বড়পর্দার সামনেই নয়, সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনেতা স্বামীর রসায়ন জমে উঠেছিল ক্যামেরার আড়ালেও। তারকা স্বামী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন জেনে ‘তৃতীয় ব্যক্তি’কে ফোন করে তুমুল অশান্তি করেন বলি অভিনেত্রী টুইঙ্কল খন্না। শুধু তা-ই নয়, সেই সহ-অভিনেত্রীকে মারধর করতে নাকি সেট পর্যন্ত ছুটেছিলেন তিনি।
২০০১ সালে টুইঙ্কলকে বিয়ে করেন বলি অভিনেতা অক্ষয় কুমার। বিয়ের দু’বছর পর ২০০৩ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘অন্দাজ়’। এই ছবিতে প্রিয়ঙ্কা চোপড়া জোনাসের সঙ্গে অভিনয় করতে দেখা যায় অক্ষয়কে। পেশাগত কারণে আলাপ হলেও অক্ষয় এবং প্রিয়ঙ্কার সম্পর্কের জল বহু দূর গড়ায়।
বলিপাড়ায় কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে যে, প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন অক্ষয়। সেই জল্পনা কানে পৌঁছে যায় টুইঙ্কলেরও। স্বামীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের কথা জানার পর অক্ষয়ের সঙ্গে তুমুল অশান্তি শুরু হয় তাঁর।
‘অন্দাজ়’-এ অভিনয় করার পর ‘এতরাজ়’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়াক্ত: দ্য রেস এগেনস্ট টাইম’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন অক্ষয় এবং প্রিয়ঙ্কা। শোনা যায়, স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পেরে অক্ষয়কে তাঁর পরিবার এবং প্রিয়ঙ্কার মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিতে বলেছিলেন টুইঙ্কল।
বলিপাড়ার একাংশের দাবি, ২০০৪ সালে ‘ওয়াক্ত: দ্য রেস এগেনস্ট টাইম’ ছবির শুটিং চলাকালীন গোয়ার এক বিলাসবহুল হোটেলে গিয়েছিলেন অক্ষয়। সেই হোটেলের লবিতে সকলের সামনে অক্ষয়ের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন টুইঙ্কল। ঝগড়া করতে করতে অক্ষয়কে নাকি চড়ও মেরেছিলেন টুইঙ্কল।
গোয়ার হোটেলে গিয়ে প্রিয়ঙ্কা সম্পর্কে অক্ষয়কে সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন টুইঙ্কল। অক্ষয় নাকি পরকীয়ার কথা স্বীকারও করেছিলেন স্ত্রীর কাছে। তা শুনে হোটেলে চেঁচামেচি করে একা একাই মুম্বই চলে গিয়েছিলেন টুইঙ্কল।
বলিউডের জনশ্রুতি, প্রিয়ঙ্কাকে ফোন করে তর্ক জুড়ে দেন টুইঙ্কল। সেই তর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে, ফোন রাখার পর প্রিয়ঙ্কাকে মারধর করতে সেটে ছুটে যান টুইঙ্কল।
গুঞ্জন শোনা যায়, ‘ওয়াক্ত: দ্য রেস এগেনস্ট টাইম’ ছবির সেটে পৌঁছে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে দেখা করার জন্য চিৎকার করছিলেন টুইঙ্কল। ভাগ্যবশত তখন সেটে উপস্থিত ছিলেন না প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু সেটে ছিলেন অক্ষয়।
টুইঙ্কলকে উত্তেজিত দেখে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন অক্ষয়। টুইঙ্কলও বিশেষ শর্তে বেধে ফেলেন তাঁর স্বামীকে। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার শর্ত দেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, অক্ষয় যেন আর কোনও ছবিতে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে অভিনয় না করেন, সেই প্রতিশ্রুতিও দিতে বলেন টুইঙ্কল।
সংসার ভাঙার ভয়ে টুইঙ্কলের শর্তে রাজি হয়ে যান অক্ষয়। ‘ওয়াক্ত: দ্য রেস এগেনস্ট টাইম’ ছবির পর অক্ষয় এবং প্রিয়ঙ্কাকে অন্য কোনও ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি। এমনকি, প্রিয়ঙ্কা সহ-অভিনেত্রী হওয়ার কারণে একটি ছবি থেকে নিজে সরেও গিয়েছিলেন অক্ষয়।
ছবিনির্মাতা সুনীল দর্শনের পরিচালনায় ২০০৫ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘বরসাত’। ববি দেওলের সঙ্গে এই ছবিতে অভিনয় করেন বিপাশা বসু এবং প্রিয়ঙ্কা। কিন্তু এই ছবির নায়ক হিসাবে অক্ষয়কে প্রথমে পছন্দ করেছিলেন ছবিনির্মাতারা।
এক সাক্ষাৎকারে সুনীল জানিয়েছিলেন, ‘বরসাত’ ছবিতে অক্ষয়ের বিপরীতে অভিনয় করার কথা ছিল প্রিয়ঙ্কার। এই ছবির একটি গানের দৃশ্যের শুটিংও শেষ করে ফেলেছিলেন দুই তারকা। কিন্তু শুটিং শুরু হয়ে যাওয়ার পর সিনেমা থেকে নিজেকে সরিয়ে ফেলেন অক্ষয়।
সুনীল জানান, ব্যক্তিগত কারণের জন্য অক্ষয় সেই ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। কিন্তু পরিচালকের কাছে শর্তও রাখেন অভিনেতা। প্রিয়ঙ্কাকে সরিয়ে দিলে তিনি সেই ছবিতে অভিনয় করবেন বলে দাবি করেন অক্ষয়।
সুনীল বলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কাকে নিয়ে কিছু রটনা ছড়িয়ে গিয়েছিল। তা নিয়ে অক্ষয়ের ব্যক্তিগত জীবনেও সমস্যা শুরু হয়। তাই ছবি থেকে নিজে থেকেই সরে গিয়েছিলেন তিনি।’’ অক্ষয় সরে গেলে তার পর ববিকে প্রস্তাব দেন ছবিনির্মাতারা।
প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে কাজ না করা নিয়ে অক্ষয়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি পরে বলেছিলেন, ‘‘প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে আমি কাজ করতে চাই না এমন নয়। কোনও ভাল স্ক্রিপ্ট পেলে অবশ্যই একসঙ্গে অভিনয় করব।’’
অক্ষয় যে প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে কাজ করতে চান না তা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এই প্রসঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমার সহ-অভিনেতা কে হবেন, তা জেনে আমি ছবি বাছাই করি না। স্ক্রিপ্ট পড়ে পছন্দ হলে তবেই আমি রাজি হই।’’
সব ছবি: সংগৃহীত।