প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই হাজার কোটি টাকার ক্লাবে নাম লিখিয়েছে। ছবির সিক্যুয়েলও সেই পথেই হাঁটছে। ‘ধুরন্ধর’-এর ‘ধুরন্ধর’ সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন এক বলি অভিনেতা। তিনি কোনও ছবিতে হাত দিলে নাকি ‘সোনাই ফলে’! কেরিয়ারের ঝুলিতে ইতিমধ্যেই তিনটি এমন ছবি ভরে ফেলেছেন, যেগুলি বক্সঅফিসে ব্লকবাস্টার। সেই অভিনেতা আর কেউ নন, রাকেশ বেদী।
আদিত্য ধরের পরিচালনায় ‘ধুরন্ধর’ ছবির দু’টি পর্বে জামিল জামালি চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল প্রশংসিত হয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা রাকেশ। চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে সেই চরিত্রটি পাকিস্তানের রাজনীতিবিদের ভূমিকায় বোনা হয়েছে। কখনও মজাদার, কখনও আবার গুরুগম্ভীর সেই ধূসর চরিত্রে অভিনয় করে তাক লাগিয়েছেন রাকেশ। তিনিই নাকি ‘ধুরন্ধর’-এর ‘লাকি চার্ম’!
১৯৫৪ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে জন্ম রাকেশের। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ছেলেও ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করুক, বাবার তেমনই স্বপ্ন ছিল। কিন্তু রাকেশ তখন অন্য স্বপ্ন বুনছেন। তাঁর মাথায় চেপেছিল অভিনয়ের ‘ভূত’।
বাবার জেদে রাকেশ আইআইটি-র প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু পরীক্ষাকেন্দ্রে নাকি ৫ মিনিটের বেশি বসে থাকতে পারেননি। অভিনয় নিয়ে যে তিনি কেরিয়ার গড়বেন, তা স্থির করে ফেলেছিলেন রাকেশ।
স্কুলে থাকাকালীন একক অভিনয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন রাকেশ। স্কুলের গণ্ডি পার করার পর পুণের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এফটিটিআই)-এ অভিনয় শেখার জন্য ভর্তি হন তিনি। পাশাপাশি দিল্লির নামকরা একটি নাটকের দলের সঙ্গেও যুক্ত হন।
১৯৭৯ সালে সঞ্জীব কুমার অভিনীত ‘হমারে তুমহারে’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল রাকেশের। তবে তিনি দেশজোড়া খ্যাতি পান ১৯৮১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চশমে বদ্দুর’ ছবিতে অভিনয় করে। ‘এক দুজে কে লিয়ে’, ‘রাম তেরি গঙ্গা মইলি’, ‘হিরো নম্বর ১’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘উরি: দ্য সার্জিকাল স্ট্রাইক’-এর মতো বহু হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি।
বড়পর্দায় অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশনেও চুটিয়ে কাজ করেছেন রাকেশ। আশির দশক থেকে ‘ইয়ে জো হ্যায় জিন্দেগি’, ‘শ্রীমান শ্রীমতী’, ‘ইয়েস বস্’, ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’, ‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
হিন্দি ছবি এবং ধারাবাহিকে অভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চেও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন রাকেশ। অনুপম খের এবং নীনা গুপ্তের সঙ্গে সারা বিশ্বে প্রশংসিত ‘মেরা উও মতলব নহি থা’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। তা ছাড়া ‘মেসেজ’ নামের একটি নাটকে ২৪টি চরিত্রে একক অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন রাকেশ।
রাকেশের অভিযোগ, কেরিয়ারের গোড়ার দিকে তাঁকে একই ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত। উপার্জনের জন্য তিনি সেই সমস্ত চরিত্রে অভিনয় করতে রাজিও হয়ে যেতেন। কৌতুকাভিনেতা হিসাবেই একসময় পরিচিতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল তাঁর। ধীরে ধীরে রাকেশের বহুমুখী প্রতিভা বলিউডের নজরে পড়ে বলে অভিনেতার দাবি।
রাকেশের স্ত্রী আরাধনা বেদী এবং দুই কন্যা ঋদ্বিমা ও ঋতিকা। ২০২৪ সালে বড় মেয়ে ঋদ্বিমার বিয়ে হয়ে যায়। বর্তমানে স্ত্রী এবং ছোট মেয়েকে নিয়ে সংসার তাঁর। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অভিনয় করে কেরিয়ারে একটি মাইলফলক গড়ে তুলেছেন তিনি। তবে, তাঁর আগেও কেরিয়ারের ঝুলিতে তিনি ভরে ফেলেছিলেন আরও তিনটি ব্লকবাস্টার ছবি।
২০০১ সালে সানি দেওল এবং অমীশা পাটেল অভিনীত ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রাকেশ। সেই সময় ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১৩৩ কোটি টাকার ব্যবসা করে ‘অলটাইম ব্লকবাস্টার’ ছবির তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছিল। রাকেশ সেই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
‘গদর: এক প্রেম কথা’ মুক্তির ২২ বছর পর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটির সিক্যুয়েল ‘গদর ২’। এই ছবিটি বিশ্বজোড়া বক্সঅফিসে প্রায় ৬৯২ কোটি টাকার ব্যবসা করে ‘ব্লকবাস্টার’-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এই ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন রাকেশ।
‘ধুরন্ধর’ মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় হাজার কোটি টাকার ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেলে। এই ব্লকবাস্টার ছবিতেই জামাল জামিলির চরিত্রে অভিনয় নজর কাড়েন রাকেশ। বলিপাড়ার অধিকাংশের অনুমান, কম সময়ের মধ্যে ‘ধুরন্ধর’-এর সিক্যুয়েলও হাজার কোটি টাকার ক্লাবে নাম লিখিয়ে ফেলবে।
‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘গদর ২’, এবং ‘ধুরন্ধর’— ইতিমধ্যেই এই তিনটি ব্লকবাস্টার ছবি রয়েছে রাকেশের কেরিয়ারের ঝুলিতে। পরিচালক আদিত্যের পাশাপাশি রণবীর সিংহ, অর্জুন রামপাল, আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুনকে টপকে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এ রাকেশের ‘লাকি চার্ম’ হওয়ার অনুমান কতটা সঠিক, তা জানেন কেবল এক জনই।
সব ছবি: সংগৃহীত।