(বাঁ দিক থেকে) কার্লোস আলকারাজ়, আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ এবং জানিক সিনার গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আয়োজকেরা বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন কার্লোস আলকারাজ় এবং ইয়ানিক সিনারকে। নিয়ম অনুযায়ী যে সুবিধা পাওয়া যায় না, সেই সুবিধাই পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে শীর্ষবাছাই দুই খেলোয়াড়কে। তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের পর অভিযোগ করেছিলেন সিনারের প্রতিপক্ষ আমেরিকার ইলিয়ট স্পিজ়িরি। সেমিফাইনালে হারার পর সুর চড়িয়েছেন আলকারাজ়ের প্রতিপক্ষ আলেকজ়ান্ডার জ়েরেভ।
প্রথম ঘটনা গত ২৪ জানুয়ারির। মেলবোর্নের গরমে খেলতে সমস্যা হচ্ছিল সিনারের। পেশিতে টান ধরে। তৃতীয় সেটে ১-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার সময় মেডিক্যাল টাইম আউট নেন সিনার। ১০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখা হয়। পরে স্টেডিয়ামের ছাদ ঢেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালিয়ে বাকি খেলা শেষ করা হয়। সেই ম্যাচ সিনার জিতেছিলেন ৪-৬, ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে।
দ্বিতীয় ঘটনা শুক্রবারের। প্রথম দু’টি সেট আলকারাজ় জেতেন ৬-৪, ৭-৬ (৭-৫) ব্যবধানে। তৃতীয় সেটের ফল ৪-৪ হওয়ার পর পায়ে টান ধরায় মেডিক্যাল টাইম আউট নেন আলকারাজ়। তাঁর ফিজিয়ো কোর্টে এসে শুশ্রূষা করেন। তা দেখে মেজাজ হারান জ়েরেভ। এক ম্যাচ অফিসিয়ালের কাছে গিয়ে প্রতিবাদ জানান। বলেন, ‘‘পায়ে টান ধরার জন্য কেন মেডিক্যাল টাইম আউট দেওয়া হবে? এটা নিয়মের বাইরে।’’ তাতে অবশ্য লাভ হয়নি। খেলা বন্ধ রাখা হয়। কোর্টে শুশ্রূষা নেন আলকারাজ়। প্রথমে অনুরোধের সুরে বললেও পরে ক্ষুব্ধ জ়েরেভ অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেন। সে জন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।
বিতর্ক জ়েরেভের প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে নয়। বিতর্ক আলকারাজ়, সিনারদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া নিয়ে। তৃতীয় রাউন্ডে সিনারের জয়কে কটাক্ষ করেছিলেন টেনিসপ্রেমীদের একাংশ। তাঁদের এক জন বলেছিলেন, ‘‘এই জয় সিনারের অর্জিত নয়। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন কর্তৃপক্ষ ছাদ ঢেকে দিয়ে ওকে জয় উপহার দিয়েছেন। একই তাপমাত্রায় খেলেছেন স্পিজ়িরিও। তাঁর তো কোনও সমস্যা হয়নি। সিনারের সমস্যাটা ব্যক্তিগত। তা-ও বাড়তি সুবিধা দেওয়া হল।’’
জ়েরেভ নিজেই মুখ খুলেছেন সেমিফাইনালে হারের পর। তিনি বলেন, ‘‘পায়ে টান ধরার জন্য আলকারাজ় মেডিক্যাল টাইম আউট নিচ্ছে, এটা অবিশ্বাস্য। টান ধরার জন্য আলকারাজ় কোনও ভাবেই মেডিক্যাল টাইম আউট নিতে পারে না। ওর তো কোনও চোট লাগেনি। আপনারা আসলে ওদের দু’জনকে (আলকারাজ় এবং সিনার) সব সময় বাড়তি সুবিধা দেন। আগলে রাখার চেষ্টা করেন।’’
পায়ে টান ধরলে কি সত্যিই মেডিক্যাল টাইম আউট নেওয়া যায় না? কী বলছে টেনিসের নিয়ম? বাংলার টেনিস কর্তা হিরন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বাইরে থেকে বলা সম্ভব নয়, ঠিক কী হয়েছে। বিতর্ক যে কেউ তৈরি করতে পারে। শিরায় টান ধরলে মেডিক্যাল টাইম আউট নেওয়া যায় না। তবে পেশিতে টান লাগলে নেওয়া যায়। তাতে চোট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ঠিক কী হয়েছে, সেটা যার হয়েছে সেই বলতে পারবে। তাই এ ভাবে বলা যায় না, বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।’’
আর এক টেনিস কর্তা সুজয় ঘোষের বক্তব্য, ‘‘টান ধরার জন্য মেডিক্যাল টাইম আউট নেওয়া যায় না। যা করার খেলোয়াড়কে নিজেকে করতে হয়। এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। এর আগে সিনারের গরমে সমস্যা হওয়ায় খেলা বন্ধ রেখে ছাদ বন্ধ করে দিয়েছিলেন আয়োজকেরা।’’ দুই খেলোয়াড়কে কি বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? সুজয় বলেছেন, ‘‘হতে পারে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। হয়তো আয়োজকেরা মনে করছেন, ওরা দু’জন থাকলে প্রতিযোগিতার আকর্ষণ বেশি থাকবে। তাই ওঁদের প্রতিযোগিতায় রাখতে চাইছেন আয়োজকেরা।’’