিঠিও লিখেছিলেন নেপালি প্রধানমন্ত্রী কীর্তি নিধি বিশ্ত। কাঠমান্ডুর দাবি মেনে ওই সময়ে সেনা চৌকি সরিয়ে নেয় নয়াদিল্লি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কালাপানির চৌকি নিয়ে আপত্তির কথা জানাননি বিশ্ত। ফলে সেখানকার কাঠামো বদলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি ইন্দিরা সরকার।

১৫ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

পরবর্তী দশকগুলিতেও কালাপানি, লিপুলেখ বা লিম্পিয়াধুরা নিয়ে কোনও দাবি তোলেনি নেপাল। ফলে সেখানে অবাধে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ চালিয়ে গিয়েছে ভারত। কিন্তু, ২০১৫ সাল থেকেই এ ব্যাপারে সুর বদলাতে থাকে কাঠমান্ডু। ২০২০ সালে ধরচুলা থেকে লিপুলেখ গিরিপথ পর্যন্ত মহাসড়ক তৈরির কাজ শেষ করে নয়াদিল্লি। তার পর থেকে দু’তরফে আরও তীব্র হয় বিবাদ।

১৬ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

লিপুলেখ গিরিপথের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। তিন দেশের সংযোগস্থলে রয়েছে ওই পাহাড়ি রাস্তা। এর এক দিকে ভারত, অপর দিকে চিন এবং দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে নেপাল। ১৯৫৪ সালে সংশ্লিষ্ট গিরিপথটি ধরে বেজিঙের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য শুরু করে নয়াদিল্লি। ২০২০ সালে কোভিড অতিমারি আসার আগে পর্যন্ত এটি অব্যাহত ছিল। করোনা আসার পর দু’তরফে বন্ধ হয় লিপুলেখ, গত পাঁচ বছরে নানা কারণে যা আর চালু হয়নি।

১৭ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

লিপুলেখ গিরিপথের দ্বিতীয় সুবিধা হল, এই রাস্তায় কৈলাস-মানস সরোবরে পৌঁছোতে পারেন তীর্থযাত্রীরা। চিন অধিকৃত তিব্বতে রয়েছে হিন্দুদের ওই পবিত্র ধর্মস্থল। এর জন্য ২০২০ সালে সংশ্লিষ্ট গিরিখাতটি বরাবর ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার কাজ শেষ করে ভারত। তখনও তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে আপত্তি জানিয়েছিল নেপাল। যদিও তা কানে তোলেনি নয়াদিল্লি।

১৮ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, এই পরিস্থিতিতে লিপুলেখ নিয়ে ভারতের উপর চাপ তৈরি করতেই মিস্রীর বৈঠক বাতিল করেছেন বলেন্দ্র। এ ব্যাপারে নয়াদিল্লিকে পাল্টা বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীকে আরও এক বার বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েক জন। কিন্তু শাহ অনড় মনোভাব দেখানোয় কাঠমান্ডুর আধিকারিকদের কিছু করার ছিল না।

১৯ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

নেপালি প্রধানমন্ত্রীর এই ‘ঔদ্ধত্য’ শুধু যে ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এমনটা নয়। এ বছরের মে মাসের গোড়ায় ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সর্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেন তিনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই কূটনীতিক কাঠমান্ডু সফরে গিয়ে শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি জানান। তিনটি কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করে বলেন্দ্রের দফতর।

২০ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

কাঠমান্ডুর তরফে গোরকে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সংস্কার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন শাহ। শাসনব্যবস্থায় নতুন প্রথা চালু করতে চাইছেন তিনি। এখন থেকে তাঁর সাক্ষাৎ পাবেন কেবলমাত্র ভিন্‌দেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের কোনও ব্যক্তি। তা ছাড়া ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে নেপাল। ফলে সুনির্দিষ্ট কোনও জোটে যোগ দেওয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন বলেন্দ্র।

২১ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

বিদেশ সচিব মিস্রীর সফর বাতিল হওয়ার পরও নেপালের ব্যাপারে ‘ইতিবাচক’ মনোভাব রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, ‘‘কাঠমান্ডুর সঙ্গে সব বিষয়ই আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে মেটাতে আমরা আগ্রহী। তবে একতরফা ভাবে সীমান্ত বৃদ্ধির কৃত্রিম দাবি কখনওই গ্রহণযোগ্য নয়।’’

২২ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

লিপুলেখ বিতর্কের মধ্যেই বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামে নেপালকে রাসায়নিক সার সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সারের দর। পাশাপাশি, মারাত্মক ভাবে কমে গিয়েছে এর সরবরাহ। তার মধ্যেই অত্যন্ত সস্তা দরে কাঠমান্ডুতে ৮০,০০০ টন সার পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে নয়াদিল্লি।

২৩ ২৩
Nepal PM Balendra Shah no-meeting policy for foreign envoys may create big diplomatic concern for India

স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র হওয়ায় বিভিন্ন কারণে ভারতের উপর নেপালের নির্ভরশীলতা রয়েছে। এ দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান পরিষেবা চালু রেখেছে কাঠমান্ডু। অন্য দিকে আর্থিক হাল খারাপ হওয়ায় অন্তত পাঁচ বার আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার (আইএমএফ) থেকে ঋণ নিয়েছে হিমালয়ের এই গোর্খাভূমি। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির সদর দফতর রয়েছে আমেরিকায়। ফলে বলেন্দ্রের ‘ঔদ্ধত্য’র খেসারত আগামী দিনে নেপালকে দিতে হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

সব ছবি: সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি