Richest Temples of India

হাজার হাজার কোটি টাকা, কেজি কেজি সোনা-রুপোর গয়না থেকে জমি! ভারতের যে ১০ মন্দিরের সম্পদের পরিমাণ আকাশছোঁয়া

বছরের পর বছর ধরে মন্দিরে ভক্তদের দান করা বিভিন্ন জিনিসে বিত্তশালী মন্দিরের ঠিকানা হয়ে উঠেছে ভারত। এর মধ্যে প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেবালয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ মে ২০২৬ ১৩:১৩
০১ ২৪
temple

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে নানা মন্দির। প্রত্যেক দিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী সে সকল মন্দির দর্শনে আসেন। দান করেন নানা জিনিস।

০২ ২৪
temple

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মন্দিরে জিনিস দানের একটা চল দেখা যায়। সে সব তাঁরা ভক্তি থেকেই করে থাকেন। বিশ্বাস করেন, ভগবানের কাছে কোনও জিনিস যদি মন থেকে দান করা যায়, তা হলে মনোস্কামনা পূরণ হয়।

০৩ ২৪
temple

হিন্দু ধর্মে মানত করারও চল রয়েছে। সেখানে ভগবানের কাছে কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থনা করা হয়। সেই মনোস্কামনা পূরণ হলে ভগবানের উদ্দেশে কোনও জিনিস উৎসর্গ করা হবে বলে কথা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকে অর্থ, গয়না প্রভৃতি দান করেন। বহু মানুষ আবার চুল, কাছের কোনও জিনিস অর্পণ করেন।

Advertisement
০৪ ২৪
donation

বছরের পর বছর ধরে মন্দিরে দান করা বিভিন্ন জিনিসে ভারত ঘর হয়ে উঠেছে বিভিন্ন বিত্তশালী মন্দিরের। তার মধ্যে প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দেবালয়।

০৫ ২৪
padmanabhaswamy temple

এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দির। ২০১১ সালে এই মন্দিরের সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। মন্দিরের মাটির তলায় থাকা সিন্দুকগুলি থেকে বিপুল পরিমাণে সোনা এবং মূল্যবান পাথরের খোঁজ মেলে। ভারতীয় মুদ্রায় সে সকল সম্পদের মূল্য প্রায় দুই লক্ষ কোটি।

Advertisement
০৬ ২৪
treasure

পদ্মনাভস্বামীর সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে আনুমানিক ৮০০ কেজি প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা, সোনার তৈরি শ্রীবিষ্ণুর মূর্তি, সোনার চেন, হিরে, প্রবাল প্রভৃতি। এগুলি সবই মন্দিরের গর্ভে থাকা সিন্দুক থেকে পাওয়া গিয়েছে, যা কেরলের ত্রিবঙ্কুর রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

০৭ ২৪
tirupati

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুমালার তিরুপতি মন্দির। এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় হিন্দু মন্দির হিসাবেও খ্যাত। প্রতি দিন প্রায় ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ মানুষ এই মন্দির দর্শন করতে আসেন।

Advertisement
০৮ ২৪
tirupati

পদ্মনাভস্বামীর মতো কোনও রাজপরিবারের সম্পত্তির সঙ্গে তিরুপতির মন্দিরের সম্পর্ক নেই। এই মন্দিরের সম্পত্তির পুরোটাই এসেছে দর্শনার্থীদের ভগবানের কাছে উৎসর্গ করা সামগ্রী থেকে। আনুমানিক ১০ টনের কাছাকাছি সোনার বার তিরুপতি মন্দিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত রয়েছে। এরই সঙ্গে রয়েছে আড়াই টন সোনার গয়না এবং প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।

০৯ ২৪
saibaba temple

মহারাষ্ট্রের শিরডী সাইঁবাবার মন্দির ধনী দেবালয়গুলির মধ্যে তিন নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লাখ মানুষ প্রতি বছর এই মন্দির দর্শনে আসেন। সাইঁবাবার মন্দিরের সঙ্গেও সরাসরি রাজপরিবারের ইতিহাসের কোনও সম্পর্ক নেই। এই মন্দিরের সম্পত্তি পুরোটাই ভক্তের দানের ফল।

১০ ২৪
saibaba temple

সাইঁবাবার মন্দির দৈনিক প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা অনুদান হিসাবে পায়। উৎসবের সময় এই অঙ্ক আরও বাড়ে। টাকা ছাড়াও সোনা, রুপো প্রভৃতি ভক্তেরা সাইঁবাবার উদ্দেশে অর্পণ করে থাকেন। এই মন্দিরের মোট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৮০০ কোটির কাছাকাছি বলে মনে করা হয়।

১১ ২৪
vaishnodevi

চারে রয়েছে জম্মুর প্রায় ৫২০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মাতা বৈষ্ণোদেবীর মন্দির। এটিকে ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ধনী মন্দির। বার্ষিক প্রায় ৮০ লক্ষ দর্শনার্থী এই মন্দিরে আসেন। দেবীর কাছে তাঁদের উৎসর্গ করা নৈবেদ্য থেকেই গড়ে উঠেছে মন্দিরের বিপুল সম্পত্তি।

১২ ২৪
vaishnodevi

২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে ভক্তেরা প্রায় ১৮০০ কেজি সোনা এবং ৪৭০০ কেজি রুপো অর্পণ করেছেন বলে জানতে পারা গিয়েছে। বার্ষিক ৫০০ কোটিরও বেশি অনুদান পায় বৈষ্ণোদেবী মন্দির। তবে এ সকল সম্পত্তির বেশ কিছুটা অংশ বৈষ্ণোদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে সামাজিক কাজে ব্যবহার করা হয়। সেই অঞ্চলের শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে এই সম্পত্তির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

১৩ ২৪
siddhibinayak mandir

মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে অবস্থিত সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরও ধনী মন্দিরের দৌড়ে বিশেষ পিছিয়ে নেই। মহারাষ্ট্রের নামকরা মন্দিরগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। সিদ্ধিদাতা গণেশের কাছে এসে ভক্তেরা যেমন সিদ্ধি চান, তেমনই দু’হাত ভরে দানও করেন।

১৪ ২৪
siddhibinayak mandir

এই মন্দিরের বার্ষিক আয় প্রায় ১০০ কোটি থেকে ১২৫ কোটি টাকা। এর সঙ্গে রয়েছে কেজি কেজি সোনা এবং রুপো। প্রতি বছর যা অনুদান পাওয়া যায়, তার ২০ শতাংশ মন্দির কর্তৃপক্ষ সামাজিক কাজে ব্যবহার করে থাকেন।

১৫ ২৪
golden temple

তালিকায় ছয় নম্বরে রয়েছে প়ঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির। এই মন্দিরের নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে তার সম্পত্তির পরিমাণ। শিখদের কাছে এই মন্দির অত্যন্ত পবিত্র।

১৬ ২৪
golden temple

স্বর্ণমন্দিরটি ৭৫০-১৫০০ কেজি সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। প্রতি বছর ভক্তেরা আনুমানিক ৫০০ কোটি টাকা এই মন্দিরে দান করেন। সে সব টাকার বেশির ভাগ অংশই এখানে অবস্থিত লঙ্গরখানায় খাওয়ানোর কাজে খরচ হয়।

১৭ ২৪
meenakshi temple

তামিলনাড়ুর মীনাক্ষি আম্মান মন্দির তালিকায় সাত নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। এটি তামিলনাডুর পর্যটনশিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এই মন্দির দর্শনে আসেন। দানও করেন প্রচুর টাকা।

১৮ ২৪
meenakshi temple

দৈনিক প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী এই মন্দিরে যান। বার্ষিক প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা দান থেকে পাওয়া যায়। এ ছাড়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে পুরনো সোনার গয়না এবং হিরে বসানো মুকুট। বিশেষ দিনগুলিতে দেবীকে সে সকল গয়না পরিয়ে সাজানো হয়।

১৯ ২৪
puri temple

ওড়িশার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরটি ভারতের বৃহত্তম ভূসম্পত্তির মালিকানা থাকা ধর্মীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম। ৬০ হাজার একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে এই মন্দিরটি অবস্থিত।

২০ ২৪
puri temple

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া পুরীর রত্নভান্ডার সম্বন্ধে প্রায় সকলেরই জানা রয়েছে। সেখানে কয়েকশো কিলোগ্রাম সোনা এবং রুপোর গয়না বর্তমান।

২১ ২৪
sabarimala temple

কেরলের শবরীমালা মন্দিরের সম্পদও আকাশছোঁয়া। ভারতের ধনী মন্দিরগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। বছরের নির্দিষ্ট সময় খোলা থাকলেও, বার্ষিক ২৪৫ কোটি টাকার কাছাকাছি অনুদান পায় এই মন্দির।

২২ ২৪
sabarimala temple

শবরীমালার সম্পদের পরিমাণ ১৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি, যা পুরোটাই গড়ে উঠেছে ভক্তদের দান করা টাকা এবং সোনায়। এ ছাড়া এই মন্দিরের বিখ্যাত প্রসাদ বিশেষ এক ধরনের পায়েস বিক্রি করেও মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রচুর আয় করেন।

২৩ ২৪
somnath temple

গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরের সম্পত্তিও কম কিছু নয়। হিন্দু ধর্মের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে সোমনাথ মন্দির অন্যতম। এই মন্দিরের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সেই কারণে প্রতি বছর এখানে ভক্তের ভিড়ও হয় দেখার মতো।

২৪ ২৪
somnath temple

সোমনাথ মন্দিরের চূড়াটি প্রায় ১৫০ কেজি সোনা দিয়ে তৈরি। এর গর্ভগৃহে রয়েছে আনুমানিক ১৩০ কেজি সোনা। এই মন্দিরে বার্ষিক ঠিক কত টাকা অনুদান পড়ে সে সম্বন্ধে সঠিক ভাবে জানতে পারা যায়নি। তবে তা অবশ্যই কয়েক হাজার কোটির কম নয়।

সব ছবি: পিটিআই, সংগৃহীত এবং এআই সহায়তায় প্রণীত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি