কোন বাঙালি ধাঁচের রান্না খেতে ভালবাসেন নীনা গুপ্ত? ছবি: সংগৃহীত।
মটর পনির, পালং পনির, শাহি পনির, পনির বাটার মশলা, পনির টিক্কা, পনির পসিন্দা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। পনিরের নানা রকমের রান্না খান এ দেশের মানুষ। নিরামিষপ্রেমীরা পনিরকে নানা রকমে আমিষ রান্নার পদ্ধতিতে বানিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষাও করেন বিস্তর। নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় পোস্ট করা একটি ভিডিয়োয় অভিনেত্রী নীনা গুপ্ত জানিয়েছেন, তিনিও পনির খেতে ভালবাসেন। তবে পনিরের চেনা রেসিপি রাঁধতে ভালবাসেন না। যে কোনও সাধারণ দিনে পরিবারের ক’জনের জন্য পনিরের কিছু বানাতে হলে তিনি যে রান্নাটি করেন, সেটি খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনই বানানোরই ঝক্কি নেই। আর ওই রান্নায় পেঁয়াজ-রসুনের মতো মশলাও পরে না।
নীনা জানিয়েছেন, তাঁর পনিরের তরকারি রান্না হয় আলু দিয়ে। আর এই রান্নার সঙ্গে বাঙালির আলু-পনিরের ডালনার বেশ মিল আছে। বাঙালির ডালনা রান্নার মতোই এতেও আদা-জিরের মশলা পড়ে। বাঙালিরা বলেন আলু-পনিরের ডালনা। যদিও নীনা জানিয়েছেন, তাঁর রান্নার নাম ‘রসে কি আলু-পনির’ অর্থাৎ আলু-পনিরের রসা। কী ভাবে সেই রান্না করেন নীনা?
নীনা জানিয়েছেন, তাঁর আলু-পনিরের তরকারিতে খুব সামান্য কিছু উপকরণ পড়ে—
২ কাপ ডুমো করে কাটা সেদ্ধ আলু
২ কাপ টুকরো করে কাটা বাড়িতে বানানো পনির
২টি মাঝারি টম্যাটো
১ টেবিল চামচ আদা কোরানো
১ চা চামচ গোটা জিরে
১ চা চামচ লঙ্কাগুঁড়ো
১/৪ চা চামচ গরমমশলা
২ চা চামচ ঘি
স্বাদমতো নুন
কী ভাবে বানানো হবে সেই রান্না?
প্রথমে প্যানে ঘি গরম করে তাতে জিরে ফোড়ন দিতে হবে। জিরে থেকে সুগন্ধ বেরোতে শুরু করলে তাতে দিতে হবে টম্যাটো কোরানো আর আদা কোরানো। তার পরে ভাল ভাবে ভাজতে হবে। আদা আর টম্যাটোর কাঁচা ভাব চলে গেলে এবং তেলে ছেড়ে এলে ওর মধ্যে দিয়ে দিতে হবে সেদ্ধ আলু। আলু কষানো হলে এবং ওর মধ্যে মশলা ঢুকলে দিয়ে দিতে হবে বাড়িতে বানানো পনির।
রান্না করতে করতেই নীনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি কখনওই বাইরের পনির খান না। কারণ, বাইরের পনির বিপজ্জনক। তিনি সব সময় পনির বাড়িতে বানিয়ে নেন। কথা বলতে বলতেই চলতে থাকে মশলা কষানো। সব কিছু মশলার সঙ্গে ভাল ভাবে কষিয়ে নীতে থাকেন নীনা। মশলায় পনির হালকা ভাজাভাজা হয়ে এলে ওর মধ্যে দেন নুন এবং গরম জল। জল ততটাই দিতে হবে, যতটা গ্রেভি দরকার। নীনা যতটা দিয়েছেন, তাতে আলু আর পনিরের উপরের অংশটুকু দেখা যাচ্ছে।
এর পরে অভিনেত্রীর নির্দেশ, ‘‘আর ঢাকা দেবেন না। খোলা অবস্থাতেই ফুটতে দিন আর শেষে একটু গরম মশলা ছড়িয়ে দিলেই তৈরি ‘রসে কি আলু-পনির’ ।’’
তফাত সামান্যই বাঙালি রান্নায় শুরুতে সর্ষের তেল দিয়ে শেষে ছড়ানো হয় ঘি। দেওয়া হয় অল্প হলুদ আর চিনিও। নীনা তাঁর রান্নায় সেটুকুই বাদ দিয়েছেন শুধু।