নতুন বছর। নতুন উদ্দীপনা। জীবনকে নতুন ভাবে গুছিয়ে নেওয়ার, বদলে ফেলার তাগিদ। নতুন বছর নিয়ে কমবেশি সকলের মধ্যেই উত্তেজনা থাকে। আশা করেন, জীবনে অনেক ভাল কিছু, নতুন কিছু ঘটবে। অনেকের কাছেই এটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত।
কিন্তু উদ্যাপনের পাশাপাশি প্রতি বছর শুরুর সময় আরও একটি বিষয় নিয়ে অনেকেই মুখিয়ে থাকেন। আর তা হল, ভবিষ্যদ্বাণী।
ফরাসি দার্শনিক তথা ভবিষ্যৎদ্রষ্টা নস্ট্রাদামুস হোক বা বুলগেরিয়ার ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা, নতুন বছর নিয়ে কী বলে গিয়েছেন তা জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন অনেকে। ২০২৬ সাল নিয়ে তাঁদের ভবিষ্যদ্বাণী আবারও অনলাইনে ‘ট্রেন্ড’ করছে। এমনকি আধুনিক যুগের ভবিষ্যদ্দ্রষ্টারাও বছরের ভবিষ্যৎ বদলানোর ট্রেন্ডে নাম জুড়েছেন।
২০২৬ সাল নাকি যুদ্ধ, দুর্যোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, এমনকি মানুষের সঙ্গে ভিন্গ্রহীদের মুখোমুখি হওয়ার বছর। তেমনটাই নাকি চলতি বছরের ভবিতব্য। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে একটি হল— তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
একনজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ নিয়ে কার ভবিষ্যদ্বাণী কী বলছে। বাবা ভাঙ্গা বুলগেরিয়ার ভবিষ্যদ্দ্রষ্টা। বিশ্বাসীদের মতে, বহু বার নাকি মিলে গিয়েছে তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণী। তাঁর মুখের কথা নাকি অব্যর্থ।
একের পর এক শোরগোল ফেলা সব ভবিষ্যদ্বাণী করে বাবা ভাঙ্গা জনপ্রিয়তার শিখরে। মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত এই পৃথিবী এবং তার বাসিন্দাদের জন্য অনেক ভবিষ্যদ্বাণী রেখে গিয়েছেন তিনি।
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০২৬ সালে একটি বড় বৈশ্বিক সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নাকি দাবি করে গিয়েছিলেন, চলতি বছরে বিশ্বের পূর্ব প্রান্তে একটি বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হবে। ধীরে ধীরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিনের মতো প্রধান বিশ্বশক্তিগুলি সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অনেকেই মনে করছেন, আদতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কার কথাই শুনিয়ে গিয়েছেন বাবা।
অনেকে মনে করেন মহাজাগতিক দুনিয়ার ভবিষ্যৎও নাকি দেখে গিয়েছিলেন বাবা ভাঙ্গা। তিনি নাকি দাবি করে গিয়েছিলেন, চলতি বছরে বহির্জাগতিক জীবনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন হতে পারে পৃথিবীর।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে বাবা ভাঙ্গার কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী প্রাধান্য পেয়েছে এ বছর। তাঁর দাবি, চলতি বছরে ভয়াবহ ভূমিকম্প, সুনামি, বন্যা এবং অগ্ন্যুৎপাতের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে মানুষকে, যা পৃথিবীর ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভূখণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভবিষ্যদ্বাণীও নাকি করে গিয়েছেন বাবা ভাঙ্গা। তাঁর মতে, চলতি বছরে নাকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদে বদল আসবে। তার পরে এক জন শক্তিশালী নতুন নেতা বা একনায়কের উত্থান হবে, যিনি নাকি বিশ্ব রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আনবেন।
ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিক তথা ভবিষ্যদ্দ্রষ্টা ছিলেন নস্ট্রাদামুস। ১৫৫৫ সালে তাঁর লেখা বই ‘লে প্রফেটিস’-এর জন্য তিনি বিখ্যাত। সেই বইটিতে ছিল ৯৪২টি কবিতার সঙ্কলন, যার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে ঘটবে এমন বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে আগাম বলে গিয়েছেন। মনে করা হয়, তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে অনেকগুলিই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে।
বলা হয়, ১৬৬৬ সালে লন্ডনের ভয়াবহ আগুন, ৯/১১ সন্ত্রাস হামলা থেকে ২০১৬-র ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হওয়া, অনেকাংশেই নস্ট্রাদামুসের ভবিষ্যদ্বাণী নাকি বাস্তবের সঙ্গে মিলে গিয়েছে।
১৫৬৬ সালে মারা গিয়েছেন নস্ট্রাদামুস। কিন্তু তাঁর অনুগামীরা এখনও তাঁর দেখানো পথেই এই ভবিষ্যদ্বাণী করে চলেছেন। আগামী বছর নিয়ে তেমনই কিছু গণনা ইতিমধ্যে করেও ফেলা হয়েছে।
সেই গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নাকি সাত মাসব্যাপী এক নৃশংস যুদ্ধের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন নস্ট্রাদামুস। সেই যুদ্ধ নাকি যেমন ভয়ঙ্কর হবে, তেমনই তা মানুষের জীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনবে।
নস্ট্রাদামুসের আর একটি নাটকীয় দাবিতে বলা হয়েছে, এক জন বিখ্যাত বা শক্তিশালী ব্যক্তি বজ্রপাতের শিকার হতে পারেন ২০২৬-এ। তবে সেই বিখ্যাত মানুষ রাজনৈতিক নেতা বা কোনও তারকা কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চলতি বছরের জন্য নস্ট্রাদামুসের সবচেয়ে অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণীগুলির মধ্যে একটি হল, পৃথিবী জুড়ে ‘মৌমাছির একটি বিশাল ঝাঁক’-এর দেখা দেওয়া। আধুনিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ফরাসি দার্শনিক মৌমাছি বলতে সম্ভবত একটি রহস্যময় রোগের প্রাদুর্ভাবের ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন। পাশাপাশি সুইৎজ়ারল্যান্ডের একটি অংশে রক্তনদীর ধারা বইবে বলেও নাকি ভবিষ্যৎ বাতলে গিয়েছেন নস্ট্রাদামুস।
ব্রাজ়িলীয় যুবক অ্যাথোস সালোমে নিজেকে বর্তমানের নস্ট্রাদামুস বা ‘লিভিং নস্ট্রাদামুস’ বলে দাবি করেন। তাঁর দাবি, আনায়াসেই যে কারও ভবিষ্যৎ তিনি বলে দিতে পারেন। শুধু কোনও ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নয়, ভবিষ্যতে ঘটতে চলা কোনও বিশেষ ঘটনার কথা তিনি আগে থেকে বুঝতে পারেন বলেও তাঁর দাবি।
৪০ বছর বয়সি অ্যাথোস এক জন স্বঘোষিত ভবিষ্যৎ-কথক। তাঁর দাবি, বিশ্বের নামীদামি জ্যোতিষীরা পরামর্শের জন্য তাঁর কাছে ছুটে আসেন।
অ্যাথোস দাবি করেছেন যে, ইতিমধ্যেই তাঁর বেশ কয়েকটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোভিড ১৯ থেকে শুরু করে ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আগ্রাসনের কথাও নাকি তিনি আগে থেকে জানতেন।
নতুন বছরের জন্যও কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন অ্যাথোস। সুমেরুতে নেটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। তিনি এই সম্ভাব্য সংঘাতকে বরফ গলে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ খোলার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছেন অ্যাথোস। তাঁর সবচেয়ে সাহসী দাবিগুলির মধ্যে একটি হল, সৌদি আরব মার্কিন ডলারের বাইরে একটি বর্ধিত ব্রিকস জোটের নেতৃত্ব দিতে পারে যা বিশ্বের অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা পুনর্গঠন করতে পারে এবং আমেরিকান আর্থিক আধিপত্যকে দুর্বল করতে পারে।
বাবা ভাঙ্গা, নস্ট্রাদামুস বা ‘লিভিং নস্ট্রাদামুস’-এর জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, তাঁদের ভবিষ্যদ্বাণীগুলির কোনওটিই যাচাই করা হয়নি। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কোনও ভবিষ্যদ্বাণীকে নির্ভরযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করার জন্য ঘটনার আগে স্পষ্ট বিবরণ রেকর্ড থাকা উচিত এবং একাধিক স্বাধীন উৎস দ্বারা নিশ্চিত হওয়া উচিত। ২০২৬ সালের কোনও ভবিষ্যদ্বাণীই সেই মানদণ্ড পূরণ করে না।
সব ছবি: সংগৃহীত।