Voyager 1

১৯৭৭ থেকে পৃথিবীর টান ছাড়িয়ে ছুটে চলেছে মানুষের তৈরি দ্রুততম যান! কত আলোকবর্ষ পেরোল, শেষ কোথায়?

ভয়েজ়ারকে শক্তি জোগায় কে? প্লুটোনিয়ামের তাপ থেকে উৎপাদিত শক্তির মাধ্যমে সে চলে। এ বার সেই প্লুটোনিয়ামের শক্তিই ক্রমে ক্ষয় হচ্ছে। এ বার কী হবে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ ০৯:১৪
ভয়েজ়ার ১।

ভয়েজ়ার ১। ছবি: সংগৃহীত।

ভয়েজ়ার ১-এর থেকে দ্রুতগতির মহাকাশযান এখনও পর্যন্ত মানুষ তৈরি করতে পারেনি। ১৯৭৭ সালে পৃথিবী ছেড়েছিল রোবটচালিত সেই যান। অর্ধশতক পার হতে চলেছে। এখনও তার গতি সেকেন্ডে ১৭ কিলোমিটার। ঘণ্টায় ছোটে প্রায় ৬১ হাজার কিলোমিটার। রাইফেল বুলেটের থেকেও দ্রুতগতিতে ছোটে সে। তার পরেও এক আলোকবর্ষের ৩০০ ভাগের এক ভাগও (০.০০৩ আলোকবর্ষ) অতিক্রম করতে পারেনি ভয়েজ়ার ১। মানুষের তৈরি কোনও জিনিস তার চেয়ে দূরে যায়নি। অথচ সে এখনও এই মহাজাগতিক স্কেলের একেবারে শুরুর বিন্দুতেই রয়েছে। এই দুই সত্যের মাঝের যে ব্যবধান, সেখানেই আটকে রয়েছে মহাবিশ্বের রহস্য।

Advertisement

১৯৮০ সালে শনি গ্রহের পাশ দিয়ে গিয়েছিল ভয়েজ়ার। পৃথিবী থেকে সূর্যের যে দূরত্ব, এখন সূর্য থেকে তার চেয়ে ১৭০ গুণ দূরে রয়েছে ভয়েজ়ার ১। বিজ্ঞানীদের হিসাবে ২৫০০ কোটি কিলোমিটারের আশপাশে। ২০১২ সালে হেলিয়োপজ় অতিক্রম করেছে সেই রোবোটচালিত মহাকাশ যান, যেখানে এসে থেমে যায় সূর্যের কণার বুদবুদ।

আলোকবর্ষ কী?

আলো এক বছরে যত দূরত্ব অতিক্রম করে, তাকেই বলে আলোকবর্ষ। সেই দূরত্ব হল ৯.৫ লক্ষ কোটি কিলোমিটার। পৃথিবী থেকে সূর্যের যা দূরত্ব, তার চেয়ে ৬৩ হাজার গুণ বেশি। ভয়েজ়ার ১ এখন যে গতিতে চলছে, অর্থাৎ সেকেন্ডে ১৭ কিলোমিটার, তাতে এক আলোকবর্ষ দূরত্ব অতিক্রম করতে তার ১৭ হাজার বছর সময় লাগবে।

সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র হল প্রক্সিমা সেন্টাওরি। তার দূরত্ব সূর্য থেকে চার আলোকবর্ষ। ভয়েজ়ার ১-এর গন্তব্য সেই নক্ষত্র নয়। আগামী ৪০ হাজার বছরে সেটি ‘গ্লিজ় ৪৪৫’-এর ১.৬ আলোকবর্ষ দূর দিয়ে যাবে। সূর্য ছাড়া সেটিই হবে মহাজগতের দ্বিতীয় নক্ষত্র, যার এত কাছ দিয়ে যাবে ভয়েজ়ার ১।

২০২৬ সালের নভেম্বরে পৃথিবী থেকে এক আলোক দিন দূরত্বে পৌঁছোবে ভয়েজ়ার ১। সেখানে গেলে পৃথিবী থেকে ওই মহাকাশযানে রেডিয়ো সঙ্কেত পৌঁছতে এক দিন সময় লাগবে। তা পৃথিবীতে ফিরে আসতে আবার এক দিন সময় লাগবে।

ভয়েজ়ারকে শক্তি জোগায় কে?

প্লুটোনিয়ামের তাপ থেকে উৎপাদিত শক্তির মাধ্যমে সে চলে। এ বার সেই প্লুটোনিয়ামের শক্তিই ক্রমে ক্ষয় হচ্ছে। প্রতি বছর চার ওয়াট করে শক্তি ক্ষয় হচ্ছে। যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন তাতে ছিল ৪৭০ ওয়াট। ভয়েজ়ারের অবশিষ্ট শক্তি টিকিয়ে রাখতে তার যন্ত্রগুলি এক এক করে বন্ধ করে দিচ্ছে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল)। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ‘কসমিক রে সাবসিস্টেম’ বন্ধ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘লো-এনার্জি চার্জড পার্টিকেল’ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাত্র দু’টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র চালু রয়েছে— একটি চৌম্বক ক্ষেত্র পরিমাপ করছে এবং অন্যটি প্লাজমা তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করছে।

আগামী এক বছরে এর শক্তি আরও কমে যাবে। তখন তার কোনও যন্ত্রই আর সক্রিয় থাকবে না। তবে ভয়েজ়ার ১ থামবে না। সে নির্দিষ্ট গতি ধরেই মহাকাশে ছুটে বেড়াবে। অন্ধকার অবস্থায়। এভাবে চলতে চলতে এক আলোকবর্ষ দূরত্ব পাড়ি দিতে ওই যানে হাজার হাজার বছর সময় লেগে যাবে। আর অন্য কোনও নক্ষত্রের কাছাকাছি পৌঁছোতে লাগবে হাজার হাজার বছর।

এখন প্রশ্ন হল, আগামী নভেম্বরে এক আলোক দিন পথ পেরোনোর পরে ভয়েজ়ার ১-এর কতটা শক্তি বাকি থাকবে? কত দিন আর তার যন্ত্রগুলি চালু রাখা যাবে? তার পরে ওই মহাকাশযানে আর নজর রাখা যাবে না। তা নিয়ে শুধুই অঙ্ক কষতে হবে। আর কোনও রেডিয়ো সঙ্কেত দেবে না ভয়েজ়ার ১। শুধু অসীমের উদ্দেশে ছুটে যাবে।

Advertisement
আরও পড়ুন