Sourav Ganguly exclusive

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টাই করেননি কখনও, ইচ্ছাও নেই! বিপর্যয়ের পর মমতার সঙ্গে কথা হয়েছে? কী জবাব সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠবে না, হয় না। বিধানসভা নির্বাচনের পর প্রথম সাক্ষাৎকার আনন্দবাজার ডট কম-কে। উঠল যুবভারতীর মেসি-কাণ্ড, সিএবি-র বিতর্কও।

Advertisement
অনির্বাণ মজুমদার
শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১৯:২৫
Sourav Ganguly

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র

প্রশ্ন: নির্বাচনের ফলঘোষণার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনও কথা হয়েছে?

Advertisement

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়: রাজনীতির মঞ্চে কখনও যাইনি। রাজনীতি করি না। আমার কার সঙ্গে কী কথা হবে, একেবারেই ব্যক্তিগত।

প্রশ্ন: নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন?

সৌরভ: অবশ্যই। ওঁর সঙ্গে আমার বহু দিনের আলাপ। ২০১০ সাল থেকে আলাপ। ব্যস্ত মানুষ। সবে দায়িত্ব নিয়েছেন। অনেক কাজ।

প্রশ্ন: দিলীপ ঘোষকে আইপিএলের সময় সংবর্ধনা দিলেন। মুখ্যমন্ত্রীকেও দেবেন?

সৌরভ: দিলীপবাবু বহু দিন ধরে মাঠে আসছেন। আইপিএলের সময় আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। এগুলো প্রোটোকল। ক্রীড়ামন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আগের ক্রীড়ামন্ত্রী যা টিকিট পেতেন, এখনকার ক্রীড়ামন্ত্রীও একই সংখ্যক টিকিট পান।

প্রশ্ন: একটা সময় রাজ্যবাসী ধরেই নিয়েছিল, আপনি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। সেটা হয়নি। এ বার সরকার বদলাল। আপনি হতে পারতেন? মনে হচ্ছে না কি বাসটা মিস্‌ করলেন?

সৌরভ: ওই বাসে ওঠার চেষ্টাই করিনি। আগেও বলেছি এখনও বলছি, রাজনীতি করতেই চাই না। রাজনীতি করতে চাইলে যখন ইচ্ছে করা যায়। কিন্তু আমি করতে চাই না। কখনও মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইনি।

প্রশ্ন: বিগত সরকারের আমলে রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে বিজেপি সভাপতি নাম না করে আপনাকে খোঁচা দিয়েছেন।

সৌরভ: কোনও মন্তব্য নেই।

প্রশ্ন: শালবনীর কারখানা কী অবস্থায় রয়েছে?

সৌরভ: কাজ চলছে।

প্রশ্ন: শতদ্রু দত্ত বলেছেন, মেসি ইভেন্ট যুবভারতীর বদলে ইডেনে হলে কিছুতেই ওই ঘটনা ঘটত না। কারণ, আপনি রয়েছেন।

সৌরভ: ইডেনে কোনও দিন এই ঘটনা ঘটত না। এত বড় বড় খেলা হয়েছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছে। আইপিএল সেমিফাইনাল হয়েছে, বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল হয়েছে। কোনও দিন কিচ্ছু হয়নি। ওঁকে (শতদ্রু) তো বলেছিলাম ইডেনে করার জন্য।

প্রশ্ন: ইডেনে হল না কেন?

সৌরভ: ওঁর (শতদ্রু) সিদ্ধান্ত। উনি উদ্যোক্তা, ওঁর ইভেন্ট। উনি যুবভারতীতে নিয়ে গিয়েছেন। ইডেনে কেন হল না জানি না।

প্রশ্ন: কিন্তু শতদ্রু তো বলেছেন, ইডেন পাওয়া যায়নি?

সৌরভ: কলকাতায় মেসি আসবে, আমি সিএবি প্রেসিডেন্ট, ইডেন পাওয়া যাবে না, হয় নাকি? আমি ফুটবল-পাগল লোক। মেসিকে দেখতে বার্সেলোনা যেতে পারি। ইংল্যান্ডে গিয়ে ক্রিকেট দেখি না, ‌ফুটবল দেখি। আইএসএলে ২০১৪ সাল থেকে মোহনবাগানের শেয়ারহোল্ডার। পাঁচ বার আইএসএল জিতেছি আমরা। মেসি ইডেনে আসবে শুনে সিএবি সদস্যেরা উৎফুল্ল ছিলেন। কিন্তু শতদ্রু নিজেই যুবভারতীতে নিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের জানাননি। জানানোর কথাও নয়। কারণ, পুরোটাই ওঁর সম্পত্তি। কোথায় অনুষ্ঠান হবে, সেটা উনিই ঠিক করবেন। আমরাও কিছু জানতে চাইনি।

প্রশ্ন: এই ঘটনা এড়ানো যেত? গোটা বিশ্বের কাছে তো কলকাতার মুখ পুড়েছে।

সৌরভ: এড়ানো যেত। ঠিক করে আয়োজন করলেই ঝামেলা হত না। ইডেনে এত বড় বড় ম্যাচ হয়েছে। কবে ঝামেলা হয়েছে? ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছে। ইমরান খান, ওয়াকার ইউনুস, সুনীল গাওস্কর, ওয়াসিম আক্রম, অমিতাভ বচ্চন, মুকেশ অম্বানীরা একসঙ্গে খেলা দেখেছেন। কোনও সমস্যা হয়নি। ইডেনে খেলা শেষ হতে হতে ১১টা-সাড়ে ১১টা বেজে যায়। তখন দর্শকদের ফেরার জন্য মেট্রো-বাস-ট্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্গানাইজ় করা তো একটা আর্ট। কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলাম। কী দুর্দান্ত ব্যবস্থা!

প্রশ্ন: আপনি বোর্ড, সিএবি সামলানো অভিজ্ঞ প্রশাসক। কোথায় সমস্যা হল?

সৌরভ: আমি যখন বোর্ড প্রেসিডেন্ট, কোভিডে ৭০ দিনে আইপিএল হয়েছে। সৌরভ আর জয় শাহ মিলে দুবাইয়ে আইপিএল করেছে। একটাও কোভিড আক্রান্তের ঘটনা ঘটেনি। কোভিডের সময় পর পর দু’বছর আইপিএল হয়েছে। কিচ্ছু হয়নি।

প্রশ্ন: সে দিন আপনি থাকলে কী ব্যবস্থা নিতেন?

সৌরভ: নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতাম। এত লোক ঢুকতই না মাঠে। আমি মাঠে ছিলাম। শো ফ্লো-তে আমার নাম ছিল। কিন্তু ওই পর্যন্ত তো যাওয়াই যায়নি। মাঠের ধার থেকে মেসিকে দেখতে হয়েছে। শাহরুখ খান ঢুকতে পারেননি। শাহরুখ ইডেনে আসেন না? অমিতাভ বচ্চন ইডেনে আসেন না? অর্গানাইজ় করা জানতে হবে তো।

প্রশ্ন: কিন্তু দোষ কি একা শতদ্রুর? পুলিশ, সরকারের কি কোনও ব্যর্থতা নেই?

সৌরভ: এটা নিয়ে কিছু বলব না। বিতর্কিত বিষয়। সমাজমাধ্যমে নানা জিনিস দেখছি, শুনছি।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন?

সৌরভ: কোনও পরিকল্পনা নেই।

প্রশ্ন: তা হলে আপনার লক্ষ্য কী? আবার বিসিসিআই সভাপতি হওয়া? না কি আইসিসি সভাপতি হওয়া?

সৌরভ: জানি না। কোনও লক্ষ্য নেই। টেলিভিশনে কাজ করি। অগস্ট থেকে বিগ বস্‌ এর শুট শুরু হবে। পাঁচ বছরের জন্য ইন্টারন্যাশনাল শো হবে জিয়োহটস্টারে। তার পর দেখি জীবন কোথায় যায়। ওটাই আসল। যখন ক্রিকেট শুরু করি, তখন কি ভেবেছিলাম, দেশের হয়ে খেলব? যে রকম সুযোগ আসবে, সে রকম এগোব।

প্রশ্ন: সেই সুযোগ যদি রাজনীতি থেকে আসে?

সৌরভ: না না, ওটা ইজ় নট মাই কাপ অফ টি। পলিটিক্স খুব কঠিন।

প্রশ্ন: লোকে বলে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসনেরা সমস্যায় পড়লে যুবরাজ সিংহ, সচিন তেন্ডুলকরদের কাছে যান। কেউ আপনার কাছে আসেন না। কেন?

সৌরভ: যখন যার কাছে যে সুযোগ পায়। বেঙ্গল প্লেয়ারেরা আমার কাছে আসে। সঞ্জু সুযোগ পেয়েছে, সচিনের কাছে গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিস তো আমার কাছ থেকে আজ সকালেই শর্ট বল খেলার পরামর্শ চেয়েছে।

প্রশ্ন: সিএবি-তে এ বারও নির্বাচন হল না। আপনি সভাপতি হয়ে গেলেন। এটা কি হওয়া উচিত?

সৌরভ: ২০০৭ সালের পর সিএবি-তে কোনও নির্বাচন হয়নি। ২০১৪, ২০১৯, ২০২২ কখনও হয়নি। দেখলাম বিশ্বনাথ সামন্ত আমার বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছেন। আমি অবাক। ওঁকে জিজ্ঞেস করুন, ওঁর ক্লাবের ১০০ বছরের অনুষ্ঠানের খরচ কে দিয়েছে? ওঁকে বলবেন, আমি জানতে চেয়েছি। ওঁকে জিজ্ঞেস করুন, উনি যে সহ-সচিব হয়েছিলেন, তখন কি কোনও নির্বাচন হয়েছিল?

প্রশ্ন: সিএবি-তে নানা বিতর্ক হচ্ছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মদন ঘোষকে নিয়ে। বয়স ৭০ পেরিয়ে গেলেও সিএবি-র যুগ্ম সচিব পদে উনি রয়েছেন কী করে?

সৌরভ: স্পোর্টস কোড বলবৎ হবে কি না, তার জন্য সিএবি অপেক্ষা করছে।

প্রশ্ন: কিন্তু স্পোর্টস কোড তো শুধু ন্যাশনাল স্পোর্টস ফেডারেশনের জন্য। বিসিসিআই বা তার অনুমোদিত সংস্থাগুলো তো এর আওতায় নয়।

সৌরভ: একেবারেই না। স্পোর্টস কোডের আওতায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও আসবে।

প্রশ্ন: বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগের দল হারবার ডায়মন্ডসের মালিকানা ছিল জিডি মাইনিং নামক এক সংস্থার। অভিযোগ, কোনও রকম টেন্ডার বা এক্সপ্রেশন অফ ইন্টারেস্ট ছাড়াই তাদের মালিকানা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বালিপাচারের অভিযোগে ইডি এই সংস্থার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দিয়েছে। এই দল কি এখনও আছে, না নেই?

সৌরভ: ওদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন আর নেই। আমার আগে টেন্ডার ছাড়া কী হয়েছে, জানি না। আমার সময় সব কিছু টেন্ডার ডেকে হয়েছে। এ বারও নতুন যে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি এসেছে, টেন্ডারের মাধ্যমেই এসেছে। একটা জিনিস বুঝতে হবে, আইপিএল যখন প্রথম শুরু হয়েছিল, তখন টেন্ডার হয়নি। কারণ কেউ জানত না। কেউ নিতেই চাইত না। বোর্ডকে ঘুরে ঘুরে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি জোগাড় করতে হয়েছিল। যখন কোনও কিছু প্রথম হয়, তখন এ ভাবেই হয়। সিএবি-তে সব কিছু টেন্ডার ডেকে হয়।

প্রশ্ন: শোনা গিয়েছে, বিপিএলের অর্গানাইজ়িং এজেন্সি হিসাবে অ্যারিভার বদলে জেএসডব্লিউকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর জন্য অ্যারিভা আইনি নোটিস দিয়েছে। এই অভিযোগ সত্যি?

সৌরভ: আইনি নোটিস দিয়েছে তো। কারণ, আমরা ওদের বরখাস্ত করে দিয়েছি। ওরা তো ভেন্ডর পেমেন্ট করেনি। সিএবি-র কোনও পেমেন্ট ওরা বাকি রাখেনি। কিন্তু যারা ক্যাটারার, বা অন্য নানা ভাবে যুক্ত, তারা টাকা পায়নি। ফ্র্যাঞ্চাইজ়িগুলো ওদের কাজে খুশি ছিল না। এ ভাবে তো হতে পারে না। টেন্ডার ডেকে ওদের বদলি নেওয়া হয়েছে। যাবতীয় টেন্ডার আমাদের ওয়েবসাইটে আছে।

প্রশ্ন: বিপিএলের নিলামের প্রথম দিন ফ্যাঞ্চাইজ়ি টেবিলে দেখা গিয়েছিল, অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য সুরজিৎ লাহিড়িকে। এটা তো লোঢ়া আইনের বিরোধী?

সৌরভ: দিল্লি ক্যাপিটালসের অন্যতম মালিক জেএসডব্লিউ স্পোর্টসের ক্রিকেট ডিরেক্টর এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টোয়েন্টি লিগের দল প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের প্রধান কোচ হওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে স্বার্থের সঙ্ঘাতের অভিযোগ জমা পড়েছিল। বোর্ডের এথিক্স অফিসার সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। আমারটা স্বার্থের সংঘাত না হলে ওঁর ক্ষেত্রে কী করে হবে?

প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সিএবি সভাপতি হয়েও আপনি চারটি ক্লাব শিবপুর, এরিয়ান, বড়িশা এবং আইবিএসি-র কোনও না কোনও পদে আছেন।

সৌরভ: কেন থাকতে পারি না? স্পোর্টস বিলে তো এ রকম কিছু বলা নেই।

প্রশ্ন: ইডেনের সংস্কারের কাজ কবে শুরু হবে? পরিকল্পনা কী? কত আসন হবে?

সৌরভ: আর্মির লিজ়ের মেয়াদ এখনও বাড়েনি। যে কোনও দিন হয়ে যাবে। তার পরেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। আসন বেড়ে ৮৫ হাজার হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন