সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া। —ফাইল চিত্র।
বঙ্গ ক্রিকেটে বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের পালা চলছেই। এ বার রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবির প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন এরিয়ান ক্লাবের সচিব সমর পাল।
সিএবির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও সচিব সমর সরাসরি চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। সেখানে অভিষেকের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তদ্বির করে অভিষেক তাঁকে টপকে সিএবির সভাপতি হয়েছিলেন।
সমরের অভিযোগ, ‘‘২০১৯ সালের অক্টোবরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয়ে যাওয়ার পর সিএবির সভাপতির পদটি ফাঁকা হয়েছিল। আমি ২০১৭ সালে সিএবি-র সহ-সভাপতি হই এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই পদে বহাল ছিলাম। সেই হিসেবে সভাপতি হওয়ার যোগ্য ও আইনত দাবিদার আমিই ছিলাম। আমার উপর সদস্যদের পূর্ণ সমর্থনও ছিল। তা সত্ত্বেও, অভিষেক তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) সঙ্গে দেখা করে নিজের সভাপতি হওয়া নিশ্চিত করেছিলেন।’’
সমরের দাবি, অভিষেক সভাপতি হওয়ার আগে সিএবির সচিবও হয়েছিলেন নাকি মমতাকে ধরে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘‘২০১৫ সালে জগমোহন ডালমিয়া প্রয়াত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর পুত্র অভিষেক মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন যাতে সিএবিতে কোনও পদ পান। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জগমোহন ডালমিয়ার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে অভিষেককে সিএবির সচিব পদে বসিয়ে দিয়েছিলেন। অথচ অভিষেক তার আগে কোনও কমিটির সদস্য ছিলেন না এবং অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজও করেননি। তখন সিএবির বহু সদস্য, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে সংস্থার সেবা করে গিয়েছেন, তাঁরা বঞ্চিত হন।’’
সিএবির ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকারের সবচেয়ে বেশি সুবিধা নাকি অভিষেক পেয়েছেন বলে চিঠিতে দাবি করেছেন সমর। তিনি লিখেছেন, ‘‘২০১৫ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকে অভিষেক টানা সাত বছর সিএবির ক্ষমতায় থেকেছেন। চার বছর সচিব এবং তিন বছর সভাপতি ছিলেন। এই সময়ের মধ্যে আর কেউ এত দীর্ঘ সময়ের জন্য ক্ষমতা ভোগ করেননি। পূর্ববর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিলেন অভিষেক।’’
ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁকে যে চিঠি অভিষেক দিয়েছিলেন, তার উল্লেখ করে সমর মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, ‘‘আমি দেখেছি অভিষেক ক্রীড়ামন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন এবং ময়দানে তথাকথিত বেআইনি কাজকর্ম নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। এই অভিযোগগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন ও ধোঁয়াশাপূর্ণ। এখানে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগের উল্লেখ নেই। লোধা কমিটির নিয়মের ফলে এই সংস্থায় এখন অভিষেকের কোনও পদ নেই। তাই অভিযোগগুলো তোলার জন্য তিনি এই সুযোগটিকে ব্যবহার করেছেন।’’
সরকার বদলে যাওয়ার সুযোগও নাকি অভিষেক কাজে লাগিয়েছেন বলে মনে করছেন সমর। তিনি লিখেছেন, ‘‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিষেক সিএবিকে নিশানা করছেন। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য বর্তমান সরকারকে অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত করে তোলা।’’
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সমরের অনুরোধ, অভিষেকের করা অভিযোগগুলো নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে যেন সঠিক তদন্ত হয়।