চেন্নাই সুপার কিংস দল। —ফাইল চিত্র।
লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রবিবার ঘরের মাঠে খেলা চেন্নাই সুপার কিংসের। রুতুরাজ গায়কোয়াড়দের কাছে এই ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ২২ গজের লড়াইয়ের থেকেও অন্য একটি বিষয় নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন চেন্নাই কর্তৃপক্ষ। নির্বিঘ্নে ম্যাচ শেষ করতে সমর্থক, দর্শকদের বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা চলছে। নানা জল্পনা এবং নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর অবশেষে রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন সি জোসেফ বিজয়। এই পরিস্থিতিতে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কায় রয়েছেন চেন্নাই কর্তারা। কারণ সিএসকে সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য-সমর্থক থাকা অস্বাভাবিক নয়।
সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে চেন্নাই কর্তৃপক্ষ সমাজমাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন সমর্থকদের। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘আসুন আমাদের সঙ্গে ক্রিকেট এবং খেলোয়াড়ি মানসিকতা উপভোগ করুন। আমাদের সম্মানীয় সমর্থকদের বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করা হচ্ছে, সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যানার, পতাকা বা হোর্ডিং আনবেন না। স্টেডিয়ামে আসুন শুধু ক্রিকেট উপভোগ করতে।’’
জোসেফের দল টিভিকে এ বার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তবে একক সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা ছুঁতে পারেনি। তাই সর্বোচ্চ আসন পেলেও তাঁর সরকার গঠনে বাধা ছিল। গত পাঁচ দিনে চার বার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজয়। যা নিয়ে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বেড়েছে।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জিতেছে। তার মধ্যে বিজয় নিজে দু’টি আসন থেকে লড়েছিলেন। ফলে তাঁকে একটি আসন এমনিই ছেড়ে দিতে হবে। তাই আরও অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থীর সমর্থন দরকার ছিল বিজয়ের। পাঁচ দিনে যা জোগাড় করতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে। বার বার তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকর।শেষ পর্যন্ত একে একে কংগ্রেস, সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ সমর্থন করায় টিভিকে-র সমর্থনে চলে আসেন ১২০ জন বিধায়ক। তার ভিত্তিতেই রবিবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথগ্রহণ করেছেন বিজয়।