সকালের কিছু লক্ষণই ইঙ্গিত দিতে পারে সমস্যা কিডনিতে। ছবি:সংগৃহীত।
ঘুম ভাঙতেই শুরু হচ্ছে কোমরে ব্যথা? একটু বেশি ফুলে থাকছে মুখ-চোখ! বমি ভাবও দেখা দিচ্ছে? ভাবছেন এ আর এমন কী! হয়তো শোয়ার ভুলে কোমরে ব্যথা। আর কখনও বদহজম হলে সকালে পেট ভার লাগতেই পারে, বমিও পেতে পারে।
কিন্তু আপাত অর্থে অতি সাধারণ এই উপসর্গই হতে পারে কিডনির সমস্যার ইঙ্গিতবাহী। রক্তের যত দূষিত, অপ্রয়োজনীয় পদার্থ তা থেকে রেচন পক্রিয়ায় মূত্র উৎপাদন করে কিডনি। সেই মূত্রের সাহায্যেই শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বেরিয়ে যায়। তবে যদি কিডনি তার কাজটি ঠিক ভাবে না করে, তা হলেই বিগড়ে যেতে পারে শরীর। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিডনির সমস্যা হলেও চট করে তা বোঝা যায় না। কখনও চোখে পড়ার মতো উপসর্গ থাকে না। আবার কখনও কিছু উপসর্গ সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান কেউ কেউ। আর তাতেই হয় বিপদ। কিডনি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেরে ওঠার সম্ভবনা কমে। কিডনি বিকল হলে, তা বদল করা ছাড়া উপায় থাকে না।
সকালের কোন ৫ লক্ষণ দেখলে কিডনি নিয়ে সতর্ক হবেন
মুখ-চোখ ফুলে যাওয়া: ঘুম থেকে উঠলে মুখ একটু ফোলা দেখায়, খানিক পরে ঠিকও হয়ে যায়। তবে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে এলে শরীরে সোডিয়াম এবং জল জমতে থাকে। শরীরের মধ্যস্থ তরল কলাকোষের মধ্যে জমে যায়। ফলে মুখ, শরীর ফোলা দেখায়। যদি প্রতি দিনই খেয়াল করেন মুখ, হাত-পা ফোলা, তা হলে অবশ্যই সতর্ক হওয়া দরকার।
বমি ভাব: সকালে উঠে বমি ভাবের কারণ যেমন বদহজম হতে পারে, তেমনই হতে পারে কিডনির সমস্যাও। কিডনি বিকল হলে শরীরে জমতে পারে ইউরিয়ার মতো ক্ষতিকর উপাদান।
প্রস্রাব: সকালে প্রস্রাব করলে যদি ফেনা হয়, রং বদল হয় বা গন্ধ অস্বাভাবিক মনে হয়, তবে নজর রাখা দরকার। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত, হলুদ রং সবই অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত। জন্ডিস হলে, বিলিরুবিন বাড়লে প্রস্রাব হলুদ হয়। প্রস্রাব করার সময় জ্বালা করলে নেপথ্যে থাকতে পারে মূত্রনালির সংক্রমণ। চিকিৎসকদের মতে, প্রস্রাবের সঙ্গে অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ হল কিডনির সমস্যা। শরীরের প্রধান ‘ছাঁকনি’ কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে মূত্রের অ্যালবুমিন মিশে যায়। বেশি করে জল খাওয়ার পরেও এমনটা হতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
কোমরে ব্যথা: কোমরে ব্যথার নেপথ্যেও যে কিডনির সমস্যা থাকতে পারে, প্রাথমিক ভাবে প্রায় কারও মাথাতেই আসবে না। কিন্তু যদি কোমরের নিম্নাংশে ব্যথা হয়, কিডনি যে অংশে থাকে পেটের একাংশ থেকে কোমর পর্যন্ত ব্যথা হয়, তা স্থায়ী হয়, তবে সাবধান হওয়া প্রয়োজন। কিডনিতে পাথর হলেও এই ধরনের ব্যথা হতে পারে।
ত্বক রুক্ষ হয়ে যাওয়া এবং চুলকানি: ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, চুলকানি হতে পারে কিডনির সমস্যা হলেও। কিডনির কাজ শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়া। কিডনি ঠিক ভাবে কাজ না করলে এমন সমস্যাও দেখা দিতে পারে।