Mustafizur Rahman Controversy

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বয়কট আন্দোলন শুরু! নাজমুল অপসারণের দাবিতে অনড়, মাঠেই এলেন না কেউ, পিছিয়ে গেল বিপিএলের টস

দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন নাজিমুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তও তিনি পদত্যাগ না করায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শুরু হল না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৮
cricket

(বাঁ দিকে) তামিম ইকবাল। নাজমুল ইসলাম (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

বুধবার দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্তা এম নাজিমুল ইসলাম। তার প্রতিবাদে বাংলাদেশে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ক্রিকেটারেরা। সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তও সেই নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও শুরু হল না। আরও সমস্যা ঘনাচ্ছে সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডে।

Advertisement

ভারতীয় বোর্ডের একটা নির্দেশ সমস্যায় ফেলে দিয়েছে গোটা বাংলাদেশ ক্রিকেটকেই। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার দাবিতে অনড় বাংলাদেশ কর্তারা। তাঁদের নিজেদের দেশের ক্রিকেটারেরাই এখন বিদ্রোহ শুরু করেছেন।

ক্রিকেটারেরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকবেন বুঝে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০.৫০ নাগাদ বিসিবি একটি বিবৃতি দেয়। সেখানে তারা আবার জানায়, এক ব্যক্তির মন্তব্যের কারণে ক্রিকেটারেরা যে ক্ষুব্ধ সেটা তারা বুঝতে পারছে। কঠোর হাতে এবং নিয়ম মেনে এই ধরনের ঘটনা সামলানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। নাজমুলের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে, সে কথাও বলা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অনুরোধ করা হয়, দেশের গৌরবের কথা ভেবে তাঁরা যেন বিপিএলের ম্যাচ খেলেন। কিছু ক্ষণ পরেই নাজমুলকে কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠায় বিসিবি।

তাতেও মন গলেনি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। এ দিন সকালে নোয়াখালি এক্সপ্রেস বা চট্টগ্রাম রয়্যালস, দুই দলের ক্রিকেটারেরাই স্টেডিয়ামের উদ্দেশে রওনা দেননি। হোটেলেই ছিলেন। ফলে স্থানীয় সময় দুপুর ১২.৩০ নাগাদ টস হয়নি। ম্যাচের সময়ও পিছিয়ে যায়। এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও স্টেডিয়ামে যাননি ক্রিকেটারেরা। চট্টগ্রাম-নোয়াখালি ম্যাচের রেফারি শিপরার আহমেদ ‘ক্রিকইনফো’কে বলেন, “আমরা মাঠের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি। জানি না কী হচ্ছে। বিপিএলের টেকনিক্যাল কমিটি বলতে পারবে।”

বুধবার গভীর রাতেই ঢাকা ক্রিকেট লিগের সব ম্যাচ স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কোনও ম্যাচই হয়নি। এ দিন দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকের কথা রয়েছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মহম্মদ মিঠুনের। তার পরেই বিপিএলের ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের বিসিবি ক্ষতিপূরণ দেবে কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে বুধবার নাজমুল বলেন, ‘‘ওরা গিয়ে কিছুই করতে পারে না। তা-ও আমরা ওদের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করি। আমরা কি ওদের কাছে টাকা ফেরত চাই?’’ এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘‘বোর্ডই যদি না থাকে, তা হলে ক্রিকেট বা ক্রিকেটারেরা থাকবে কী করে?’’ তাঁর এই মন্তব্য আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে লিটন দাসদের সম্পর্কে নাজমুলের এমন মন্তব্য ভাল ভাবে নেয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটমহল।

তাঁর এই বক্তব্য জানাজানি হওয়ার পরই মুখ খোলেন মিঠুন। কোয়াব সভাপতি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, নাজমুলের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, ‘‘সকলেই জানেন কিছু দিন ধরে কী চলছে। প্রথমে একজনকে নিয়ে, এখন সব ক্রিকেটারকে নিয়ে যে ভাবে কথা বলা হচ্ছে, যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সব আশা করা যায় না। ভাষা সম্পর্কে একজন পরিচালকের সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য গোটা ক্রিকেটমহলকে কষ্ট দিয়েছে।’’ এর পর হুঁশিয়ারির সুরে মিঠুন বলেন, ‘‘আমাদের সব ক্রিকেটারকে নিয়ে উনি যে ভাবে কথা বলছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়। উনি বৃহস্পতিবার ম্যাচের আগে পদত্যাগ না করলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করব।’’

Advertisement
আরও পড়ুন