Human Habitation in Mars

মঙ্গলেও জন্মাবে সবুজ, বসতি গড়বে মানুষ? বিজ্ঞানীদের আশার আলো দেখাচ্ছে দু’টি অণুজীব

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই অণুজীবের কারণে মঙ্গলের মাটি কংক্রিটের মতো কঠিন জিনিসে পরিণত হতে পারে, যা দিয়ে নির্মাণ কাজও সম্ভব। এর ফলে মঙ্গলে বাড়ি বানানোর জন্য পৃথিবী থেকে হয়তো নির্মাণের উপকরণ নিয়ে যেতে হবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৭
Scientists are hopeful of turning mars fit for human habitation

বড় গাছ রোপণও সম্ভব হতে পারে লালগ্রহে? —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অনুর্বর মঙ্গলেও কি জন্মাতে পারে সবুজ! বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে লালগ্রহ! এই নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। সচেষ্ট রয়েছে আমেরিকার গবেষণাকারী সংস্থা নাসা। কী ভাবে মঙ্গলকে বাসযোগ্য করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করেছেন সেখানকার বিজ্ঞানীরা।

Advertisement

বিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, পৃথিবীর শক্তিশালী কিছু অণুজীব এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তারা মঙ্গলে অক্সিজেন নির্গত করে মানুষের বাসের উপযোগী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এ-ও মনে করছেন এই অণুজীবের কারণে মঙ্গলের মাটি কংক্রিটের মতো কঠিন জিনিসে পরিণত হতে পারে, যা দিয়ে নির্মাণ কাজও সম্ভব। এর ফলে মঙ্গলে বাড়ি বানানোর জন্য পৃথিবী থেকে হয়তো নির্মাণের উপকরণ নিয়ে যেতে হবে না।

কেন এখন মঙ্গল বাসযোগ্য নয়?

মঙ্গল এখন শুষ্ক মরুভূমির মতো। সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা। বায়ুমণ্ডলের আবরণ খুবই পাতলা। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণায় জেনেছেন, অতীতে এই মঙ্গল আরও উষ্ণ ছিল। এতটা শুষ্কও ছিল না। সেখানে জল ছিল বলে মনে করেন বিজ্ঞানীদের একাংশ। তাঁরা এখন মঙ্গলকে সেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছেন।

মঙ্গল নিয়ে গবেষণাকারী ডেভন স্টর্ক এবং এরিকা ডিবেনেডিকটিস মনে করেন এক দিনে লালগ্রহকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন হতে পারে শতাধিক বছর। এখন আন্টার্কটিকায় যেমন সামান্য কিছু বসতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, ভবিষ্যতে মঙ্গলেও তেমন হতে পারে। বিশাল জায়গার সামান্য অংশে থাকতে পারে গুটিকয়েক জনবসতি। আর সেই বসতি মঙ্গলের মাটির নীচে তৈরি করাই শ্রেয় বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে মানুষ যেমন জীবনদায়ী (লাইফ সাপোর্ট)-এর সাহায্যে বেঁচে থাকেন, তেমন ভাবেই থাকতে হবে মঙ্গলেও।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলে যে মানুষ থাকবে, তাঁকে চাষবাস থেকে স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে রসদ জোগাতে জানতে হবে। ক্রমে মঙ্গলের মাটির উপরে তৈরি করা যেতে পারে কাচের গম্বুজাকৃতি ঘর। তার মধ্যে চাষাবাদ থেকে বসবাস, সবই নির্বাহ করতে হবে সেই বাসিন্দাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ সবের আগেও মঙ্গলকে ঘিরে থাকা বায়ুমণ্ডলের স্তর যাতে আরও ঘন হয়, সে দিকে নজর দিতে হবে। তা হলেই একমাত্র কোনও জীবনদায়ী ছাড়া মঙ্গলের মাটিতে হেঁটে বেড়াতে পারবেন মানুষ। মঙ্গলে আবার থাকবে জল।

আর সেই কাজটা করতে পারে পৃথিবীর কিছু শক্তিশালী অণুজীব। মঙ্গলের চরম আবহাওয়া সহ্য করে যারা সেখানে বেঁচে থাকতে পারবে, এমন কিছু অণুজীবেরই প্রয়োজন। ওই জীবেরা মঙ্গলে এক বার বেঁচে থাকতে সক্ষম হলে তারা অক্সিজেন ছাড়বে। তখন সেখানে বড় গাছ রোপণও সম্ভব হতে পারে। তাতেই লালগ্রহ ক্রমে বাসযোগ্য হতে পারে।

সম্প্রতি মঙ্গলের দক্ষিণে অনেকটা কার্বন-ডাই-অক্সাইডের হদিস মিলেছে, যা প্রবল ঠান্ডায় পুরোপুরি জমে নেই। বায়ুমণ্ডলের অন্যতম উপাদান হল এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড। বিজ্ঞানীদের আশা, এই কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে জীবন ধারণ করতে পারে অণুজীব। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দু’টি ব্যাকটিরিয়া এই কাজ করতে পারে। এক, স্পোরসারসিনা প্যাসটিউরি, যা ক্যালশিয়াম কার্বনেট উৎপাদন করে মঙ্গলের মাটিকে কঠিন করে তুলতে পারে। এর ফলে তা দিয়ে মঙ্গলের বুকে নির্মাণ সম্ভব হতে পারে। দুই, ক্রুকোসিডিয়োপসিস, যা মঙ্গলের চরম আবহাওয়ায় বাঁচতে পারবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের। তা অক্সিজেন নির্গত করতেও সমর্থ হবে।

তবে এখনই তা সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য আরও বহু বছর সময় লাগবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সেই দিনের কথা মাথায় রেখেই এখন থেকে ধীরে ধীরে পরিকল্পনা করতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন