আইপিএল ট্রফি। —ফাইল চিত্র।
আইপিএলে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাইছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ক্রিকেটারদের ঘিরে থাকা ইউটিউবার, নেট প্রভাবীদের ভিড় ভাল ভাবে নিচ্ছেন না বোর্ড কর্তারা। কয়েক জন ক্রিকেটারও সমাজমাধ্যমে বেশ সক্রিয়। কিছু প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যেও ভিডিয়ো বা রিল তৈরির প্রবণতা রয়েছে। এ সব বন্ধ করতে চাইছে বিসিসিআই।
আইপিএলের সময় কিছু ক্রিকেটার দলের হোটেলেই বান্ধবী বা প্রেমিকাদের নিয়ে থাকছেন। কয়েক দিন আগেই এ ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিসিসিআইয়ের এক কর্তা। এ সব বন্ধ করার জন্য কড়া পদক্ষেপ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। এ বার সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো এবং রিল তৈরি নিয়েও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড।
ক্রিকেটার, কর্তা, ক্রিকেটারদের পরিবারের সদস্য এবং সম্প্রচারকারী সংস্থার কর্মীদের উপর নজরদাড়ি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভারাভাষ্যকার হিসাবে আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে বিসিসিআই। তাঁরা ক্রিকেটার এবং ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় ভিডিয়ো বা রিল তৈরি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন বলে অভিযোগ। যা আইপিএলের নিয়ম বিরুদ্ধ। কর্মীদের নিয়মের ব্যাপারে সতর্ক করার কথা সম্প্রচারকারী সংস্থাকে আইপিএল শুরুর আগেই জানিয়েছিল বোর্ড। তাই সংস্থার নজরদারি নিয়েও অসন্তুষ্ট কর্তারা।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘কয়েক জন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় আমরা খুশি নই। তাঁরা নিয়ম ভেঙেছেন। এক প্রাক্তন ক্রিকেটারকে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময় ডাগআউটের কাছেও ভিডিয়ো করতে দেখা গিয়েছে! বোর্ডের কর্মীরা দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। কেউ কেউ আবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য ভিডিয়ো করছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’ বোর্ডের ওই কর্তা জানিয়েছেন, বিসিসিআই বা আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত কেউ মাঠে এ ভাবে ভিডিয়ো করতে পারবেন না।
ভারতীয় দলের এক ক্রিকেটারকেও সতর্ক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলের নানা মুহূর্তের ভিডিয়ো তৈরি করে সমাজমাধ্যমে প্রায় নিয়মিত পোস্ট করেন। বোর্ড কর্তাদের একাংশ মনে করছেন, তরুণ খেলোয়াড়দের একাংশ ক্রিকেটের চেয়ে ভিডিয়ো বা রিল তৈরিতেই বেশি ব্যস্ত থাকছে। আইপিএলের কয়েকটি দলও নেটপ্রভাবীদের অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দিচ্ছে। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা এবং গড়াপেটার ঝুঁকির পাশাপাশি বিতর্ক এড়াতে রিল সংস্কৃতি যতটা সম্ভব কমাতে চাইছে বিসিসিআই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চান কর্তারা।