Manoj Kothari

প্রয়াত কলকাতার প্রথম বিশ্বজয়ী মনোজ

কলকাতা থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন? কেউ ছিলেন না। ১৯৯০ সালে সেই অভাব পূরণ করলেন মনোজ কোঠারি। অথচ বিশ্ব বিলিয়ার্ডসে তাঁর খেলার সুযোগ পাওয়াই অনিশ্চিত ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:৩৮
স্মরণীয়: ১৯৯০-এ বিলিয়ার্ডসে বিশ্বজয়ী মনোজ কোঠারিকে বরণ করতে এ ভাবেই দমদম বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন ভক্তরা।

স্মরণীয়: ১৯৯০-এ বিলিয়ার্ডসে বিশ্বজয়ী মনোজ কোঠারিকে বরণ করতে এ ভাবেই দমদম বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছিলেন ভক্তরা। — ফাইল চিত্র।

নতুন বছরে বিষাদের ছায়া। সোমবার ৬৭ বছর বয়সে চলে গেলেন ১৯৯০ সালে বিশ্ব বিলিয়ার্ডসে চ্যাম্পিয়ন মনোজ কোঠারি।

বেশ কিছু দিন ধরেই লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন মনোজ কোঠারি। ভর্তি ছিলেন তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলির এক বেসরকারি হাসপাতালে। দিন দশেক আগেই তাঁর লিভার প্রতিস্থাপন হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছিল। কিন্তু সোমবার সকালে হৃদ‌্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

কলকাতা থেকে একাধিক ক্রীড়াবিদ বিশ্বে নজির গড়েছেন। হকির কিংবদন্তি লেসলি ক্লডিয়াসের ট্রফি ক্যাবিনেটে ছিল অলিম্পিক্সের তিনটি সোনার পদক। কেশব দত্ত দু’বার অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন। লিয়েন্ডার পেজ় অলিম্পিক্সেটেনিসে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।

কিন্তু কলকাতা থেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন? কেউ ছিলেন না। ১৯৯০ সালে সেই অভাব পূরণ করলেন মনোজ কোঠারি। অথচ বিশ্ব বিলিয়ার্ডসে তাঁর খেলার সুযোগ পাওয়াই অনিশ্চিত ছিল। স্ট্যান্ডবাই হিসেবে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ফিলিপিন্সের প্রতিযোগী না আসায় খেলার দরজা খুলে যায় মনোজ কোঠারির সামনে। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভোলেননি তিনি। কলকাতা পেল তার প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে। রিচা ঘোষ মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় দলের সদস্য হলেও তাঁর জন্ম শিলিগুড়িতে।

বিশ্বজয়ের মতোই চমকপ্রদ ছিল মনোজের উত্থানের কাহিনি। টেবল টেনিসের মাধ্যমে ক্রীড়া জগতে প্রবেশ তাঁর। উঠেছিলেন রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ আটেও। কিন্তু বিলিয়ার্ডের প্রতি আকর্ষণে ছাড়েন টেবল টেনিস। ওয়াইএমসিএ বিবেকানন্দ রোড শাখায় শুরু হয় মনোজের বিলিয়ার্ড সাধনা। ১৯৯০ সালে স্বপ্নপূরণ। স্ত্রীও ছিলেন বিলিয়ার্ডসে রাজ্যচ্যাম্পিয়ন। ছেলে সৌরভের দু’বার বিশ্বসেরা হওয়ার নেপথ্যেও অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। বাবা ও ছেলের বিশ্ব বিলিয়ার্ডসে শাসন করার নজির খুব বেশি নেই। ভারতীয় দলেও দীর্ঘদিন কোচিং করিয়েছেন তিনি।

ক্রীড়ায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৫ সালে পানকেন্দ্রীয় সরকারের ধ্যানচাঁদ পুরস্কার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ভূষিত করে ক্রীড়াগুরু সম্মানে।

আরও পড়ুন