Mustafizur Rahman Controversy

বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে রাখা যাবে না! শাহরুখ খানের কেকেআরকে নির্দেশ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের

বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমান খেলতে পারবেন না আইপিএলে। কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে বিসিসিআই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৬
picture of cricket

(বাঁ দিকে) মুস্তাফিজুর রহমান এবং শাহরুখ খান (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজুর রহমান খেলতে পারবেন না আইপিএলে। কলকাতা নাইট রাইডার্স কর্তৃপক্ষকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। পরিবর্তে অন্য কোনও ক্রিকেটারকে সই করানোর সুযোগ পাবেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের কথা জানিয়েছেন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ শইকীয়া।

Advertisement

ভারত-বাংলাদেশ বর্তমান টানাপোড়েনের প্রভাব আইপিএলে? আগামী আইপিএলে বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসাবে খেলার কথা ছিল মুস্তাফিজুরের। নিলামে তাঁকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন কেকেআর কর্তৃপক্ষ। আইপিএলের অন্যতম সফল বোলার মুস্তাফিজুর। বাংলাদেশের বাঁহাতি জোরে বোলার ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারেন। সে কথা মাথায় রেখেই দলের বোলিং শক্তিশালী করার জন্য মুস্তাফিজুরকে দলে নেন বেঙ্কি মাইসোরেরা। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশের পর তাঁকে খেলাতে পারবে না শাহরুখ খানের দল। পরিবর্তে অবশ্য অন্য কাউকে সই করানোর সুযোগ থাকছে কেকেআর কর্তৃপক্ষের কাছে। বিদেশি ক্রিকেটারও নিতে পারবে কেকেআর। শইকীয়া বলেছেন, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে বিসিসিআই আইপিএলের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি কেকেআরকে একটি নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেকেআর পরিবর্ত ক্রিকেটার নিতে চেয়ে আবেদন করলে বোর্ড তাদের অনুমতি দেবে।’’

২০০৮ সালে মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক নেই বললেই চলে। ২০০৯ সাল থেকেই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জন্য আইপিএলের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে বিসিসিআই। গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রেও কি একই অবস্থান নিল বিসিসিআই? মুস্তাফিজুরকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের মনে। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক না দীর্ঘমেয়াদি তা অবশ্য এখনই বলা সম্ভব নয়।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে বেশ কিছু দিন ধরে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও কিছুটা শিথিলতা এসেছে। সম্প্রতি নোয়াখালিতে দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা করে জ্বালিয়ে দেওয়ার পর ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সোচ্চার হয়েছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি-সহ বেশ কিছু দল। দীপু দাসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকারও। তার পর থেকে আইপিএলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারের থাকা নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। বিজেপি, শিবসেনার মতো দল সরাসরি সুর চড়ায় বিসিসিআই এবং কেকেআর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। নিশানা করা হয় কেকেআর কর্ণধার শাহরুখকেও। কংগ্রেস নেতাদের একাংশও মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। মুখ খোলেন কয়েক জন ধর্মীয় গুরুও। কেকেআরকে বয়কট করার দাবিও ওঠে কিছু মহল থেকে। সব মিলিয়ে ক্রমশ চাপ বাড়তে থাকে বোর্ড এবং কেকেআর কর্তাদের উপর।

বিতর্ক এবং চাপের মুখে শুক্রবার প্রথম প্রতিক্রিয়া দেয় বিসিসিআই। বোর্ডের এক কর্তা সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের হাতে নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা আইপিএল খেলতে পারবেন না, এমন কোনও নির্দেশ কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের দেয়নি। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।’’ অথচ শনিবার সকালেই বিসিসিআই মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে দিল। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী আইপিএলে পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশের কোনও ক্রিকেটারকেও দেখা যাবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন