আইপিএল ট্রফি। —ফাইল চিত্র।
দলের ব্যর্থতার দায় নিয়ে লখনউ সুপার জায়ান্টসের নেতৃত্বে ইস্তফা দিয়েছেন ঋষভ পন্থ। আইপিএলের আরও চার অধিনায়ককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। যাঁদের নেতৃত্ব বা ক্রিকেটার হিসাবে পারফরম্যান্সে খুশি নন দলগুলির কর্তৃপক্ষ।
হার্দিক পাণ্ড্য
নেতৃত্ব হারানোর ক্ষেত্রে প্রথমেই শোনা যাচ্ছে হার্দিকের নাম। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স কর্তৃপক্ষ তাঁকে বাদ দিয়ে আগামী মরসুমের পরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছেন। হার্দিকের সঙ্গে মুম্বই কর্তৃপক্ষের দূরত্ব নিয়ে জল্পনা শুরু হয় কিছু দিন আগে থেকেই। হার্দিকের নেতৃত্ব দেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও আপত্তি রয়েছে কর্তাদের। একটি বিষয় নিশ্চিত, হার্দিক দলে থাকলেও অধিনায়ক থাকবেন না। সাজঘরেও হার্দিক যথেষ্ট জনপ্রিয় নন। ২০২৪ সালে হার্দিকের নেতৃত্বে ১০ নম্বরে শেষ করেছিল মুম্বই। এ বার নেট রান রেট ভাল থাকার সুবাদে ন’নম্বরে শেষ করেছে। গত মরসুমে অবশ্য দল প্লে-অফে পৌঁছেছিল। সব মিলিয়ে আগামী বছর হার্দিককে আর মুম্বইয়ের অধিনায়ক হিসাবে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
রুতুরাজ গায়কোয়াড়
অধিনায়ক রুতুরাজের উপর আর ভরসা রাখতে পারছেন না চেন্নাই সুপার কিংস কর্তৃপক্ষও। দলের ধারাবাহিকতার অভাব। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা রয়েছে। ব্যাটার রুতুরাজও তেমন রান পাননি আইপিএলে। গোটা প্রতিযোগিতায় ৩৩৭ রান করেছেন। পাওয়ার প্লেতেও তাঁর স্ট্রাইক রেট প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর উপর চাপ বাড়িয়েছে দলে সঞ্জু স্যামসনের উপস্থিতি। আইপিএলের নিলামের আগে তাঁকে ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দলে নেন চেন্নাই কর্তৃপক্ষ। নেতৃত্ব দেওয়ার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগামী মরসুমে রুতুরাজকে সম্ভবত চেন্নাইয়ের অধিনায়ক হিসাবে দেখা যাবে না।
অক্ষর পটেল
দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার অক্ষরের নেতৃত্ব নিয়ে খুশি নন দিল্লি ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ। টানা দু’বছর দিল্লিকে নেতৃত্ব দিলেও এক বারও প্লে-অফে তুলতে পারেননি। ক্রিকেটার হিসাবেও তাঁর পারফরম্যান্স উল্লেখ করার মতো নয়। আইপিএলে অক্ষর করেছেন ১৭৩ রান। উইকেট নিয়েছেন ১১টি। তাঁর দল পরিচালনা নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে। সব মিলিয়ে খুশি নন দিল্লির কর্তারা। আগামী মরসুমে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হতে পারে লোকেশ রাহুলের হাতে।
অজিঙ্ক রাহানে
আগামী আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়ক হিসাবে সম্ভবত দেখা যাবে না রাহানেকেও। তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে প্রতি ম্যাচেই। বোলিং পরিবর্তন, বোলারদের ব্যবহার করা, ফিল্ডিং সাজানো— কিছুই ঠিক মতো করতে পারেননি রাহানে। প্রতিযোগিতার শেষ পর্যন্ত ঠিকঠাক প্রথম একাদশ বেছে নিতে পারেননি। দলে একাধিক তরুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার থাকলেও তাঁদের খেলানোর কথা ভাবেননি। রমনদীপ সিংহ, বৈভব অরোরারা ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যর্থ হলেও তাঁদের খেলিয়ে গিয়েছেন। নিজে প্রত্যাশা মতো রান করতে পারেননি। ১৪টি ম্যাচে করেছেন ৩৩৫ রান। কেকেআরকে অন্তত ৩০ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন অধিনায়কদের মধ্যে রাহানের সাফল্যের হার সবচেয়ে খারাপ। কেকেআর কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্বে রাখার কথা ভাবছেন না।