ছোটগল্প
Bengali Literature

নিবিড় সংশোধন

কিছু ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী হেল্পফুল। তাঁরা আশপাশের ঘরের বাসিন্দাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পারমিতাকে সাহায্য করলেও, অনেক ফ্ল্যাটেই আবার উল্টো চিত্র।

মহুয়া সমাদ্দার
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ০৮:৪৬
ছবি: বৈশালী সরকার।

ছবি: বৈশালী সরকার।

দশম শ্রেণির মিঠাইকে স্কুলবাসে তুলে দিয়ে কফি নিয়ে বসল পারমিতা। তার সামনে অজস্র ফর্ম এদিকে-ওদিকে ছড়িয়ে আছে। সব ইনিউমারেশন ফর্ম। এই সময়ে যে কোনও বুথ লেভেল অফিসার অর্থাৎ বিএলও-র ঘরের চিত্র এরকমই। যে দিকে তাকাও শুধু ফর্ম আর ফর্ম। পারমিতার পার্টে প্রায় বারোশো ভোটার। নভেম্বরের চার তারিখ ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিস, মানে ইআরও অফিসে সারা দিন লাইন দিয়ে ফর্ম এনে সেদিনই বিলি করতে শুরু করেছিল সে। তার পরও মাসের কুড়ি তারিখ লেগে গিয়েছে ফর্ম ডিস্ট্রিবিউশন সারতে সারতে।

কিছু ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী হেল্পফুল। তাঁরা আশপাশের ঘরের বাসিন্দাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে পারমিতাকে সাহায্য করলেও, অনেক ফ্ল্যাটেই আবার উল্টো চিত্র। কিছু মানুষকে পাশের ফ্ল্যাটের অনুপস্থিত মানুষজন সম্পর্কে প্রশ্ন করলেই কর্কশকণ্ঠে ‘স্যরি’ বলেই সজোরে দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বারোশো ফর্ম ডিস্ট্রিবিউট করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাকে। মাসের মাঝখান থেকে ফর্ম কালেকশনও শুরু করে দিতে হয়েছিল। নইলে এত ফর্ম তোলা সম্ভব হত না। এখন চলছে ডিজিটাইজ়েশনের কাজ। সারাটা দিন বেশির ভাগ বিএলও ডিজিটাইজ়েশনের চেষ্টা করে চলেছে বলে দিনের বেশির ভাগ সময়েই সার্ভার অস্বাভাবিক ডাউন। তাই রোজই মাঝরাত থেকে ডিজিটাইজ়েশনের কাজে বসতেহচ্ছে পারমিতাকে।

গতকালও তার অন্যথা হয়নি। মিঠাইকে রাত এগারোটার মধ্যেই ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে নিজেও একটু শুয়ে পড়েছিল। সারা দিন লোকের বাড়ি ফর্ম কালেকশনের জন্যে ঘুরে ঘুরে সে আজকাল বেশ ক্লান্তি অনুভব করে। বিছানায় পড়তে না পড়তেই ঘুম এসে যায় চোখে। তাই রোজ রাত একটার সময়ে যখন বিকট শব্দে অ্যালার্ম বেজে ওঠে, তখন তার চোখদুটো বিদ্রোহ ঘোষণা করে। জাগতে চায় না মোটেই। কিন্তু সে নিরুপায়। হাতে আর ক’টা দিন মাত্র। এখন রাত জেগে কাজ না শেষ করতে পারলে, সময়ের মধ্যে জমা করতেই পারবে না এতগুলো ফর্ম।

গত রাতেও সে একটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত একটানা কাজ করে ক্লান্তিতে ভেঙে পড়া শরীর নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছিল। ভোর পাঁচটা থেকে রান্নাবান্না শুরু না করলে ঠিকমতো গুছিয়ে মিঠাইকে সকাল, দুপুর, বিকেলের টিফিন দিতে পারা যায় না। মেয়েটা সাড়ে ছ’টায় বেরিয়ে বিকেল পাঁচটায় ফেরে। পারমিতার যা হয় হোক, কিন্তু মিঠাইয়ের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে তো আর ছিনিমিনি খেলা চলে না! তাই আজ এক মাস যাবৎ এ ভাবেই চলছে।

কফি খেতে খেতেই সোফায় মাথাটা এলিয়ে দিয়েছিল পারমিতা। আর সঙ্গে সঙ্গেই যে চোখদুটো লেগে গিয়েছিল, বুঝতেই পারেনি সে। ঘুম ভাঙল ফোনের আওয়াজে। নভেম্বরের চার তারিখ থেকে ফর্ম ডিস্ট্রিবিউশন-কালেকশনের সঙ্গে সঙ্গে এই এক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। সকাল সাতটা থেকে রাত বারোটা অবধি অনবরত ফোন আসতেই থাকে। এর যেন কোনও বিরাম নেই। এত দিন ফোন এলেই শুনতে পেত, “সবাই ফর্ম পেয়ে গিয়েছে। আমাদের ফর্ম কবে দেবেন ম্যাডাম?”

তার পর শুনতে হত, “সবার ফর্ম জমা নিয়ে নিলেন, আমাদের বাড়ি এসে ফর্মগুলো কালেক্ট করবেননা ম্যাডাম?”

ডিসেম্বরের এগারো তারিখ পর্যন্ত এসআইআর-এর ডেট এক্সটেনশনের ফলে এই দু’রকমের ফোন তো আসছেই, তারই সঙ্গে শুনতে হচ্ছে, “আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের সবার ফর্মই আপলোড হয়ে গিয়েছে। আমাদেরগুলো এখনও হচ্ছে নাকেন ম্যাডাম?”

রাত্রি জাগরণের ফলে ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ নিয়ে বেজে চলা ফোনটা ধরতেই পারমিতার ঘুম পুরো চটকে গেল। সে শুনতে পেল ফোনের ওপার থেকে একটা অতিপরিচিত কণ্ঠ বলছে, “কেমন আছ, বুবুন?”

বুবুন! বুবুন কে? বুবুন নামে তো কাউকে সে আর চেনে না! ‘বুবুন’ নামে এক জন ছিল। কিন্তু সে তো বহু বছর আগে! আর সে কি এখনও আছে নাকি! কবেই মরে গিয়েছে!

পারমিতা থরথর করে কেঁপে উঠল। সে এখনও যেন নিজের কানকে ঠিকঠাক বিশ্বাস করতে পারছে না। সে কি সত্যিই এই এতগুলো বছর পরে আবারও সেই ডাক শুনতে পেল? নাকি এ তার ক্লান্ত, অবসন্ন মনের কল্পনা? পারমিতা বুঝতে পারল, আজ থেকে বারো বছর আগে যে বুবুনকে সুমিত গলা টিপে মেরে ফেলেছিল, সেই বুবুনই এত বছর পরে ঘুম ভেঙে জেগে ইঠেছে। সেই বুবুন চিৎকার করে পারমিতাকে বলে চলেছে, ‘এই দ্যাখ পারমিতা! আমি বেঁচে আছি! আমি মরিনি!’

পারমিতার চোখের সামনে দিয়ে একটার পর একটা পর্দা সরে যাচ্ছে। সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে তার কলেজ। কলেজের গেট। ওই তো, গেটের এক কোণে চুপটি করে দাঁড়িয়ে আছে সুমিত। গায়ে অনুজ্জ্বল শার্ট আর নীচে বহু-ব্যবহৃত ট্রাউজ়ার্স। বছর কুড়ির বুবুন এগিয়ে আসছে সুমিতের দিকে। বুবুন কাছে আসতেই সুমিত ওর হাতটা বাড়িয়ে দিল বুবুনের দিকে। তার পর দু’জনে এগিয়ে চলল ময়দানের দিকে। বুবুনের পিঠ-ব্যাগ খুব ভারী। তার হাঁটতে বেশ কষ্টই হচ্ছে। ব্যাগে যত না বই আছে, তার চেয়ে বেশি আছে খাবার। সে মায়ের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রোজই বেশি করে খাবার নিয়ে আসে সুমিতের জন্যে। ছোটবেলায় বাপ-মা মরা সুমিত বছর তিনেক আগে কলেজ শেষ করার পরেও কলকাতার মেসেই রয়ে গিয়েছে। একটা চাকরির জন্য মরিয়া চেষ্টা করে চলেছে।

দৃশ্য পাল্টে গেল।

পারমিতা দেখতে পাচ্ছে, তার বাবা কড়া গলায় তাকে বলছেন, “না বুবুন। ওই ছেলেটাকে তুমি বিয়ে করবে না। আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, ছেলেটা খুব একটা ভাল ছেলে নয়। তোমার আগে অন্য মেয়েদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক ছিল। তা ছাড়া ও করেটাই বা কী! একটা ইরেসপনসিবল ভ্যাগাবন্ড...”

মরিয়া বুবুন জীবনে প্রথম বার বাবার মুখের উপরে বলল, “তুমি চাও বা না-ই চাও, বিয়ে আমি সুমিতকেই করব বাবা।”

আবারও দৃশ্য বদলেছে।

সারা দিন টিউশন পড়িয়ে, তার মধ্যেই তাদের একমাত্র সন্তান মিঠাইকে সামলে, রাতে বই নিয়ে পড়তে বসত বুবুন। কম্পিটিটিভ পরীক্ষার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। আর সুমিত সারা দিন টো-টো করে ঘুরে বেড়াত। বুবুন কিছু বললে সে সগর্বে উত্তর দিত, “খুব চেষ্টা করছি বুবুন। মিলনকে চেপে ধরেছি। ওর দাদাও তো দুবাইতে কাজ করে। মনে হচ্ছে কাজটা হয়ে যাবে।”

“তুমি দুবাই চলে যাবে?” সবিস্ময়ে বলেছিল বুবুন।

স্মিত হেসে সুমিত বলত, “ওখানে শুধু টাকা আর টাকা। মিলনের দাদা দু’বছর কাজ করতে না করতেই ধনকুবের হয়ে গিয়েছে, জানো! একটি বার ব্যবস্থা করি। তার পর আর আমাদের কোনও অভাব থাকবে না বুবুন।”

বুবুন কাতর গলায় বলত, “আমি এত চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছি। একটা না একটা ঠিক জুটে যাবে, দেখো! দেশ ছেড়ে কোথাও যাবে না তুমি।”

“না বুবুন। আমি কখনওই এ ভাবে বাঁচতে চাইনি। আর দেশের কথা বলছ? এই পোড়া দেশ কী দেবে আমায়? কী আছে এই দেশের? না আছে অর্থ, না কর্মসংস্থান, আর না আছে জীবন। আমি বাঁচতে চাই বুবুন। বাঁচার মতো করে বাঁচতে চাই।”

“হ্যালো... এই বুবুন, কেমন আছ? বললে না যে!”

দীর্ঘ তেরো বছর পরে সুমিতের গলা শুনে পারমিতা ওরফে বুবুন বাস্তবে, তার লোন করে কেনা দুই কামরার ছোট্ট ফ্ল্যাটবাড়ির ড্রয়িংরুমে ফিরে এল। সে সব অস্বস্তি, জড়তা কাটিয়ে বলল, “এত বছর পরে, কী মনে করে, সুমিত?”

সুমিত বোধহয় সরাসরি এমন প্রশ্ন আশা করেনি। সে একটু আমতা-আমতা করে বলল, “না মানে শুনলাম, পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন মানে এসআইআর চলছে তো, তাই...”

“তা আমি কী করব?”

“আসলে এত দিন আমি অনলাইনে ফর্ম ফিল-আপ করার অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার এপিক নাম্বারে কিছুই আসছে না দেখে আমার এক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। ও জানিয়েছে, ইলেক্টোরাল রোলে আমি নাকি মৃত। কে এমন কাজ করল বলো তো বুবুন?”

পারমিতার চোখের সামনে থেকে আবারও একটা পর্দা সরে যাচ্ছে।

সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে, সুমিতের দুবাইয়ে যাওয়ার বছর দুই পরের একটা দিন। তখন আলগা হয়ে যাওয়া সুতোটা পুরোপুরিই টেনে ছিঁড়ে ফেলেছে সুমিত। সে আর আসত না বুবুনদের কাছে, রাখত না কোনও সম্পর্ক। কানাঘুষোয় বুবুন শুনতে পেয়েছিল, দুবাইতে নাকি নতুন সংসার পেতেছে সুমিত।

সেই সময়ে আশঙ্কায়, দুশ্চিন্তায় রাতের পর রাত জেগে কাটাচ্ছে সে। আর ঠিক তখনই কলকাতার এক নামী স্কুলের এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ করে গেল বছর চারেকের মিঠাই। মেয়েকে এই স্কুলে ভর্তি করা-ই ছিল তার স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন যে এ ভাবে ধরা দেবে, ভাবতেই পারেনি বুবুন।

আনন্দে, উত্তেজনায় ভাসতে ভাসতে পেরেন্ট ইন্টারভিউয়ের জন্যে সুইংডোর ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই সেই স্কুলের প্রিন্সিপাল স্পষ্ট ইংরেজিতে বলেছিলেন, “মিসেস অধিকারী, আপনি একা এসেছেন? আমরা তো বোথ পেরেন্টকেই আসতে বলেছিলাম!”

মাথা নিচু করে বুবুন কাঁপা স্বরে বলেছিল, “ম্যাডাম, আমি এক জন সিঙ্গল পেরেন্ট।”

“ওকে। দেন, ডু ইউ হ্যাভ ইয়োর ডিভোর্স পেপার? আপনি কিন্তু অ্যাডমিশন ফর্মে সে-সব কিছুই উল্লেখ করেননি।”

বুবুন মাথা নিচু করে এ বারে সত্যিটাই উগরে দিয়েছিল। সে মিনমিন করে বলেছিল, “ম্যাডাম, অ্যাকচুয়ালি আমার হাজ়ব্যান্ড আমাদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করছেন না। ফলে ডিভোর্সটাও...”

“দেন, উই হ্যাভ নাথিং টু ডু।আই অ্যাম এক্সট্রিমলি স্যরি ম্যাম। উই নিড পেপার্স।”

লজ্জায়, অপমানে বিধ্বস্ত বুবুনের বুকের কাছে একদলা কষ্ট জমাট বেঁধে উঠেছিল। অমন ভাল স্কুলে চান্স পেয়েও মিঠাই ওখানে ভর্তি হতে পারল না, শুধু তার বাবার জন্য। সেদিন থেকেই বুবুনের মনে হচ্ছিল, এর চাইতে তার বিধবা হওয়া ঢের বেশি ভাল ছিল। কারণ বিধবাদেরও একটা সামাজিক পরিচয় আছে, যা বুবুনের নেই। সে ডিভোর্সিও নয়, বিধবাও নয়।

পারমিতার চোখের সামনে থেকে আবারও একটা পর্দা সরে যাচ্ছে। সে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে একটা সকাল।

সকালে উঠে খবরের কাগজ খুলতেই প্রথম পাতার বিশেষ একটা খবরে চোখ আটকে গেল বুবুনের। দুবাইগামী একটা প্লেন ক্র্যাশ করেছে। পুরো খবরটা ভাল করে পড়তেই সে চমকে উঠল। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি যে সব যাত্রী ওই বিমানে ছিলেন তাদের নামের তালিকা ছাপা হয়েছে। সেখানে মৃত যাত্রীদের মধ্যে এক জনের নাম ‘সুমিত অধিকারী’।

বুবুনের মাথায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। এ তো মোক্ষম সুযোগ এসে হাজির। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আর কিছু জানার দরকার নেই।

সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত স্থির করে ফেলল পারমিতা। আগে আশপাশের লোকজনকে জানাতে হবে। সারা দিন ধরে বিস্তার কান্নাকাটির নাটক করে গোটা পাড়ায় রাষ্ট্র করে ফেলল সুমিতের মৃত্যুসংবাদ।

ভগবানও বোধহয় এই রকমই কিছু একটা চাইছিলেন। তা না হলে ঠিক সেই সময়েই ওদের পাড়ায় বার্ষিক এসআরইআর-এর অর্থাৎ ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন অব ইলেক্টোরাল রোল’-এর কাজ শুরু হবে কেন! পারমিতা তৎক্ষণাৎ তাদের পাড়ার বুথ লেভেল অফিসার, সীমাদির সঙ্গে যোগাযোগ করল। ফিল-আপ করল ফর্ম-সেভেন, অর্থাৎ পরিবারের কাউকে মৃত ঘোষণা করার ফর্ম। পারমিতা সুমিতের মৃত্যু-পরোয়ানায় সই করে জমা করল নিজের হাতে। বিমান দুর্ঘটনায় সুমিতের মৃত্যুর খবর জানতে তো পাড়ার কারও বাকি ছিল না।

সেই শেষ। এর পর ‘সুমিত’ শব্দটা ধীরে ধীরে তাদের জীবন থেকে মুছে যেতে যেতে এক সময় সেটা ‘নেই’ হয়ে গিয়েছে। ছোট্ট মিঠাই সুমিতের দুবাই চলে যাওয়ার পর থেকেই অনেক কেঁদেছে। পরে এক সময়ে সেও শান্ত হয়ে গিয়েছে। সুমিতের প্লেন ক্র্যাশের মাসখানেকের মধ্যেই কর্পোরেশনের একটা ক্লারিক্যাল কাজও জুটে যায় তার। এই পরীক্ষায় সে আগেই পাশ করেছিল। প্যানেল করা ছিল। চাকরিটা পেয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের জীবন ক্রমশই উজ্জ্বলতর হয়েছে। বুবুনের মা-বাবা গত হওয়ার পর ‘বুবুন’ নামটাও নিজের খোলস ছেড়ে কবে যেন ‘পারমিতা’-র পোশাকি আড়ালে লুকিয়ে পড়েছে।

“হ্যালো! হ্যালো!” ফোনে ভেসে আসছে সুমিতের উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর। সম্বিৎ ফিরল পারমিতার।

“এই বুবুন, আমি কী ভাবে ‘মৃত’ হয়ে গেলাম, বললে না তো?”

পারমিতা একটু জল খেয়ে শুকনো গলাটা ভিজিয়ে নেয়। তার পর কেটে কেটে স্পষ্ট উচ্চারণে করল, “সুমিত, তুমি একটু একটু করে আমাদের সম্পর্কটার মৃত্যু ঘটিয়েছিলে নিজের সুখের জন্য। আর আমি একেবারেই তোমাকে মুছে ফেলেছি আমাদের জীবন থেকে। এ ব্যাপারে আমাকে আর বিরক্ত কোরো না... রাখছি...”


আরও পড়ুন