Who was Sadhvi Prem Baisa

ইঞ্জেকশন, ভাইরাল ভিডিয়ো, ধোঁয়াশায় ঘেরা ইনস্টাপোস্ট, সুন্দরী সাধ্বীর মৃত্যুতে ঘনীভূত রহস্য, কে এই তরুণী প্রেম?

পশ্চিম রাজস্থানের ধর্মীয় গল্পকথক তরুণী সাধ্বীর মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা। অসুস্থ হওয়ায় আশ্রমে তাঁকে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর অজ্ঞান হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই সাধিকার মৃত্যুর পর একটি পোস্ট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ষড়যন্ত্রের দাবি তুলেছেন ভক্তদের একাংশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০২
০১ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

তাঁর আধ্যাত্মিক বক্তৃতায় থাকত চুম্বকের মতো আকর্ষণ। প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ তাঁর গলায় ধর্মকথা এবং ভজন শোনার জন্য মুখিয়ে থাকতেন। পশ্চিম রাজস্থানের গ্রামীণ অঞ্চলে ধর্মীয় গল্পকথা এবং ভক্তিমূলক গানের দুনিয়ার বেশ পরিচিত নাম ছিল সাধ্বী প্রেম বাইসা। গত ২৮ জানুয়ারি তাঁকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় জোধপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সাধ্বীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তত ক্ষণে তাঁর মস্তিষ্কের ‘মৃত্যু’ ঘটেছে।

০২ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ধর্মীয় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন প্রেম, এমনও দাবি উঠেছে তাঁর ভক্তদের মধ্যে। তাঁর পরিবার পরে জানিয়েছিল মৃত্যুর আগে দু’দিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রেম। মৃত্যুর দিন এক ব্যক্তিকে ইঞ্জেকশন দেওয়ার জন্য আশ্রমে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।

০৩ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

এর পরেই তাঁর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রেমের বাবা জানিয়েছেন, ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরে তাঁর মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত পাল রোডের প্রেক্ষা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকেরা ২৫ বছরের তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

Advertisement
০৪ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

হাসপাতালের চিকিৎসক প্রবীণ জৈন সংবাদমাধ্যমে জানান, তিনি প্রেমকে বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শরীরে প্রাণের কোনও লক্ষণ ছিল না। সাধ্বীর বাবা চিকিৎসকদের জানান, মেয়ের জ্বর হয়েছিল। সে জন্য এক জন কম্পাউন্ডার, এক জন স্বাস্থ্যসেবককে আশ্রমে ডাকা হয়েছিল। এর পর কম্পাউন্ডার তাঁর মেয়েকে একটি ইঞ্জেকশন দেন। তাতেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন প্রেম।

০৫ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাস্ত্রী নগর পুলিশকে ঘটনাটি জানান এবং প্রেমের পরিবারকে মৃতদেহ এমডিএম হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবার মৃতদেহ বোরানাদার আশ্রমে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বোরানাদা থানার সাব-ইন্সপেক্টর হেমরাজ আশ্রমে পৌঁছে মৃতার ঘরটি তালাবন্ধ করে দেন। পরে একটি মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি এমডিএম হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

Advertisement
০৬ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

এর পরই সাধ্বী প্রেমের মৃত্যুটি রহস্যময় মোড় নেয়। মৃত্যুর প্রায় চার ঘণ্টা পরে রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ প্রেমের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। এটিকে ‘ডিজিটাল সুইসাইড নোট’ বলেও দাবি করছেন অনেকেই। পোস্টটিতে লেখা ছিল, ‘‘আমি সনাতন ধর্মের প্রচারের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত বেঁচে আছি। আমার সারা জীবন ধরে, আমি আদি জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য, বিশ্বের যোগগুরু এবং শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্তদের আশীর্বাদ পেয়েছি।’’

০৭ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

সেই ভাইরাল পোস্টের শেষের দিকে লেখা ছিল, ‘‘আমি চিরতরে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছি। ঈশ্বর এবং শ্রদ্ধেয় সাধু-ঋষিদের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। জীবদ্দশায় না হোক, মৃত্যুর পরে আমি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাব।’’

Advertisement
০৮ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর আধ্যাত্মিক প্রচারকের মৃত্যুরহস্য আরও ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। তাঁর ভক্তদের মধ্যে অনেকেই দাবি করছেন, পোস্টটি তাঁর মৃত্যুর পর আপলোড করা হয়েছিল। সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ অভিযোগ তুলেছেন পোস্টটি প্রায় চার ঘণ্টা পরে প্রকাশ্যে এসেছে। হ্যাকিং বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ।

০৯ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

বালোতরা জেলার পারেউ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সাধ্বী প্রেম বাইসা। তাঁর বাবা বীরমনাথ বাইসা ছিলেন ট্রাকচালক এবং মা আমরু বাইসা ছিলেন গৃহিণী। মায়ের মৃত্যুর পর, প্রেমের বাবা বীরমনাথ তাঁকে জোধপুরের গুরুকৃপা আশ্রমে নিয়ে যান। বীরমনাথ নিজেও আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন।

১০ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

আধ্যাত্মিক জগতে পা দেওয়ার আগে বাবার কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছিলেন প্রেম। রাজারাম মহারাজ এবং সন্ত কৃপারাম মহারাজের নির্দেশে ধর্মীয় গল্প বলা এবং ভজন গাওয়া শুরু করেন। সেই সূত্রেই তিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করেন। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার পথ অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

১১ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

গুরুকৃপা আশ্রম ছেড়ে জোধপুরের পাল রোডের কাছে সাধনা কুটির আশ্রমে বসবাস শুরু করেন প্রেম। বাবা রামদেব-সহ বিশিষ্ট সাধুরা তাঁর আশ্রমের উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন। বীরমনাথ ছিলেন একাধারে সাধ্বী প্রেমের বাবা এবং গুরু। এই আশ্রমে বাবা-মেয়ে থাকতেন। পৈতৃক গ্রাম পারেউতেও একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ভাগবত কথার আসর বসত।

১২ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

ছ’মাস আগে, সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রচারিত সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল সাধ্বী প্রেম এক পুরুষকে জড়িয়ে ধরছেন। ফুটেজে দেখা যায় এক জন মহিলা কম্বল হাতে ঘরে প্রবেশ করছেন। এর পর সাধ্বী প্রেম সেই পুরুষকে উষ্ণ ভাবে আলিঙ্গন করছেন। এই ঘটনা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন। বিতর্কিত সেই ভিডিয়ো নিয়ে এই সাধিকা অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন।

১৩ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

দাবি ছিল, ভিডিয়োটি প্রায় তিন বছরের পুরনো। পাশাপাশি অভিযোগ, বিশেষ ভাবে সম্পাদনা করে প্রচার করা হয়েছে সেই ভিডিয়ো। সে সময় প্রেম স্পষ্ট করে দেন যে ভিডিয়োয় থাকা ব্যক্তি তাঁর বাবা মহন্ত বীরমনাথ। দীর্ঘ ক্ষণ পর তার সঙ্গে দেখা হওয়ায় এবং ঘরে আরও বেশ কয়েক জন উপস্থিতিতে তিনি বাবাকে আবেগঘন ভাবে জড়িয়ে ধরেছিলেন। বাবা-মেয়ের পবিত্র সম্পর্ককে কলুষিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, এটি তাঁকে অপমান করার এবং বাবা-মেয়ের সম্পর্ককে কলঙ্কিত করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।

১৪ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

এমনকি এই মামলায় এক জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করেছিল পুলিশ। যোগেন্দ্র ওরফে যোগরাম নামের সেই ব্যক্তি আশ্রমে সাধ্বীর ধর্মোপদেশের অনুষ্ঠানের সময় সাউন্ড সিস্টেম ব্যবস্থাপনার কাজ করছিলেন।

১৫ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

ভাইরাল ভিডিয়োটি দেখে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনেকেই তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। অশ্লীল বলে দাগিয়ে দেন নিন্দকেরা। কিন্তু তাঁর ভক্তেরা ওই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বিতর্ক তাঁর খ্যাতি এবং মানসিক সুস্থতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে শুরু করে বলে ধারণা অনেকেরই।

১৬ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

সাধ্বী প্রেম অভিযোগ তোলেন, ব্ল্যাকমেল করার জন্য সম্পাদিত ভিডিয়োটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই নিয়ে জোধপুরের বোরানাদা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন প্রেম। অভিযোগে তিনি পুলিশকে জানান, তাঁর কাছে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। অন্যথায় ভিডিয়োটি প্রকাশ করে দেওয়া হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয়। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

১৭ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

সাধ্বীর ‘ডিজিটাল সুইসাইড নোট’টি প্রকাশ করার সময় আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, না কি অন্য কেউ আপলোড করেছেন— তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করার অনুমতি কার বা কাদের ছিল তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরেও নানা ধরনের প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বাবা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতে দ্বিধা করছেন এবং প্রাথমিক ভাবে ময়নাতদন্ত করতে নারাজ ছিলেন বলে সূত্রের খবর।

১৮ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

মৃত্যুর পর সাধ্বীর মরদেহ হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দেয় পরিবার। পরিবর্তে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে মৃতদেহ আশ্রমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইঞ্জেকশন দেওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

১৯ ১৯
Who was Sadhvi Prem Baisa

প্রিয় সাধিকার মৃত্যুর খবরে আশ্রমে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক ভক্ত জড়ো হয়ে এই মৃত্যুর সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁকে পৈতৃক গ্রাম পারেউতে সমাহিত করা হবে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। সমাধিস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসন পর্যাপ্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন করেছে।

সব ছবি: ফেসবুক ও সংগৃহীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি