Old Building

বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত

বুধবার রাধানগর পাড়ার একটি প্রাচীন বাড়ির ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। দু’জন আহত হন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৩১

—প্রতীকী চিত্র।

গত কয়েক বছরে বর্ধমান শহরের পুরনো এলাকায় পর পর বেশ কয়েকটি শতাব্দী প্রাচীন বাড়ির অংশ ভেঙে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। জখমও হয়েছেন অনেকে। ফের বুধবার রাধানগর পাড়ার একটি প্রাচীন বাড়ির ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে। দু’জন আহত হন। অবশেষে নড়েচড়ে বসে বর্ধমান পুরসভা। শহরের সমস্ত বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করে মালিকদের নোটিস পাঠানো এবং বিপজ্জনক অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

বর্ধমান শহরে গত কয়েক বছরে হোমিয়োপ্যাথি কলেজ, মহন্তস্থল, রাজবাড়ির দুর্গামন্দির, বড়বাজার, খোসবাগান, শাঁখারিপুকুর-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় পুরনো বাড়ির একটা অংশ ভেঙে পড়েছে। এই বাড়িগুলি দীর্ঘ দিন ধরেই ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে। অথচ পুরসভা বাড়ির বিপজ্জনক অংশ ভাঙতে বলা তো দূরের কথা, একটি বাড়ির গায়েও ‘বিপজ্জনক’ নোটিস টাঙায়নি। বুধবার বর্ধমানের প্রাক্তন পুরপ্রধান নলিনাক্ষ বসুর স্মৃতিবিজড়িত ব্রিটিশ আমলের ‘লাল বাড়ি’র একটা অংশ ভেঙে পড়ে। তাতেই দু’জন জখম হন। এর পরেই পুরসভা ‘বিপজ্জনক’ বাড়ির খোঁজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। বৃহস্পতিবার বর্ধমান উত্তর মহকুমাশাসক দফতর ওই বাড়ির মালিকের নামে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে। তবে বাড়ির মালিক শিশিরকুমার সামন্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

প্রতি দিন বর্ধমান শহরে বিপজ্জনক বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। কোনও কোনও বাড়িতে মানুষ বাস না করলেও, অনেক বিপজ্জনক বাড়িতেই লোকজন থাকেন। দুর্যোগের সময় এই বাড়িগুলির কোনও ভাবে ভাঙলে জখম হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। তবে পুর কর্তাদের দাবি, যে সব বিপজ্জনক বাড়িতে কেউ থাকেন না, নজরদারির অভাবে সেগুলিও ক্রমশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে সেগুলিও পুরসভার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরপ্রধান পরেশ সরকার বলেন, “আমাদের শহরে প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘রোড সরকার’ রয়েছে। তাঁদেরই ওয়ার্ড ঘুরে বাড়িগুলি শনাক্ত করে সোমবারের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা আইনগত দিক দেখে নোটিসের বয়ান তৈরি করে রাখছি। রিপোর্ট আসা মাত্র নোটিস দেওয়া শুরু হবে।”

আরও পড়ুন