Bengali Short Story

প্রহরশেষের আলোয়

কাজ আর লেখাপড়া যেন ডিম আর মুরগি। কোনটা যে আগে, বুঝে ওঠা মুশকিল। আর কথা বাড়াতে দিইনি। কড়া ভাষায় বলেছিলাম, “কাল থেকে যেন স্কুলে দেখি।”

ধ্রুব মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৬:৪৬

ছবি: রৌদ্র মিত্র।

হাওয়া যে কোন দিকে বইছে, বোঝা যাচ্ছে না। বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে ধুলো। গ্লাভস-পরা হাতেই আরও এক চিমটে ধুলো তুলল ব্যাটসম্যান। তুলে ছড়িয়ে দিল চোখের সামনে। কিন্তু আবারও সেই। ক্রিকেটে হাওয়ার গতিবিধি বড় প্রাসঙ্গিক। হাওয়াটা এলোমেলো। টেস্টের আজ পঞ্চম দিন। জিততে দরকার দুশো তেতাল্লিশ। দিল্লি দূরে হলেও পৌঁছনো যায়। হাতে সাত-সাতটা উইকেট। তবে লড়তে হবে। ও-পাশে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড আর মাঠটা লর্ডস। মোটামুটি টান-টান খেলা। টেস্ট ক্রিকেট খুব একটা দেখতাম না আমি। দশ বলে কুড়ি থেকে পাঁচ বলে দশের যাত্রাপথে যা রোমাঞ্চ, তাতে টেস্ট দেখার ধৈর্য টিকতে পারত না। কিন্তু খবর রাখতাম। আমারও তখন ক্রিকেট-জ্বর। জ্বরে পারদ তুলতে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি। সেই আমি টেস্ট ম্যাচটা এক রকম বাধ্য হয়েই দেখেছিলাম। বাধ্য করেছিল আমার বাবা। মাস্টার্স হয়ে গেলেও তখনও মাস্টার হয়ে উঠিনি। পেন ঘষছি সরকারি চাকরির ফর্মে। জোর করে বসিয়ে রেখেছিল বাবা। বলেছিল, “শেষ অবধি দেখবি। ছাড়বি না। এতে ধৈর্য বাড়ে।”

বিনোদকে এই কথাগুলোই বলতাম আমি। বলে বলে মুখের ফেনা উঠে যেত। কিন্তু ব্যাটা কানেই নিল না। ওর সব কিছুই এক্ষুনি চাই— “মন থেকে চাইলেই পাওয়া যায় স্যর। তাই বেশি চাইলে বেশি পাব।” কথাগুলো শুনলে রক্ত শিরা-উপশিরার গলিপথ মানে না। মনে হত, কষিয়ে থাপ্পড় মারি। কিন্তু মারতে পারিনি। সে বারে দেখেছিলাম একটা চায়ের দোকানে। নড়বড়ে বেতের মাচায় বসে বসে গরম চায়ে রুটি ডোবাচ্ছিল। ছিমছিমে চেহারা, মাথার এক পাশে বিছানো চুল, আর চোখ দুটো জ্বলজ্বলে। চিনতে ভুল হয়নি। দিন কয়েক এইটের ক্লাস করে স্কুলছুট এক বেয়াদপ। ক্লাসের তুলনায় বয়স একটু বেশিই যেন। জিজ্ঞেস করেছিলাম, “স্কুলে যাস না কেন?”

মুখের উপরে বলেছিল, “কাজ পেয়ে গিয়েছি।”

কাজ আর লেখাপড়া যেন ডিম আর মুরগি। কোনটা যে আগে, বুঝে ওঠা মুশকিল। আর কথা বাড়াতে দিইনি। কড়া ভাষায় বলেছিলাম, “কাল থেকে যেন স্কুলে দেখি।”

লাভ হয়নি। ঈশ্বর মানুষের প্রার্থনাতেই কান দেন না, তো আদেশ। সরকারি শিক্ষা এখন মুদির দোকানে রাখা খোলা চানাচুর। কাচের বয়ামে বন্দি হয়ে পড়ে থাকে পিছনের সারিতে। বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হয়। বয়ামে রাখো, ঠোঙায় ভরো, প্রয়োজন মতো ওজন করো... হাজারো ঝক্কি। শহরের মানুষ ওদিকে তাকায়ও না। তবে গাঁ-গঞ্জে চলে।

দিন চারেক বাদে বাড়ি যেতে হয়েছিল ওর। বাবা বাইরে থাকেন। মা এক কাপ গুঁড়ো দুধের বিস্বাদ চা এগিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “কাজ ফেলে আর কখন যাবে!”

অগত্যা বার করেছিলাম সেই কাচের বয়াম। তুলে ধরেছিলাম একেবারে মুখের সামনে। বই-খাতা, জামা, মিড-ডে মিল, অনুদান— চানাচুরের সমস্ত উপাদান চোখের সামনে ভাসিয়ে দিয়েছিলাম ওঁর। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। ‘বেশ, যেতে বলব’র আশ্বাসটুকু ছিল ব্যবসায় লাগানো পুঁজির চেয়েও কম। যদিও এসেছিল। পরের দিন স্কুলে দেখতেই উৎসাহ জোগাতে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “হ্যাঁ রে, বড় হয়েকী হবি?”

বিনোদ দাঁত বার করে হেসেছিল। যেন বলতে চেয়েছিল, ‘আর কত বড় হব, স্যর?’

তবে মুখে কিছু বলতে পারেনি। সাহায্য করতে আমিই বলেছিলাম, “মাস্টারমশাই?”

শুনে ঠোঁটের দুই কোণ কান ছুঁয়ে গিয়েছিল ওর। সেই ভাবেই বলেছিল, “মাস্টারমশাই হতে অনেক ঝক্কি, অনেক লেখাপড়া। অত ধৈর্য নাই আমার। আমি বড়লোক হব।”

রাগ নামাতে প্রসঙ্গ বদলাতে হয়েছিল আমাকে, “ফল ফলাতে গাছে সার দিতে হয়, জল দিতে হয়। সময় লাগে।” বলে ভেবেছিলাম প্রসঙ্গটা থামবে। কিন্তু ক্লাসঘরের জানলা দিয়ে পিছনের একটা পার্থেনিয়াম ঝোপ দেখিয়ে বিনোদ জিজ্ঞেস করেছিল, “এই গাছে কে জল দেয়, স্যর?”

আমি উত্তর দিইনি। শিরা-উপশিরায় রক্ত নয়, আগুন। হাত উঠতে চাইলেও ওঠাতে পারিনি। কিন্তু হাত উঠিয়েছিল আম্পায়ার। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে ইনসুইং করা বল আছড়ে পড়েছিল হাওয়ায় ধুলো-ওড়ানো ব্যাটসম্যানের প্যাডে। এমনকি তার পর তিন ওভার পেরোতে না পেরোতেই আবারও। সকাল-সকাল পাঁচ উইকেট।

“একটু দেখে খেলতে হয়!” বাবা বিরক্ত হয়ে বলেছিল। আমি তাই বিনোদকে ডেকেছিলাম। টিচার্স রুমে ডেকে বলেছিলাম, “গাছ আর আগাছা এক নয়।”

স্কুলটা তখনও শীত-শেষের শিমুল গাছ হয়ে যায়নি। ধুঁকছে। কুড়ি জন মাত্র ছাত্র, আর চার জন শিক্ষক। শিক্ষক-পিছু পাঁচ জন ছাত্র। অনুপাতটা জবরদস্ত। বিনোদ রোজ স্কুলে আসত। আমি নজর রাখতাম। কিন্তু দুপুরের পর আর দেখতে পেতাম না। এক দিন ধরেছিলাম। গায়ে তামাকের উগ্র গন্ধ। মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল।

“বলছি, এ-সবও শুরু করে দিয়েছিস?” খেঁকিয়েছিলাম ওকে।

কিন্তু তাতে ওর অভিব্যক্তিতে বিন্দুমাত্র হেলদোল হয়নি। ওই একই ভাবে দাঁড়িয়ে বলেছিল, “টিফিনের পর আমার হবে না স্যর।” আমাকে ‘কেন’ জিজ্ঞেস করতে না দিয়েই আরও বলেছিল, “হাজার বিড়ি বাঁধলে দুশো টাকা। আগে মা বাঁধত। কিন্তু মায়ের এখন সারা দিনের কাজ। অনেক টাকা। সন্ধে হলেই ঘুমপায় আমার। বিড়ি বাঁধার কাজটা ছেড়ে দেব?”

সকালের প্রেয়ার, ঘণ্টা, টিচার্স রুমের আলোচনা, সরস্বতী পুজো, এ-সব তখন হামাগুড়ি দিয়ে বাউন্ডারি ছোঁয়া বল। খেলাটা বেশ চলছিল। এক পাশে অভিজ্ঞ, ধৈর্যবান, আর অন্য পাশে লম্বা চুলের ছাব্বিশ বছরের ব্যাটসম্যান। আউটফিল্ড স্লো হলেও হামাগুড়ি দেওয়া বলে জোর ছিল। সেই সময়েই হুট করে ব্যাটের গা ঘেঁষে বেরিয়ে গেল একটা বল। আওয়াজও হল।

“হাউজ় দ্যাট?” প্রশ্নটা কান ফাটিয়ে দিচ্ছে। দূরে কনুইয়ে হাত বোলাচ্ছে সেই যুবক। যেন বোঝাতে চাইছে, ব্যাট নয় বল ছুঁয়েছে ওর কনুই। বোঝাতে পারলও। তবে আমি বুঝিনি। সাবধানে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “পড়বি কখন তা হলে?”

বিনোদ বুক ফুলিয়ে বলেছিল, “কেন, ইশকুলে এসে। হবে না?”

লাঞ্চ টাইমে আর মাত্র একশো তিয়াত্তর রান বাকি। বাবাও পাশ থেকে জিজ্ঞেস করেছিল, “হবে?” আমি আশাবাদী ছিলাম। বিশেষ করে আশাবাদী ছিলাম ওই চার-ছয় হাঁকানো যুবকের জন্য। হাঁকাচ্ছিলও। বাবাকে উত্তর না দিলেও বিনোদকে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, “হবে। তুই পারবি। কাজ ছাড়তে হবে না। কিন্তু লেখাপড়াটা ছাড়িস না।”

বিনোদ ছাড়েনি। গায়ে তামাকের গন্ধ নিয়ে রোজ আসত। ফিরে যেত মিড-ডে মিলের পরেই। ব্যাটে-বলে হচ্ছিল ভাল। বল পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন বল হামাগুড়ি ছেড়ে দৌড়চ্ছে। একশো তিয়াত্তরের লক্ষ্যটা নেমে এসেছে একশো ঊনপঞ্চাশে। গতি বাড়িয়েছে প্রতিপক্ষের বোলারও। আলো, হাওয়া সমস্ত কিছুকে কাজে লাগাতে মরিয়া। কাজে লাগালও। ঝড়ের গতিতে ইনসুইং-খাওয়া লো বাউন্স বল। রে-রে করে তেড়ে এল একেবারে উইকেটের দিকে। অভিজ্ঞ, ধৈর্যবান ব্যাটসম্যান উইকেটের সামনে স্থির। আমিও স্থির হয়ে গিয়েছিলাম।

হুট করে বেশ কয়েক দিন স্কুলে আসেনি বিনোদ। আবারও স্কুলছুট। শেষ চেষ্টা করতে আরও এক বার হাতে তুলে নিয়েছিলাম সেই আশ্চর্য চানাচুরের বয়াম। কিন্তু সে বারে আর চা দেননি বিনোদের মা। বলেছিলেন, “আপনাদের আশীর্বাদে ছেলে অন্ধ্রপ্রদেশ গিয়েছে। স্টিল ফ্যাক্টরির কাজ। দিন-পিছু চারশো টাকা, সঙ্গে থাকা-খাওয়া ফ্রি।”

ম্যাচটা কি হেরে যাব! পরাজয়ের যন্ত্রণা খতরনাক। টের পাচ্ছিলাম আমি। বিনোদের মা সেই দেখেই হয়তো বলেছিলেন, “বলছি এত দিন ছেলেটা ইশকুলে গেল। পরীক্ষার সময় এসে যদি পরীক্ষাটা দিয়ে দেয়, তা হলে এই কেলাসটা পাশ হয়ে যায়। আপনি দিতে দেবেন?”

বলটা বেল দুটোকে ছিটকে ফেলে অফস্টাম্পকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দুই হাতে হতাশার তালি মেরে বলেছিলাম, “ধুত্তেরি। আর হবে না।”

উঠে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা আটকেছিল। বলেছিল, “খেলা কি শুধুই জয়ের জন্য?”

স্ক্রিনের উপরে তখন ওভারস লেফট ছাপান্ন দশমিক এক। মাঠে ব্যাট হাতে ছাব্বিশ বছরের যুবক। যুবকের পঞ্চাশ হতে তিন রান বাকি।

বিনোদের মা-কে বলেছিলাম, “দেব। ওকে আসতে বলবেন।”

চার পাশ খালি হয়ে যাচ্ছিল। খালি হয়ে যাচ্ছিল আমাদের স্কুলটাও। স্নেক গেমের সাপের মতো বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম পরিষ্কার করে দিচ্ছিল মোবাইলের স্ক্রিন। শীতের শেষে শিমুল গাছের পাতা হাতে গোনা। দু’জন শিক্ষকের ট্রান্সফারের পর ছাত্রসংখ্যাও তলানিতে।

‘স্কুলটা উঠে যাবে। মিশে যাবে দূরের কোনও স্কুলে...’ হাওয়ায় ধুলোর মতো মিশতে শুরু করেছে বুলিগুলো। চক্রবৃদ্ধি সুদের অঙ্ক শেখানো আমি তখন চক্রহ্রাসের সূত্র খুঁজতাম। ট্রান্সফার, লিভিং সার্টিফিকেট আর স্কুলছুট গুনতে গুনতে তিন জন ছাত্র আর দু’জন শিক্ষক। অনুপাতটা বেশ জোরালো। কম করতে অবসর হয়ে গেল আর এক শিক্ষকের। আমি তখন একা। অনেকটা মাঠে থাকা যুবকের মতো। ফিরে যেতে সময় নেয়নি ব্যাট-হাতে মাঠে আসা নতুন তিন লোয়ার অর্ডার। আর মাত্র এক উইকেট। একশো সতেরো রান বাকি।

চার পাশ অন্ধকার। কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছে আকাশ। ঘন ঘন দৃশ্যমানতা মাপছে আম্পায়াররা। তবে পঞ্চাশ করা যুবক তখনও পিচে। তখনও জিততে চায়। প্রাণপণে ছুটে ছুটে দখল রাখছে স্ট্রাইকের। বুক চিতিয়ে আগলাচ্ছে উইকেট। খেলাটা যেন ওর একার।

একাই স্কুল সামলাতাম আমি। মিড-ডে মিলের বাজার সেরে খুব জোরে ঘণ্টা বাজাতাম। যাতে আশপাশের লোকের কানে যায়। মিনতিদি স্কুলে ঢোকার আগে উঁকি মারত, “কেউ এসেছে?” জিজ্ঞেস করে উনুন ধরাত মিড-ডে মিলের। মাঝেমধ্যে ফিরেও যেত। তারইমাঝে বিনোদ এসেছিল। এসেছিল পরীক্ষার আগেই। তিন ক্লাসের তিন ছাত্রকে এক সঙ্গে বসিয়ে ক্লাস নিচ্ছিলাম আমি। বিনোদের রং করা চুল, ফুল প্যান্ট, পরিষ্কার জামা। তবে চোখদুটো ফ্যাকাসে।

“এখানেই ভাল ছিলাম স্যর!” বিনোদের কথায় কিছুটা যেন আলো বাড়ল মাঠে। শেষ উইকেটেও জমিয়ে খেলছে যুবক। কিন্তু বাঁধের সামনে মুখ গুঁজে থাকা জল সুযোগ খোঁজে। সুযোগ খোঁজে বাঁধের গায়ে সুচ-গলা ফাটলের। ফাটল পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়।

“ওখানে গাধার খাটুনি। একই কাজ, আর রোজ রাতে রুটি-তড়কা। ভাত দেয় না। পালিয়ে এলাম।” বিনোদ আরও বলেছিল। এক ওভারে পর পর চার আর ছয় মারল সেই যুবক। তবে বাবা কিছু জিজ্ঞেস করেনি। আমিও কিছু বলিনি। কিন্তু বিনোদ বলেছিল। আপন খেয়ালে বলেছিল, “ওখানে কত বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার। বড় বড় বাড়ি, গাড়ি! কী সুন্দর করে কথা বলে ওরা! লেখাপড়া করে ওরকম হওয়া যায় স্যর?”

আমি লুকোইনি কিছু। বলেছিলাম, “গাড়ি, বাড়ি লেখাপড়া না করেও হয়। কিন্তু ওরকম হওয়া যায় না।”

বিনোদ বুঝতে পারেনি। তাই জিজ্ঞেস করেছিল, “শুনলাম ইশকুলটা নাকি উঠে যাবে?”

“উঠবে না। মিশে যাবে অন্য একটা স্কুলে। তোর চিন্তা নেই। ঠিক পড়তে পারবি।”

আমি সত্যিটাই বলেছিলাম। শুনে বিনোদ হেসেছিল। হেসে বলেছিল, “সে তো অনেকটা। দুপুরের খাওয়ার টাকা বাঁচাতে অত দূর যেতে হবে? ফিরে আসতে আসতেই তো সব হজম। আমার দ্বারা আর লেখাপড়া হবে না স্যর।”

সেদিন এক আকাশ মেঘ। অন্ধকার আবারও জাপ্টে ধরেছে মাঠটাকে। টিভির স্ক্রিনে আর বাকি থাকা রানের হিসাব নেই। এখনশুধু, “ইংল্যান্ড নিড ওয়ান মোর উইকেট টু উইন।”

প্রতিপক্ষ যেন জিতেই যাবে। তবুও অনড় সেই যুবক। জিততেই হবে ওকে। কিন্তু বাধা দিয়েছিল ব্যাড লাইট। মাঠ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। মাঠে আর নামতে পেরেছিল কি না কে জানে! আফসোসের সঙ্গে বাবাকে বলেছিলাম, “এই জন্যই আমি টেস্ট দেখতে বসি না।”

আর বসিওনি। বাবা বিরক্তিকর হাসি হেসে বলেছিল, “জীবনের সব ম্যাচ কি জেতা যায়! কিছু ম্যাচ ড্র করে বেরিয়ে আসতে হয়। তবে হারলে চলবে না।”

বাবা আসলে ক্রিকেটার হতে চেয়েছিল। খেলতও ভাল। গাঁ-গঞ্জে তখন ফুটবলের রমরমা। সেই সময়ে ব্যাট হাতে ঘর ছেড়ে খেলতে গিয়েছিল শহরে। কিন্তু ঠাকুরদার মৃত্যুর পর আর... কমবয়সে খেলা ছেড়ে কাজে নামাটা কিছুটা বাধ্য হয়েই। যদিও খেলা দেখা ছাড়েনি। আমিও ছাড়িনি। খবর পেয়েছিলাম, বিনোদ আবারও চলে গিয়েছে। বিনোদকে আর দেখতেই পাইনি কোনও দিন। আমার নতুন স্কুলটা বন্ধ স্কুলের থেকে বেশ কিছুটা দূরে। দুপুরে মিড-ডে মিলের সময় আমি বাইক ছুটিয়ে আসি। অন্ধকার, খালি মাঠটার মতোই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে স্কুল। বন্ধ দরজার সামনে কিছু ক্ষণ দাঁড়াই।

যদি বিনোদ আসে। অথবা বিনোদের মতো কোনও স্কুলছুট।

আরও পড়ুন