Rain Formation

মেঘ থেকে টেনে নামাতে পারে বৃষ্টি, মাটিতে লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য অণুজীব আবিষ্কার! কী ভাবে নামায় বারিধারা?

নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকা প্রোটিনকণা মেঘে গিয়ে বৃষ্টিকে ত্বরাণ্বিত করতে পারে— এই তথ্য আগেই জানতেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সম্প্রতি নতুন গবেষণায় মিলেছে নতুন ধরনের খোঁজ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০০
মেঘে ঢুকে বৃষ্টি তৈরি করতে পারে অণুজীব!

মেঘে ঢুকে বৃষ্টি তৈরি করতে পারে অণুজীব! ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মাটিতে লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য রকমের অণুজীবের হদিস পেলেন বিজ্ঞানীরা। এই অণুজীবগুলি বছরের পর বছর ধরে বৃষ্টি নামাতে সাহায্য করে আসছে। বাতাসের সাহায্যে মেঘে পৌঁছে জলের কণাগুলিকে ভারী করে দিতে পারে এরা। তাতেই সম্ভব হয় মুষলধারে বৃষ্টি। কখনও কখনও তুষারপাতের নেপথ্যেও এই অণুজীবগুলির হাত থাকে।

Advertisement

নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে থাকা প্রোটিনকণা মেঘে গিয়ে বৃষ্টিকে ত্বরাণ্বিত করতে পারে— এই তথ্য আগেই জানতেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সম্প্রতি নতুন গবেষণায় মিলেছে নতুন ধরনের এক ছত্রাকের খোঁজ। এগুলি থাকে মাটির ভিতর। সেখান থেকেই আকাশে পৌঁছে দেয় বর্ষণের সঙ্কেত! প্রকৃতিতে বৃষ্টির অনুপাত এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে গাছগাছালি, জঙ্গলের প্রয়োজনীয়তা কত, আরও এক বার এই গবেষণা থেকে তার প্রমাণ মিলল।

কী ভাবে মাটিতে মিশে থাকা অণুজীব বৃষ্টি নামাতে পারে? তা বোঝার জন্য আগে মেঘ থেকে বৃষ্টির রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি ঝালিয়ে নেওয়া দরকার। বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে যেখানে মেঘ থাকে, সেখানে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসেও জল জমে বরফ হতে পারে না। কারণ, জমার জন্য প্রয়োজনীয় কোনও কঠিন অবলম্বন সে পায় না। মেঘের স্তরে বাতাসের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে অনেক নীচে থাকে। তবে বিশুদ্ধ জল মেঘে -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্তও তরল অবস্থায় থাকতে পারে।

বৃষ্টি নামাতে গেলে মেঘের ভিতর জলকে আগে বরফে পরিণত হতে হয়। জমাট বাঁধার জন্য তার প্রয়োজন হয় ‘বীজ’। জলের অণুগুলি তাকে ধরেই বরফে জমাট বাঁধতে পারে। তার পর তা বৃষ্টি হয়ে নীচে ঝরে পড়ে। মেঘে সাধারণত ‘বীজ’ হিসাবে কাজ করে ধুলোবালি এবং নুনের কণা। বাতাসের সঙ্গে ভেসে ভেসে তা মেঘে পৌঁছোয়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, জলকে জমাট বাঁধানোর কাজে এই ‘বীজ’ খুব একটা কার্যকরী নয়। জলকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করার জন্য তাদের হিমাঙ্কের অনেক নীচের তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। ‘বীজ’-এর এই খামতি কমাতেই আসরে নামে ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকেরা।

মেঘের ভিতর বৃষ্টি তৈরির জন্য কার্যকরী ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে অন্যতম সিউডোমোনাস সিরিঙ্গি। এগুলি গাছের পাতায় থাকে এবং মেঘে পৌঁছে তরল জলকে জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে উপস্থিত বিশেষ প্রোটিন -২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও জল জমাট বাঁধাতে পারে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের খুব বেশি নীচে নামার প্রয়োজন হয় না। নতুন গবেষণায় দাবি, এক ধরনের ছত্রাকের প্রোটিন বৃষ্টি তৈরিতে এই ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও কার্যকরী। ব্যাকটেরিয়াগুলি জলকে বরফ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনকণা নিজেদের শরীরের ভিতরেই রাখে। ছত্রাক সেই প্রোটিন লুকিয়ে রেখে দেয় মাটির মধ্যে।

বিশেষ ধরনের ছত্রাকের গঠন তার প্রোটিনগুলিকে জলে দ্রবণীয় কণায় পরিণত করে। ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের চেয়েও তা আকারে ছোট হয়। বরফ সৃষ্টিকারী ক্ষমতাও এদের বেশি থাকে। ফলে এগুলি মেঘের ‘বীজ’ হিসাবে অনেক বেশি উপযুক্ত এবং কার্যকরী বলে বিজ্ঞানীদের একাংশের দাবি।

ঘন জঙ্গলের ভেজা মাটিতে এই বিশেষ ধরনের ছত্রাক বেশি পরিমাণে থাকে। প্রকৃতির নিয়মে অনবরত তারা কাজ করে চলেছে। মেঘের ভিতর -৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রাতেও জলকে বরফে পরিণত করতে পারে এই ছত্রাক। বরফের কণাগুলি একে অপরের সঙ্গে জুড়ে ক্রমে বড় হয় এবং একটা সময়ের পর মাধ্যাকর্ষণের টানে তা নীচে নেমে আসে। বরফের কণা নীচে উষ্ণ তাপমাত্রার সংস্পর্শে এসে ফের জলে পরিণত হয় এবং বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে। বিজ্ঞানীদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটি চক্রাকারে চলে। ছত্রাক মেঘে পৌঁছে জলকে জমাট বাঁধায়, তা থেকে বৃষ্টি হয় এবং সেই বৃষ্টির কারণেই জঙ্গলের মাটি ভেজা থাকতে পারে। ভেজা মাটিতে এই ছত্রাক আরও বেশি করে বৃদ্ধি পায়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সিউডোমোনাস ব্যাকটেরিয়াগুলি গাছের পাতা এবং ফসলের ক্ষতি করতে পারে। পাতা থেকেই তারা তাদের প্রোটিন এবং পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে। কিন্তু ছত্রাকগুলি তুলনামূলক শান্তিপ্রিয়। মাটিতেই তারা নিজেদের প্রোটিন জমিয়ে রাখে। তার ফলে তাদের মাধ্যমে গাছ বা ফসলের কোনও ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না। বিশ্ব উষ্ণায়নের যুগে আরও বেশি করে এই ধরনের ছত্রাক চেনা দরকার বলে বিজ্ঞানীদের মত। গাছ কাটলে, জঙ্গল কেটে সাফ করে দিলে এই ধরনের উপকারী ছত্রাকও নাশ হবে। পরিবেশ বাঁচাতে তাই এই অণুজীবীয় কার্যকলাপগুলি বোঝা জরুরি।

Advertisement
আরও পড়ুন