অর্ধশতরানের পর অভিষেক পোড়েল। ছবি: পিটিআই।
ঘরের মাঠে রাজস্থানকে হারিয়ে আইপিএলে ভেসে থাকল দিল্লি। রবিবার অক্ষর পটেলের দল জিতল ৫ উইকেটে। এক সময় মনে হচ্ছিল, শুরুটা ভাল করেও হেরে যাবে দিল্লি। কিন্তু ওপেনিংয়ে অভিষেক পোড়েল ও কেএল রাহুলের অর্ধশতরান এবং মিডল অর্ডারে অক্ষর পটেলের ইনিংস জিতিয়ে দিল দিল্লিকে। আইপিএলে টিকে থাকল তারা। ১৩ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট হল দিল্লি। কেকেআরকে টপকে গেল তারা। ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানেই থাকল রাজস্থান।
টসে হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমেছিল রাজস্থান। দ্বিতীয় ওভারেই তারা হারায় যশস্বী জয়সওয়ালকে (১২)। সেখান থেকে দলের হাল ধরে বৈভব সূর্যবংশী এবং ধ্রুব জুরেল। দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ রান যোগ করে তারা। বৈভবই বেশি আগ্রাসী ছিল। পাঁচটি চার এবং তিনটি ছক্কার সাহায্যে তার অবদান ২১ বলে ৪৬। অল্পের জন্য আরও একটি অর্ধশতরান হাতছাড়া হয় তার।
চারে নেমে রান রেটের গতি আরও বাড়িয়ে দেন রিয়ান পরাগ। চলতি মরসুমে তাঁর ফর্ম নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। রিয়ানের আগ্রাসন দেখে মনে হচ্ছিল, সব সমালোচনা মাঠের বাইরে পাঠাতে এসেছেন। দিল্লির কোনও বোলারকে রেয়াত করছিলেন না তিনি। পাল্লা দিয়ে রান করছিলেন জুরেলও। তৃতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি হয়। তার মধ্যে একাই ৫১ রান করেন রিয়ান। তিনটি চার এবং পাঁচটি ছয় মারেন তিনি।
রিয়ান ফিরতেই রাজস্থানের ব্যাটিংয়ে ধস নামে। ডোনোভান ফেরেরা (০), রবি সিংহ (৪), শুভম দুবে (৫), দাসুন শনাকা (১০) রান পাননি। চালাতে গিয়ে ফিরে যান জুরেলও (৫৩)। যে দলের স্কোর ছিল ১৬১/২, তারাই দ্রুত ছ’টি উইকেট হারায়। ফলে রানও ২০০ পেরোয়নি।
দিল্লিকে দেখে মনে হয়েছে তারা অন্য পিচে ব্যাট করতে নেমেছে। এত দিন ওপেনার হিসাবে রাহুলের পাশে খেলানো হচ্ছিল পাথুম নিসঙ্ককে। এ দিন তুলে আনা হয় চন্দননগরের অভিষেক পোড়েলকে। ওপেন করতে নেমে আস্থার দাম দিলেন পোড়েল। চলতি আইপিএলে সুযোগই দেওয়া হচ্ছিল না তাঁকে। প্রথম বার একটু বেশি বল খেলার সুযোগ পেয়ে তা হাতছাড়া করেননি অভিষেক। রাজস্থানের বোলারদের উপরে শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকেন দিল্লির ওপেনারেরা।
লক্ষ্য বেশি ছিল না। ওভারে ১০-এর বেশি গতিতে রান তুলতে থাকেন দুই ওপেনার। ৩১ বলে ৫১ রান করে ফেরেন অভিষেক। মেরেছেন সাতটি চার এবং একটি ছয়।
তিনে দিল্লি নামায় সাহিল পরখকে (৯)। তিনিও সাফল্য পাননি। তবে অভিষেক আউট হওয়ার পরেই দিল্লির রানের গতি অনেকটা কমে যায়। একটা সময় পাঁচ ওভারে মাত্র ৩০ রান ওঠে। ব্যর্থ হন ট্রিস্টান স্টাবস (৪) এবং ডেভিড মিলারও (৯)। শেষের দিকে চালিয়ে খেলেন আশুতোষ শর্মা (অপরাজিত ১৮)। তাঁর সঙ্গে সঙ্গত দেন অক্ষর (অপরাজিত ৩৪)।